আবদুল হক মামুন, বানিয়াচং :: আগামী দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন কে সামনে রেখে সর গরম হবিগঞ্জ-২ বানিয়াচং আজমিরীগঞ্জ আসন। বিশাল হাওরপাড় নিয়ে বানিয়াচং আজমিরীগঞ্জ উপজেলা গঠিত। বানিয়াচং- আজমিরিগঞ্জ সংসদীয় আসন ২৪০। এই আসনে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন। বিএনপি বা অন্যান্য রাজনৈতিক দল গুলো নিরবে দলীয় কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।যদিও নির্বাচন নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে সংশয় আছে। বিএনপি ও সমমনা দলের দাবী, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারে অধীনে নির্বাচন হলে তারা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবেন।
আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল বর্তমান দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করবে কি না তা নিয়ে দুটানায় থাকলেও ইতিমধ্যে তাদের সাংগঠনিক অবস্থান শক্তিশালী করছেন বলে একাধিক বিএনপি নেতার সাথে আলাপকালে জানা গেছে।
তবে বানিয়াচং-আজমিরিগঞ্জ আসনের দলীয় মনোনয়ন পেতে আওয়ামিলীগের একাধিক দলীয় প্রার্থী দিনরাত মাঠে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তারা দুই উপজেলায় চষে বেড়াচ্ছেন। ব্যক্তিগত ও দলীয় জনসভা বক্তব্যের মাধ্যমে নিজেদের প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন। দলীয় মনোনয়ন পেতে দীর্ঘদিন যাবত এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, অনেক প্রার্থী গ্রামে-গঞ্জের মানুষের দাড়ে দাড়ে যাচ্ছেন। প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময় অসহার ও দরিদ্র মানুষের পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। সামাজিক আচার অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহন করে নির্বাচনে প্রার্থী হবেন মানুষের দেয়া সমর্থন আদায় করে নিচ্ছেন।
অপরদিকে নতুন প্রার্থীরাও পিছিয়ে নেই, তারাও সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের জড়িয়ে নির্বাচনের প্রার্থী হবেন এমন শুভেচ্ছা ব্যানার পোস্টার সাঁটিয়ে প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন। আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যদি সব দলের অংশ গ্রহন মুলক হয়, তা হলে বানিয়াচং আজমিরিগঞ্জ আসনে নির্বাচন উৎসব মুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
বর্তমান এই আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট আব্দুল মজিদ খান, তিনি একাটানা ৩ বারের এমপি হিসেবে সংসদে আছেন। আগামী নির্বাচনে আবার দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে সচেতন মানুষের ধারণা। অনেকের কাছে তিনি ক্লিন ইমেজের মানুষ হিসেবে পরিচিত। তিনি দলমতের উর্ধ্বে থেকে মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন। উন্নয়নের রূপকার হিসেবে মানুষ কাছে তিনি বেশ সমাদৃত। দুই উপজেলায় নানাবিধ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সমাপ্ত করেছেন। কিছু কাজ এখনও চলমান আছে।
বানিয়াচং আজমিরিগঞ্জ এই আসনটি আওয়ামীলীগের ঘাঁটি হিসেবে ও বেশ পরিচিত। এখানে সংখ্যালঘু ভোটারগণ আওয়ামী লীগের বড় ফ্যাক্টর। আসনটি স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামিলীগের দখলে আছে বলা চলে। মাঝে শুধু মাত্র একবার বিএনপি থেকে মরহুম জনাব আলী এমপি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাই বানিয়াচং আজমিরীগঞ্জ আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। যদিও এই আসনে বিএনপি প্রার্থীদের সাথে অনেকবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইও হওয়ার নজির আছে। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি'র প্রার্থী নুরুল আমিন চৌধুরী সামান্য ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী শিল্পপতি নাজমুল হাসান জাহেদের নিকট হেরে যান। ২০১৮ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা আবদুল বাসিত আজাদ প্রায় ৬০ হাজার ভোট পান। তবে নির্বাচন চলাকালীন সময়ে সারাদেশে বিএনপি ভোট বর্জন করায় তিনিও দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ভোট বর্জন করেন।
আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি যদি অংশ গ্রহন করে তা হলে বানিয়াচং আজমিরীগঞ্জ আসনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে আওয়ামিলীগ ও বিএনপি প্রার্থীদের মাঝে।
