নেপথ্যে যুবলীগ নেতা ‘টাকলা জুনেদ’ ও রেজাউল সিন্ডিকেট

সিলেটে ‘শিলং তীর’ ও অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ বিস্তার

  • প্রকাশের সময় : ০৪/০৭/২০২৬ ১২:৪৫:২৫ PM

Share
16

সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন জুয়া এবং ভারতীয় ‘শিলং তীর’ নামক মারাত্মক জুয়ার আসর দিন দিন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।


বিশেষ করে নগরীর পাঠানটুলা শ্রাবণী এলাকা, নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকা, মদিনা মার্কেট পাম্পের গলি এবং আক্তার টাওয়ারের পাশের গলিতে প্রতিদিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সী যুবক ও শ্রমজীবী মানুষের উপচে পড়া সমাগম দেখা যাচ্ছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও স্মার্টফোন ব্যবহারের মাধ্যমে এক প্রভাবশালী চক্র পুরো নগরীতে এই মরণনেশার নেটওয়ার্ক বিস্তার করেছে।


এলাকাবাসীর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, এই জুয়া সিন্ডিকেটের মূলহোতা মদিনা মার্কেট ফেরদৌসী রোড আবাসিক এলাকার আব্দুর রহীমের ছেলে রেজাউল। এই রেজাউল আগে যুবলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল এবং এর আগেও ‘শিলং তীর’-এর বোর্ড পরিচালনার অপরাধে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল। তবে জামিনে এসে সে পুনরায় আরও বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে।


এই চক্রের অন্যতম প্রধান সহযোগী হিসেবে মাঠ পর্যায়ে জুয়ার আসর ও অর্থ লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করছে সিলেট মহানগর ৮নং ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জুনেদ ওরফে ‘টাকলা জুনেদ’। এছাড়া এই সিন্ডিকেটের অন্যতম খুঁটি হিসেবে কাজ করছে হিদন মিয়া ওরফে ‘শিলং হিদন’, জুবেল আহমদ ওরফে ‘বাট্টি জুবেল’ এবং রনি নামের কয়েকজন ব্যক্তি। রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙিয়ে এই চক্রটি সম্পূর্ণ নির্বিঘ্নে তাদের অপরাধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।


অনলাইন ও দূরবর্তী এই জুয়ার ফাঁদে পড়ে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হারাচ্ছেন স্থানীয় নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজ। জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ সামাজিক অবক্ষয় ও পারিবারিক অশান্তি চরম আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ থাকলেও এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এখনো দৃশ্যমান ও কার্যকর কোনো আইনি পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। সচেতন মহল অনতিবিলম্বে এই চক্রের মূলহোতাসহ সকল এজেন্টদের গ্রেপ্তার এবং নগরীর সামাজিক পরিবেশ রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


এদিকে দেশে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে জুয়ার অর্থ লেনদেন রোধে যুগোপযোগী ও কঠোর ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ কার্যকর করেছে সরকার। প্রায় ১৫৯ বছরের পুরোনো ‘পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭’ রহিত করে গত বুধবার (১ জুলাই ২০২৬) রাষ্ট্রপতির সম্মতিক্রমে এই নতুন আইনের গেজেট প্রকাশ করা হয়।


নতুন এই আইনে অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল অপরাধের পরিধি কঠোরভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে-


৭ বছরের জেল ও ৫ কোটি টাকা জরিমানা: ভিপিএন (VPN), প্রক্সি সাইট, ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ভুয়া এমএফএস (বিকাশ/নগদ ইত্যাদি) অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে জুয়া খেললে বা জুয়ার নেটওয়ার্ক পরিচালনা করলে সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড এবং ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।


সংঘবদ্ধ অপরাধে ১০ বছরের শাস্তি: যদি এই অপরাধ সংঘবদ্ধভাবে কিংবা অর্থপাচারের (মানি লন্ডারিং) উদ্দেশ্যে করা হয়, তবে শাস্তি বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫ কোটি টাকা জরিমানা করা হবে।


প্রচারণা ও ফিক্সিংয়ে সাজা: জুয়ার প্রচারণায় অংশ নিলে (বিজ্ঞাপন, ইনফ্লুয়েন্সার বা সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে) ৩ বছরের জেল এবং ম্যাচ বা স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য ৫ থেকে ৭ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।


সম্পদ বাজেয়াপ্তের ক্ষমতা: নতুন আইনে অপরাধে ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, মোবাইল, কম্পিউটার এমনকি জুয়ার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত ভবন বা অফিসও আদালতের আদেশে বাজেয়াপ্ত করার স্পষ্ট আইনগত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।


সিলেটের সচেতন মহলের প্রত্যাশা, এই নতুন ও কঠোর আইনের সফল প্রয়োগের মাধ্যমে মদিনা মার্কেট ও পাঠানটুলা এলাকার জুয়া সিন্ডিকেটের হোতা রেজাউল, টাকলা জুনেদ, হিদন ও জুবেলসহ পুরো চক্রটিকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টামূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে এবং সিলেট মহানগরীকে সম্পূর্ণ জুয়ামুক্ত করা হবে।


সিলেট প্রেস / aa


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৬-০৭-০৪ ১২:৪৫:২৫