ভোলার লালমোহনে কলেজছাত্র ইব্রাহিম খলিল নয়ন (১৮) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে নানা তথ্য সামনে আসছে। নয়ন ও আশরাফের বন্ধুদের দাবি, এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্যের পাশাপাশি প্রেমঘটিত বিরোধও রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দশম শ্রেণির ছাত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের জেরে আহত আশরাফ ও অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মানিকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে তাদের মধ্যে একাধিকবার মারামারি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার দিন আশরাফের মোবাইলে থাকা ওই ছাত্রীর একটি ছবি মুছে ফেলাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, ওই স্কুলছাত্রীর সঙ্গে মানিকের দীর্ঘদিনের আদান-প্রদানের সম্পর্ক ছিল। পরে নয়ন প্রাইভেট পড়ানোর সুবাদে ওই ছাত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়েন বলে দাবি করা হচ্ছে। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
এছাড়া স্থানীয়দের দাবি, আশরাফ মোবাইলে এবং সরাসরি মানিককে বিভিন্ন সময় হুমকি দিতেন। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই মানিক সবসময় নিজের সঙ্গে একটি ছুরি রাখতেন বলে দাবি করা হয়। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিহতের পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন নয়নকে বাসা থেকে ডেকে নেন আশরাফ। পরে তারা একসঙ্গে স্কুলের সামনে যান এবং পরীক্ষা শেষে বের হওয়া মানিকের জন্য অপেক্ষা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী খাদিজা বেগমের দাবি, মানিক পরীক্ষা দিয়ে বের হলে নয়ন তাকে ডেকে বালুর মাঠ এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে প্রথমে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মানিককে থাপ্পড় মারা হলে তিনি সঙ্গে থাকা ছুরি বের করে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে শুরু করেন। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন নয়ন। হামলায় আশরাফ ও আরমান গুরুতর আহত হন।
হামলার পর অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মানিক চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘আমি স্বাধীন! আজ দেশও স্বাধীন।’ পরে তিনি অটোরিকশায় করে নিজেই লালমোহন থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। তিনি লালমোহন ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ফুলবাগিচা এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় আব্দুল ওহাব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
ফুলবাগিচা এলাকার বাসিন্দা সোহাগের অভিযোগ, মানিক ঢাকার একটি কিশোর গ্যাংয়ের অন্যতম সদস্য। তার বাবা ছেলেকে অপরাধী চক্র থেকে ফিরিয়ে আনতে নিজ এলাকায় এনে বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই চেষ্টা সফল হয়নি।
এদিকে ওই স্কুলছাত্রীর বাবা বলেন, আমার মেয়ে খুবই ছোট, তেমন চালাক-চতুরও না। তবে এতটুকু বলতে পারি, আশরাফ শিক্ষক হিসেবে আমার মেয়েকে কেউ বিরক্ত করলে মাঝে মাঝে নিজ দায়িত্বে বিষয়গুলো দেখতেন। আশরাফ কিংবা মানিক কারও সঙ্গে আমার মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল না।
তবে মানিক কিংবা আশরাফ ওই শিক্ষার্থীকে পছন্দ করতেন কি না—এমন প্রশ্নেরও কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেনি পরিবার।
লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.অলিউল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে পূর্ববিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পরপরই প্রধান অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মানিককে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




















