সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের সাথে কর্তব্যরত নার্স, আয়া এবং ওয়ার্ড বয়দের দুর্ব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগ যেন নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের নার্সদের আচরণ নিয়ে নতুন করে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে সচেতন মহলে।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে কর্তব্যরত কিছু নার্স রোগীদের সাথে আসা স্বজনদের সাথে চরম অবমাননাকর আচরণ করছেন। ভিডিওতে দেখা যায়, এক নার্স সেবার মানসিকতা ভুলে সাধারণ মানুষের সাথে তুচ্ছতাচ্ছিল্য ও ধমকের সুরে কথা বলছেন।
হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে ফেরা একাধিক রোগীর স্বজন অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালে ডাক্তার থেকে শুরু করে নার্স ও ওয়ার্ড বয়দের অনেকের ব্যবহার এতটাই খারাপ যে মনে হয় তারা কোনো দয়া করছেন। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে যেখানে রোগীদের সহানুভূতি দেওয়া হয়, সেখানে এখানে মানুষ পদে পদে হেনস্থার শিকার হচ্ছে। চিকিৎসক বা সেবিকা হওয়ার আগে তাদের মানবিক আচরণ শেখা উচিত।
এদিকে হাসপাতালের আয়া ও ওয়ার্ড বয়দের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা শক্তিশালী ‘বকশিশ সিন্ডিকেট’ নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ চরমে। ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকারি বেতন পাওয়ার পরও রোগীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে দৈনিক ১ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছে এই চক্র।
অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালে হুইলচেয়ার বা ট্রলি পাওয়া, বমি পরিষ্কার করা কিংবা প্রস্রাবের থলি পরিবর্তনের মতো সাধারণ কাজের জন্যও টাকা দিতে বাধ্য করা হয়। যারা টাকা দিতে পারেন, তারা দ্রুত সেবা পান; আর টাকা না দিলে গরিব ও অসহায় রোগীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবহেলার শিকার হতে হয়। হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কোনো কথা বলতে গেলে উল্টো কর্মচারীদের ধমক শুনতে হয় বলে জানান রোগীরা।
সিলেটের সর্ববৃহৎ এই চিকিৎসালয়ে কিছুদিন পর পরই ইন্টার্ন ডাক্তার, নার্স কিংবা কর্মচারীদের কর্মবিরতি ও আন্দোলনের ঘটনা ঘটে। হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ নানা সংকটের কারণে সাধারণ চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হওয়া এখন নিয়মিত চিত্র। সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, প্রশাসনের সঠিক তদারকি ও জবাবদিহিতা না থাকায় কিছু অসাধু কর্মচারীর জন্য পুরো হাসপাতালের সুনাম নষ্ট হচ্ছে।
সিলেটের এই প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্রের সেবার মান ফেরাতে এবং নার্স-কর্মচারীদের দুর্ব্যবহার বন্ধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সিলেটের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী মহোদয় এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সাধারণ মানুষ। একই সাথে হাসপাতালে একটি ডিজিটাল কমপ্লেন বক্স স্থাপন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে সাময়িক বদলি নয়, বরং স্থায়ী বহিষ্কারের মতো কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
স্টাফ রিপোর্টার



















