ফলোআপ

সম্পদের উৎস, পুরোনো বিতর্ক ও নতুন প্রশ্ন: সিসিকের সহকারী প্রকৌশলী এনামুল হক তপাদারকে ঘিরে তদন্তের দাবি জোরালো

  • প্রকাশের সময় : ০১/০৭/২০২৬ ১০:১০:৫১ PM

Share
10

সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) সহকারী প্রকৌশলী এনামুল হক তপাদারকে ঘিরে আবারও শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। অতীতে সরকারি সম্পদ গায়েবের ঘটনায় নাম আলোচনায় আসা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এবার আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও স্থানীয় বিভিন্ন মহলে নতুন করে সামনে এসেছে। ফলে তার সম্পদের উৎস ও দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন দিক নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।


স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, সরকারি চাকরির বেতন-ভাতার তুলনায় এনামুল হক তপাদারের বর্তমান জীবনযাত্রা ও সম্পদের পরিমাণ নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নগরীর সুবিদবাজার এলাকায় তার দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া তিনি একটি হাইএস (Hiace) ছাড়াও একাধিক গাড়ির মালিক বলেও দাবি করা হচ্ছে। তবে এসব সম্পদের বৈধ উৎস সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি ব্যাখ্যা বা তদন্তের তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।এদিকে, ২০২২ সালে সিসিকের বহুল আলোচিত পানির ফ্লু মিটার গায়েবের ঘটনাও আবার সামনে এসেছে। সে সময় কুশিঘাট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে সংরক্ষিত প্রায় ২৮ লাখ টাকা মূল্যের ৫৩৫টি নতুন পানির ফ্লু মিটার থেকে প্রয়োজনের সময় ৫০টি মিটার উত্তোলন করতে গিয়ে দেখা যায়, গোডাউনে একটি মিটারও নেই। ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।ওই ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে আট কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং তিন কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়। শোকজপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে সহকারী প্রকৌশলী এনামুল হক তপাদারও ছিলেন। পরে তৎকালীন মেয়রের নির্দেশে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং পানি শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী শাহপরাণ (রহ.) থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেন।তবে অভিযোগ রয়েছে, সরকারি সম্পদ গায়েবের মতো গুরুতর ঘটনায় নিম্নপদস্থ কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো কঠোর প্রশাসনিক বা আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে তদন্তের অগ্রগতি ও প্রকৃত দায়ীদের বিষয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে।স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অতীতের অভিযোগ এবং বর্তমান সম্পদ নিয়ে ওঠা প্রশ্ন—দুই বিষয়ই গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাদের মতে, কোনো কর্মকর্তা যদি বৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জন করে থাকেন, তাহলে তদন্তের মাধ্যমে সেটিও পরিষ্কার হওয়া উচিত। অন্যদিকে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।


এ বিষয়ে এনামুল হক তপাদারের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও  পাওয়া যায়নি। এদিকে বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা বিষয়টি তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই হলে জনমনের বিভ্রান্তি দূর হবে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিও নিশ্চিত হবে।


সিলেট প্রেস / এফ কে


কমেন্ট বক্স
নিজস্ব প্রতিবেদক:

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রকাশ: ২০২৬-০৭-০১ ২২:১০:৫১