এই আসনটি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের দখলে আছে, যদি বিএনপি নির্বাচনে আসে তা হলে আওয়ামী দূর্গে হানা দিবে বিএনপি এমনি প্রত্যাশা তাদের নেতা কর্মীদের।
এই আাসনে টানা তিনবারের এমপি হিসেবে নিজের অবস্থান বেশ শক্তিশালী অবস্থায় তৈরি করে ফেলেছেন তিনি এমপি আবদুল মজিদ খান, দুই উপজেলার মানুষের কাছে খুবই জনপ্রিয় হিসেবে সমাদৃত তিনি।
বিগত দিনে যাতায়াত, রাস্তা ঘাট, বিদ্যুৎ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ মাদ্রাসা ও সামাজিক কাজে যথেষ্ট অবদান আছে বলে সাধারণ মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয় এমপি আবদুল মজিদ খান।
ভোটের মাঠে এমপি মজিদ খানের সাথে বিএনপি বা অন্য রাজনৈতিক দলের বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ণ বা চ্যালেঞ্জিং হবে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। ইদানীং বানিয়াচং আওয়ামিলীগের মধ্যে কিছুটা বিভক্তি লক্ষ করা যাচ্ছে, এক সময় যারা এমপি মজিদ খানের বলয়ে ছিলেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় তুলতেন, উনার পক্ষে সুনামের ফুলঝুরি ঝড়াতেন। এখন সেসব নেতা কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন নেতার গুন বন্ধনায় ব্যস্ত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এক সময় এমপি বলয়ের অনেক নেতাকর্মীদের এখন আর পাশে দেখা যায় না। এসব কর্মীরা প্রায় সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উল্টাপাল্টা পোস্ট লক্ষ করা যাচ্ছে বলে লোক মুখে শোনা যাচ্ছে।
আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যদি বিএনপি নির্বাচনে আসে তা হলে চ্যালেঞ্জিং হবে বলে সাধারণ মানুষের ধারনা। আওয়ামী লীগের এই আসনটি ধরে রাখা কষ্ট সাধ্য হবে বলে রাজনৈতিক অভিজ্ঞ মহল মনে করেন। তবে এমপি মজিদ খান দৃঢ় বিশ্বাসে সামনে দিকে এগিয়ে থেকে উনার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবেন। উনার হাত ধরে বানিয়াচং আজমিরীগঞ্জের আনাচকানাচে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে বলে আওয়ামী লীগের দাবী। বর্তমান সংসদ সদস্য এডভোকেট আব্দুল মজিদ খান আওয়ামিলীগের দলীয় সংসদ সদস্য, তারপর ও দলমত নির্বিশেষে একজন ভাল মানুষ হিসেবে সর্ব মহলে সমাদৃত তিনি।
যদিও ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে বিএনপি সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নানান অভিযোগ আছে! তবে এবার নির্বাচন সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হলে আওয়ামিলীগের প্রার্থী কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
এমপি আবদুল মজিদ খান তিনি ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে পরপর তিন বার দলীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বর্তমানে সংসদে আছেন। তিনি আবারও আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে নেতাকর্মীদের বিশ্বাস। তাই তিনি প্রতিনিয়ত দুই উপজেলার উন্নয়নে বদ্ধপরিকর।
দুই উপজেলার নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, দুই উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ও কম নয়। বানিয়াচং আজমিরিগঞ্জ আসনের ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩ লক্ষাধিক।
বানিয়াচং উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ২০ হাজার ৪২০ জন। পুরুষ ভোটার ১ লক্ষ ৯ হাজার ৬৭৩ জন নারী ভোটার ১ লক্ষ ১০ হাজার ৭৩৭ জন।
আজমিরিগঞ্জ উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ৭০ হাজার ৫৬৬ জন। পুরুষ ভোটার ৩৫ হাজার ৩৯২ জন নারী ভোটার ৩৫ হাজর ১৭৪ জন।
বিগত নির্বাচনে আওয়ামী প্রার্থী একাধিক প্রার্থী থাকলেও এডভোকেট আব্দুল মজিদ খান আওয়ামিলীগের দলীয় নমিনেশন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
আগামী দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে আবারও দলীয় প্রার্থী হবেন এমন ঘোষণা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
বর্তমানে এই আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেতে একাধিক প্রার্থী মাঠে আছেন। ইতিমধ্যে ব্যানার পোস্টারে ছেয়ে গেছে বিভিন্ন এলাকা। বিভিন্ন দিবসে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রার্থীগণ ব্যানার ও পোস্টারে সমাহার লক্ষ করা গেছে। এতে বুঝা যায় আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দলীয় মনোনয়ন পেতে তারা নিজেদের প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন।
