বানিয়াচংয়ে রত্না নদীতে বাঁধ নির্মাণ করে পানির প্রবাহ আটকে দিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে। উপজেলার ১০ নম্বর সুবিদপুর ইউনিয়নের ভাটিপাড়ার কোল ঘেঁষে বয়ে যাওয়া নদীর অংশে অবৈধভাবে বাঁধ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, স্থানীয়দের নৌ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন সেখানে লিজগ্রহীতা মৎস্যজীবী রণজিত দাস নামের এক ব্যক্তি। বিধান অনুসারে, প্রবহমান কোনো জলাশয়ে কোনো ধরনের বাঁধ, স্থায়ী অবকাঠামো বা অন্য কোনোভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না। জলাশয়ে পানির প্রবাহ ও মাছের চলাচল বাঁধ দিয়ে বা অন্য কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত করলে শাস্তির বিধান থাকলেও এ ব্যাপারে প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, রত্না নদীর পূর্ব ও পশ্চিম পাড়কে সংযুক্ত করে বাঁশ ও জালের বাঁধ দিয়ে নদীর গতিপ্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় জনসাধারণের নৌ চলাচল বন্ধ করে
লোন জাল দিয়ে মাছ আহরণ করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন নদীপথে কৃষিপণ্য পরিবহনে সমস্যা হচ্ছে, অন্যদিকে লোন জাল ব্যবহার করায় মাছের প্রজনন ধ্বংস হচ্ছে।
বানিয়াচং উপজেলার বানিয়াচং-হবিগঞ্জ মহাসড়কের পাশে রত্না নদীর বেশ কয়েকটি স্থানে আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে এভাবেই মাছ ধরা চলছে। স্থানীয় জেলে সুবোধ দাস জানান, আগে তারা নদীতে নেমে মাছ ধরতে পারতেন। তবে এভাবে বাঁধ দেওয়ায় এখন আর কেউ নদীতে নামতে পারে না। কোনো নৌকাও চলাচল করতে দেয় না বাঁধ মালিকরা। কৃষ্ণ দাস, হরিপদ দাসসহ অনেক জেলেই রত্না নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ আহরণ করার কারণে ক্ষোভ জানিয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, এই নদী যারা লিজ নিয়েছেন, তারা খুবই প্রভাশালী। তাই তাদের শত নিষেধের পরও কোনো কাজ হচ্ছে না।
এ বিষয়ে জানতে রণজিত দাসের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, মন্ত্রণালয় থেকে তাঁরা পাঁচজন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির মাধ্যমে ছয় বছরের জন্য নদীর এই অংশ লিজ নিয়েছেন। নদীর
পানির গতিপ্রবাহ ও নৌ চলাচল বন্ধ করে বাঁধ দেওয়া সঠিক কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, নদীতে বাঁশ ও পাটির বাঁধ দিয়ে প্রতিবছর এভাবেই মাছ আহরণ করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে ১০ নম্বর সুবিদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জয়কুমার দাশের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকারের বিষয়ে জানতে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, রত্না নদী ও কালিদাশটেকার সুটকি নদীতে বাঁশ ও পাটির মাধ্যমে বাঁধ দিয়ে মাছ ধরতে দেখেছেন। বিষয়টি নিয়ে ইউএনওর সঙ্গে পরামর্শ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বানিয়াচংয়ের ইউএনও মাহবুবুর রহমান জানান, এখনও এ বিষয়ে তিনি অবগত নন। মৎস্য কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্ত করে সঠিক তথ্য পাওয়া গেলে মৎস্যজীবীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




















