সিলেটে বিদেশে পাঠানোর নামে কোটি টাকা আত্মসাৎ, ভূয়া ডিজিএফআই নাহিদুজ্জামান রানা কারাগারে

  • প্রকাশের সময় : ১১/০৭/২০২৬ ০৬:২৯:২৩ PM

Share
8

সিলেটে নিজেকে ডিজিএফআই-এর ভুয়া মেজর পরিচয় দিয়ে এবং কানাডা, ইউকে, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের ওয়ার্ক পারমিট,  স্টুডেন্ট ভিসা, ভিজিট ভিসা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। 


এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বাদী হয়ে সিলেট অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন (কোতোয়ালী সি আর মামলা নং- ১৩২৯/২৫)।


আদালত সূত্র ও মামলার আরজি থেকে জানা যায়, মামলার বাদী মাছুম আহমদ, যিনি সিলেট শহরের ‘ফেইথ এসোসিয়েটস’ নামক একটি স্টুডেন্ট ও ভিজিট ভিসা প্রসেসিং প্রতিষ্ঠানের মালিক।


মামলার আসামিরা হলেন— গোপালগঞ্জ উপজেলার নজির হোসেনের ছেলে মো: নাহিদুজ্জামান রানা (৩০), মো: নাহিদুজ্জামান রানার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা স্মৃতি (২৮), ঠাকুরগাঁও এর মো: আব্দুস সালামের ছেলে মো: আবু সায়েম (২৫), মোহাম্মদ নিয়াজ উদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে মোহাম্মদ আব্দুস সালাম (৬৫), মোহাম্মদ আব্দুস সালামের স্ত্রী মোছা: সালমা বেগম (৫৫)। আসামিরা সম্পর্কে একে অপরের আত্মীয় (স্বামী, স্ত্রী, শ্যালক, শ্বশুর ও শাশুড়ি)।


তার মধ্যে ১নং আসামি ভূয়া মেজর পরিচয়ধানকারী মো: নাহিদুজ্জামান রানা কারাগারে ও তার স্ত্রী ২নং আসামি আয়েশা সিদ্দিকা স্মৃতি জামিনে মুক্ত আছেন। বাকী আসামিরা পলাতক।


মামলার বিবরণীতে জানা যায়, ১নং আসামি মো: নাহিদুজ্জামান রানা নিজেকে ডিজিএফআই-এর একজন ‘মেজর’ পরিচয় দিয়ে বাদীর পাশের ফ্ল্যাটে (গার্ডেন টাওয়ার, শাহজালাল উপশহর) সপরিবারে বাসা ভাড়া নেন। প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে বাদীর পরিবারের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং নিজেদের ‘এন আর এসোসিয়েটস’ নামক একটি ভিসা প্রসেসিং প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স দেখান। পরবর্তীতে তারা সম্পূর্ণ গ্যারান্টি সহকারে ৩০ জন লোকের জন্য কানাডা স্কুলিং ভিসা, ইউকে ওয়ার্ক পারমিট, আমেরিকা ওয়ার্ক পারমিট এবং অস্ট্রেলিয়া ভিজিট ভিসা করার চুক্তি করেন এবং প্রতি ফাইলের জন্য অগ্রিম ৩ লক্ষ টাকা দাবি করেন।


বাদীর সরলতার সুযোগ নিয়ে আসামিরা বিগত ১৪/০৩/২০২৪ ইংরেজি তারিখ হইতে ০৬/০১/২০২৫ ইংরেজি তারিখের মধ্যে দি সিটি ব্যাংক লি:, ইস্টার্ন ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক এবং নগদসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সর্বমোট ৯৮ লক্ষ ৩৫ হাজার (৯৮,৩৫,০০০/-) টাকা আত্মসাৎ করেন।


টাকা নেওয়ার পর আসামিরা কোনো প্রকার ভিসা সংক্রান্ত কাগজপত্র না দিয়ে সময় ক্ষ্যাপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে ১নং আসামি সিলেট থেকে বদলি হয়েছেন মর্মে ঢাকার বারিধারায় বাসা নিয়ে চলে যান এবং সিলেটের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসা বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে বাদী টাকা ফেরত চাইলে আসামিরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং সর্বশেষ গত ২০/০৮/২০২৫ ইং তারিখে যোগাযোগ করা হলে তারা বাদীকে প্রাণনাশের ও গুম করার হুমকি প্রদান করেন।


আইনি প্রতিকার না পেয়ে এবং আসামিদের দ্বারা প্রতারিত হয়ে অবশেষে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী গত ০৬/১০/২০২৫ ইং তারিখে বিজ্ঞ আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছিলেন পিবিআই-কে। পিবিআই ঘটনার সত্যতা পেয়ে আদালতে রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর বিজ্ঞ আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।


সিলেট প্রেস / aa


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৬-০৭-১১ ১৮:২৯:২৩