বিশ্বনাথে আছকির-আজবর’র বিরোদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের বিচার দাবি

  • প্রকাশের সময় : ২০/০৬/২০২৬ ০৫:৪৬:১৯ PM

প্রতিনিধি

Share
13

বিশ্বনাথে সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসায় পাঠানোর কথা বলে অর্থ আত্মসাৎ ও মানবপাচারের অভিযোগে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা। শনিবার (২০ জুন) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উত্তর দশপাইকা গ্রামের আজিম খান (২৩) লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথপুর উপজেলার লহরী গ্রামের ভুক্তভোগী কাউসারের পিতা আইন উদ্দিন (৭৫), লহরী নোয়াগাঁও গ্রামের আব্দুল জলিল (৬০), লহরী গ্রামের মোস্তাব আলী (৩৫), বালাগঞ্জ উপজেলার রিফাতপুর গ্রামের ভুক্তভোগীর চাচা রিয়াজ উদ্দিন (৫২), মজলিশপুর গ্রামের সবুজ মিয়া (২৫), ওসমানীনগর উপজেলার খয়েরপুর গ্রামের মো. সেবুল মিয়া (৪৫), তাজপুর গ্রামের শাহান আলী (২৪), বিশ্বনাথ উপজেলার পশ্চিম নোয়াগাঁও গ্রামের জিল্লুর রহমান (৩৭), জগদ্বীশপুর গ্রামের আল আমিন (৩০) এবং দশঘর নোয়াগাঁও গ্রামের জুনাব আলী (৪৫)।

লিখিত বক্তব্যে আজিম খান অভিযোগ করেন, বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর নোয়াগাঁও পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা আজবর আলী (৪৬), তার সৌদি প্রবাসী ভাই আছকির আলী (৫৫), রাজনা বেগম (৩৫), আছিয়া বেগম (৪৫) ও ফাহাদ আলী (২৫) সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসায় পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকের আরটিজিএস ও নগদে মোট ৫ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। কিন্তু প্রতিশ্রুত ড্রাইভিং ভিসার পরিবর্তে তিন মাস মেয়াদি অন্য একটি ভিসার পিডিএফ কপি দিয়ে মেডিকেল, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও প্রশিক্ষণের নামে সম্পূর্ণ টাকা আদায় করা হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রাক্কালে তাকে সৌদি আরব পাঠানোর কথা বলে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত জিনিসপত্র, সৌদি ৫০০ রিয়াল এবং বাংলাদেশি ৬-৭ হাজার টাকা রেখে দিয়ে বিভিন্ন হুমকি দিয়ে বের করে দেওয়া হয়।

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ হলে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার আরও ভুক্তভোগীরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একপর্যায়ে প্রায় ২০ জন ভুক্তভোগী একত্রিত হয়ে গত ৮ মার্চ দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন খানের কাছে পাসপোর্ট ও টাকা ফেরতের দাবিতে বিচার প্রার্থনা করেন। চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে ১৫ এপ্রিল, ৩ মে ও ৯ জুন তিন দফা নোটিশ দেওয়া হলেও অভিযুক্তরা উপস্থিত না হওয়ায় ভুক্তভোগীদের আদালতের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

পরে তারা বৈদেশিক কর্মসংস্থান আইনে মাননীয় সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালত, সিলেটে বিশ্বনাথ সি.আর. মামলা নং-২৪৯/২০২৬ দায়ের করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা মানবপাচারকারী চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ এবং সাধারণ মানুষকে এ ধরনের প্রতারণার হাত থেকে রক্ষায় সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।

এব্যাপারে দশঘর ইউনয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমাদ খানের সাথে আলাপ কালে তিনি জানান, অভিযুক্তদের কোন সাড়া না পেয়ে আদালতের স্বরনাপন্ন হওয়ার জন্যে তিনি প্রত্যয়ন দিয়েছেন।  

এ ব্যাপারে অভিযুক্তদের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


সিলেট প্রেস / আর ইউ


কমেন্ট বক্স
মো: রোহেল উদ্দিন, বিশ্বনাথ

মো: রোহেল উদ্দিন, বিশ্বনাথ

প্রকাশ: ২০২৬-০৬-২০ ১৭:৪৬:১৯