নবীগঞ্জ উপজেলার রুদ্রগ্রাম-নবীগঞ্জ সড়কটি মাত্র তিন বছর আগে সংস্কার করা হলেও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে সড়কটি। সড়কের অন্তত ৮ কিলোমিটার অংশের বেহাল দশা। বড় গর্ত ও খানাখন্দ তৈরি হওয়ায় যানবাহনের চালক, যাত্রী ও পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
জানা গেছে, ২০২০ সালে ওই সড়কটি ৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়। সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করে হবিগঞ্জের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হাসান বিল্ডার্স। অভিযোগ রয়েছে, নিম্নমানের মালপত্র দিয়ে সংস্কার কাজ করায় মাসখানেক পরেই সড়কের বিটুমিন উঠে গিয়ে খানাখন্দ তৈরি হয়।
সরেজমিন দেখা যায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আইনগাঁও থেকে নবীগঞ্জ শহরের একমাত্র বাইপাস সড়ক এটি। উপজেলার পানিউমদা, গজনাইপুর, দেবপাড়া ও বাউসা ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াত এই সড়ক দিয়ে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন এই সড়কে চলাচল করে। এ ছাড়া শাহ তাজউদ্দিন কুরেশী (রহ.) উচ্চ বিদ্যালয়, ধুলচাতল তাজিয়া মোবাশবীরিয়া আলিম মাদ্রাসা, দিনারপুর কলেজ, দিনারপুর উচ্চ বিদ্যালয়, দিনারপুর দাখিল মাদ্রাসা, পানিউমদা রাগীব-রাবেয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-শিক্ষক, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন এ সড়কে যাতায়াত করে থাকেন। অধিকাংশ স্থানেই সড়কের কার্পেটিং উঠে গেছে। বিশেষ করে আইনগাঁও, ভরপুর, চৌধুরীবাজার, বাউসাবাজার, নাদামপুর মাদ্রাসা পয়েন্ট, রিফাতপুর, শিবপাশায় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, সড়কের বেহাল দশার কারণে যানবাহন আগের চেয়ে কমে গেছে। এতে যানবাহনের ওপর নির্ভরশীল কলেজ, স্কুল ও মাদ্রাসাপড়ুয়া শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বাশডর গ্রামের মুসা তালুকদার বলেন, যানবাহনে নবীগঞ্জ-রুদ্রগ্রাম সড়ক দিয়ে শহরে যাতায়াত করলে সবসময় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় থাকতে হয়। একবার নবীগঞ্জ শহরে যাতায়াত করলে বাড়িতে এতে শরীর ব্যথার ওষুধ খেতে হয়। সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান তিনি।
সিএনজিচালিত অটোরিক্সার চালক হাবিব মিয়ার ভাষ্য, সড়কটি পুরোপুরি ভেঙে গেছে। কর্তৃপক্ষ সংস্কার করার উদ্যোগ নিচ্ছে না। ভাঙা সড়ক দিয়ে গাড়ি চালানোর কারণে কয়েকদিন পর পর সিএনজিচালিত অটোরিক্সা নষ্ট হয়ে যায়। গাড়ি মেরামতের কাজ করাতে গিয়ে অনেক টাকা ব্যয় হয়ে যায়। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা হলে যাতায়াতে সময় বাঁচবে, ভোগান্তি কম হবে। এতে যাত্রী ও যানবাহনের চালকরা উপকৃত হবেন।
কলেজশিক্ষক মোশারফ আলী মিঠু জানান, বিভিন্ন কাজে উপজেলা সদরে যেতে হলে নবীগঞ্জ-রুদ্রগ্রাম সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তে পানি জমে। এতে মানুষের খুবই দুর্ভোগ হয়। নিম্নমানের কাজ হওয়ায় সড়কটি টেকসই হয়নি। সংস্কারের মাত্র এক মাস পর বিটুমিন উঠতে শুরু করে। এখন অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়ে সড়কটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
নবীগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের প্রকৌশলী জোনাইদ আলম বলেন, নবীগঞ্জ-রুদ্রগ্রাম সড়ক সংস্কারে ৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প প্রাক্কলন করা হয়েছে। একই মধ্যে প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় অনুমোদনের জন্য জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলে দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কাজ শুরু করা হবে।




















