সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে একটি বিদ্যালয়ে পরীক্ষা চলাকালে প্রধান শিক্ষকের মদ্যপান ও মাতলামির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনকে শোকজ করেছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের নুকালী বহুপার্শ্বিক উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
ভাইরাল হওয়া ৪ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন নিজ কক্ষে বসে মদ্যপ অবস্থায় অসংলগ্ন আচরণ করছেন। এ সময় বিদ্যালয়ে এইচএসসির ফাইনাল পরীক্ষা চলছিল। খবর পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক সেখানে গেলে তিনি তাদের সামনে আপত্তিকর ভাষায় কথা বলেন।
রুহুল আমিন বলেন, ‘মদ আমি দীর্ঘদিন ধরেই খাই। কোনো [অপ্রকাশযোগ্য শব্দ] হয়তো আপনাদের খবর দিছে। আপনাদের কাছে মাফও চাই, দোয়াও চাই, আপনারা বসেন।’
তিনি আরও বলেন, আমি নিজে দৌলতদিয়ায় (যৌনপল্লী) যাই। আপনাদের সবাইকে দৌলতদিয়ায় নিয়ে যেতে চাই। এজন্য দেড় লাখ টাকা বাজেট করব। কে কে যেতে রাজী আছেন বলেন। এরপর তিনি সাংবাদিককে জড়িয়ে ধরে সবকিছু ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টাও করেন। পরে তার স্বজনরা এসে তাকে সেখান থেকে বাড়িতে নিয়ে যান।
ঘটনাটি অন্যান্য শিক্ষক-অভিভাবক দাঁড়িয়ে দেখলেও তারা রুহুল আমিনকে নিবৃত করার চেষ্টা করেননি।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক অভিভাবক বলেন, রুহুল আমিন স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি। বিদ্যালয়ের পাশেই তাদের বাড়ি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিদ্যালয়ের কক্ষে বসে মদ পান, চিৎকার-চেঁচামেচি ও মাতলামি করে আসছেন। তার প্রভাবের কারণে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পান না।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন কর্মকাণ্ড অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং এর যথাযথ শাস্তি হওয়া উচিত।
এ ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী ওই প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবি করেছেন।
শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন বলেন, মানসিক অশান্তির কারণে মদ খেয়েছিলাম। তখন মাথা ঠিক ছিল না। মদ্যপ অবস্থায় কী বলেছি বা কী করেছি, তা মনে নেই। তবে মদ্যপ অবস্থায় স্কুলে যাওয়া ঠিক হয়নি। এটি আমার অন্যায় হয়েছে।
শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা শারমিন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নুকালী বহুপার্শ্বিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনের মদ্যপ অবস্থার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। এরপর ভারপ্রাপ্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম শেখ তাকে শোকজ করেন।
তিনি আরও বলেন, আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাকে শোকজ নোটিশের লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে।




















