হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ শরীফের ঐতিহাসিক ডেগ সিলগালা এবং মাজারের দানের টাকা প্রকাশ্যে গণনার বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।
সাম্প্রতিক প্রশাসনিক পদক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এভাবে হয়তো আরও একবার টাকা গণনা করা যেতে পারে। কিন্তু এটি কোনো নির্দিষ্ট বা স্থায়ী প্রক্রিয়া হতে পারে না। এটি আমরাও চাই না।
গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে কয়েস লোদী বলেন, শত শত বছরের ঐতিহ্যবাহী শাহজালাল (রহ.) দরগাহ শরীফের নিজস্ব ভাবগাম্ভীর্য, ধর্মীয় মর্যাদা এবং পরিচালনার একটি স্বতন্ত্র ধারা রয়েছে। তাঁর মতে, ডেগ সিলগালা করা এবং জনসম্মুখে দানের টাকা গণনার মতো কার্যক্রম দরগাহর দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি আরও বলেন, আপনি ডেগ সিলগালা করে দিচ্ছেন, প্রকাশ্যে মাজারের টাকা গণনা করছেন—এসব দরগাহ শরীফের দীর্ঘদিনের সম্মানের সঙ্গে খাপ খায় না। সাময়িকভাবে এভাবে আরও একবার টাকা গণনা করা সম্ভব হলেও এটি কোনো স্থায়ী বা গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়া হতে পারে না।
কয়েস লোদীর মতে, মাজারের দান-অনুদান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দরগাহর ধর্মীয় মর্যাদা, ঐতিহ্য ও পবিত্রতা সমানভাবে রক্ষা করা প্রয়োজন। এ জন্য তিনি প্রশাসন ও মাজার পরিচালনা-সংশ্লিষ্টদের একটি স্থায়ী, নিয়মতান্ত্রিক এবং সম্মানজনক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও আলোচনা চলছে। অনেকের মতে, মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি দরগাহর ঐতিহ্য, পবিত্রতা ও ধর্মীয় পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখাও সমান জরুরি।
তবে এ বিষয়ে দরগাহ কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেদিকেই এখন সংশ্লিষ্টদের নজর।




















