সিলেট মহানগরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি আব্দুল মতিনকে ঘিরে নতুন করে নানা অভিযোগ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যুবলীগের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন এবং বর্তমানে সরকার পরিবর্তনের পরও তার প্রভাব কমেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নগরীর ছড়ারপাড় এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মতিন। তিনি সুগন্ধা ৪৫ নং বাসার ১৪ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সোনা মিয়ার ছেলে। আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ১৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন আব্দুল মতিন। বর্তমানে নিরবে এলাকায় আওয়ামী লীগকে সক্রিয় করার জন্য করছেন মিটিং-বৈঠক।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন আব্দুল মতিন। একই সঙ্গে সুদের ব্যবসাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেও তিনি প্রভাবশালী অবস্থান গড়ে তোলেন।
এলাকার কয়েকজন বিএনপি নেতা অভিযোগ করেন, অতীতে আব্দুল মতিনের দায়ের করা মামলায় বিএনপির বহু নেতাকর্মী হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং কারাবরণও করছেন।
তাদের ভাষ্য, সে সময় রাজনৈতিক কারণে বিরোধী মতাদর্শের মানুষকে বিভিন্নভাবে কোণঠাসা করে রেখেছিলেন যুবলীগ নেতা আব্দুল মতিন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সংঘটিত হামলার ঘটনায় আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালী থানাসহ বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ ও মামলার পরও তাকে গ্রেপ্তার না করায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, বর্তমানে সিলেট মহানগর বিএনপির ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মুনিমের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে আব্দুল মতিন এলাকায় পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।
তাদের অভিযোগ, এই রাজনৈতিক ছত্রছায়ার কারণে তিনি আগের মতোই প্রভাব খাটাচ্ছেন এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। লালদিঘিরপাড় এলাকায় সুদের ব্যবসাসহ বিভিন্ন অবৈধ কার্যক্রম এখনও চালিয়ে যাচ্ছেন আব্দুল মতিন। সুদের অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ ব্যক্তিদের ওপর চাপ ও হয়রানির অভিযোগও তুলেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।
স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে আব্দুল মতিনকে চলমান মামলাগুলো থেকে রেহাই দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল মতিন অস্বীকার করে জানান, তিনি বিএনপির লোক। তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। তার বিরুদ্ধে যে সকল মামলা আছে, সেগুলো তাঁর নেতা কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মুনিম দেখভাল করছেন।
বিষয়টি জানতে সিলেট মহানগর বিএনপির ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মুনিমের মুঠোফোনে কল করে তিনি রিসিভ না করে কেটে দেন।
স্টাফ রিপোর্টার



















