ব্যস্ত হাতে চলছে লেপ তোশকে ফোঁড় তোলা

  • প্রকাশের সময় : ১১/১২/২০২৩ ১২:৩৭:৩৪ PM

ছবি- সংগৃহীত

Share
73

ভোরের কুয়াশা আর শিশির জমা ঘাসের ডগা জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। এরই মধ্যে প্রান্তিক অঞ্চলের বাসিন্দাদের গায়ে হিমেল হাওয়ার ঝাপ্টা লাগছে সকাল-সন্ধ্যা।

শীত মৌসুম সামনে রেখে ব্যস্ততা বাড়তে শুরু করেছে বানিয়াচংয়ের স্থানীয় বাজারগুলোতে থাকা লেপ-তোশকের দোকানে। খোলা জায়গাজুড়ে নানা ধরনের তুলা রোদে দেওয়া আর জট ছাড়ানোর ধুম পড়েছে আরও আগেই। লেপ-তোশক তৈরির কারিগরদের পাশাপাশি এসব মৌসুমি পণ্যের ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততাও বেড়ে গেছে। ব্যস্ত হাতে তৈরি করে দোকানগুলোতে সাজানো হচ্ছে নতুন লেপ আর তোশক। তবে উপজেলা সদরসহ এখানকার বিভিন্ন গ্রামে শীত বেশি হওয়ার আশঙ্কায় সেই ব্যস্ততা একটু বেশি। 

স্থানীয় বাজারের বিভিন্ন দোকানের মালিক ও বানিয়াদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অধিক মুনাফা ও বেশি বিক্রির আশায় দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন কারিগর ও ব্যবসায়ীরা। ক্রেতারাও লেপ-তোশক তৈরির জন্য ভিড় করছেন। শীত যত এগিয়ে আসছে, কাজ তত বাড়ছে। তবে তাতে আপত্তি নেই কারিগরদের। কারণ এই এক মৌসুমের উপার্জনই বছরজুড়ে তাদের সংসার চালানোর মূল পুঁজি। এদিকে দোকানগুলোতে গ্রাহকের চাপ বাড়তে থাকায় ব্যবসায়ীরাও পণ্যের মজুত বাড়াতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। এবার তুলার দাম একটু বেশি হওয়ায় লেপ-তোশক বানাতে খরচ বেড়েছে। বানিয়াচং এলাকার দোকানগুলোতে কালার তুলা প্রতি কেজি ৪০ টাকা, মিশালি তুলা ৩০, সিম্পল তুলা ৮০, শিমুল তুলা ২৯০ আর সাদা তুলা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন একজন কারিগর ৬ থেকে ৮টি লেপ তৈরি করেন। মাঝারি ধরনের একটি লেপ বানাতে খরচ হয় দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। তোশক বানাতে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা খরচ হয়। তবে তুলার প্রকারভেদে লেপ-তোশকের দাম কম-বেশি হয়। জিনিসপত্রের দাম বাড়তে থাকায় এবার কারিগরদের মজুরির চাহিদাও একটু বেশি। 

লেপ তৈরি করতে আসা উপজেলার চমকপুর গ্রামের গ্রাহক রুহুল আমিন, কাগাপাশা গ্রামের কৃষ্ণ সাহা ও মুরাদপুর গ্রামের সারোয়ার জানান, শীতের কারণে লেপ-তোশকের কারিগররা খুব ব্যস্ত। বেশি বেশি লেপ-তোশক তৈরি করছেন সাধারণ মানুষ। এ কারণে প্রকারভেদে লেপ-তোশকের দামও কম-বেশি হচ্ছে। 

লেপ-তোশক তৈরির কারিগর হাবিব, ফরিদুল, ফারুক হোসেন ও সায়মান হোসেন জানান, প্রতি বছর শীতের শুরু থেকে ক্রেতারা লেপ-তোশকের দোকানে আসতে থাকেন। শীতের মাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতাদের ভিড়ও বাড়তে থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটছে না। 

এই কারিগররা জানান, সারা বছর তেমন একটা ব্যবসা থাকে না তাদের। পুরো বছরের ব্যবসা শীতের এই দু-তিন মাসে করতে হয়। শীতের সময় ছাড়া বিয়ে-শাদিতে লেপ-তোশক বিক্রি হয়। সেটা খুবই অল্প। তাই মৌসুমে কাজের চাপ বেশি থাকলেও তা সামাল দিয়ে নিজেদের উপার্জন যতটা সম্ভব বাড়িয়ে নিতে চাচ্ছেন তারা। প্রকারভেদে লেপ-তোশক তৈরিতে এবার মজুরি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। আগের তুলনায় ব্যবসায় প্রতিযোগিতা অনেক বেড়ে গেছে। তাই সামান্য লাভেই ক্রেতাসাধারণের কাজ করে দিতে হয়।


সিলেট প্রেস / ১১ ডিসেম্বর ২০২৩/ এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৩-১২-১১ ১২:৩৭:৩৪