তবে বিএনপি সহ অন্যান্য দলের ব্যানার পোস্টার লক্ষ করা যায়নি। বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ গ্রহন করবে কি না তা নিয়ে সংশয় থাকায় প্রকাশ্যে প্রার্থিদের কোন প্রকার প্রচার প্রচারণা লক্ষ করা যায়নি। তবে বিএনপি তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। সাংগঠনিক ভাবে তাদের কাজ গুলো ঘুছিয়ে রাখছেন। গত বছর বানিয়াচং উপজেলা বিএনপির কাউন্সিল মাধ্যমে নতুন কমিটি করা হয়েছে। পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ সাবেক ছাত্র নেতা মুজিবুল হক মারুফ সভাপতি ও বানিয়াচং ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলে রকিব নকিব মাখন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন ।
যদিও বিএনপি বানিয়াচং উপজেলায় অলিখিত ভাবে দুইভাগে বিভক্তের গুঞ্জন শোনা যায়, তবে বিএনপি 'র দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপ কালে তারা জানান, বানিয়াচং বিএনপিতে কোন প্রকার কোন্দল নেই। তারা দাবী করেন বিএনপি বড় রাজনৈতিক দল এখানে নেতার সংখ্যা ও বেশি অনেকের পছন্দের মানুষের থাকাটা স্বাভাবিক! তবে বানিয়াচংয়ে কিছু সংখ্যক নেতা কর্মী আছেন তারা সৌদি আরব বিএনপি সভাপতি আহমেদ মুকিব আবদুল্লার কিছু অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তারা উনার নামে ব্যানার পোস্টার সাঁটিয়ে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করছেন, এমন পোস্টার বিভিন্ন জায়গায় দেখতে পাওয়া যায়।
আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি যদি অংশ গ্রহন করে তা হলে দলীয় প্রার্থী কে সাথে নিয়ে কাজ করবেন বলেও একাধিক নেতা কর্মীদের সাথে আলাপকালে জানা যায়।
জাতীয় পার্টি বানিয়াচং উপজেলায় সাংগঠনিক অবস্থা খুবই নড়বড়ে অবস্থায় আছে। তাদের কে প্রকাশ্যে মিছিল মিটিং করতে খুব একটা দেখা যায় না। ঘরুয়া ভাবে দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। জাতীয় পার্টি পক্ষে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন সেটা এখনও জানা যায় নি। তবে বিগত দশম ও একাদশ জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টির দলীয় মনোনয়ন পেয়ে আসছেন হবিগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিল্পপতি শংকর পাল। তবে তিনি ইদানীং খুবই অসুস্থ অবস্থায় আছেন। তিনি যদি সুস্থ থাকেন তা হলে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন চাইতে পারেন। তার পাশাপাশি জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মঞ্জুরুল হোসেন মঞ্জু এবং জেলা নেতা এডভোকেট সাদিকুর রহমান তালুকদারের নামও শোনা যাচ্ছে।
তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অনেক নতুন মুখ দেখা যাচ্ছে, তারা ব্যানার পোস্টার সাঁটিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে নিজেদের প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন।
হবিগঞ্জ-২ বানিয়াচং আজমিরিগঞ্জ আসনে আওয়ামিলীগের দলীয় মনোনয়ন চাইতে পারেন একাধিক প্রার্থী। তাদের মধ্যে অন্যতম বর্তমান সংসদ সদস্য এডভোকেট আব্দুল মজিদ খান। পাশাপাশি আওয়ামিলীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় আছেন, বানিয়াচং উপজেলা আওয়ামিলীগের সভাপতি প্রবীণ রাজনীতিবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আমীর হোসেন মাস্টার, আওয়ামিলীগের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা উপ কমিটির অন্যতম সদস্য ক্লিন ইমেজ ও পরিচ্ছন রাজনীতিবিধ মিডিয়া ব্যক্তিত্ব সাদিকুর রহমান চৌধুরী পরাগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক আইন বিষয় সম্পাদক ও হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক, সাবেক এমপি মরহুম এডভোকেট শরীফ উদ্দিন আহমদ এর তনয় এডভোকেট ময়েজউদ্দিন শরীফ রুয়েল, রুয়েল তিনি দীর্ঘদিন মাঠে রয়েছেন। তৃনমূলের কাছে তিনিও বেশ জনপ্রিয় নেতা হিসেবে আলোচনায় আছেন। অপরদিকে ইংল্যান্ড প্রবাসী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক মেধাবী ছাত্রনেতা ও পরিচ্ছন্ন ইমেজের রাজনৈতিক ব্যক্তি সাবেক জজ, জাতীয় সংসদের সাবেক ল'অফিসার ব্যারিস্টার এনামুল হক। তিনি দীর্ঘদিন তৃনমূল আওয়ামী লীগের সাথে মাঠে গ্রামেগঞ্জে চষে বেড়িয়েছেন। দলীয় কর্মকান্ডে নিয়মিত উপস্থিত থাকছেন। তিনি যুক্তরাজ্য আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, এছাড়াও তিনি যুক্তরাজ্য আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের উপদেষ্টা হিসেবে আছেন। তার বানিয়াচং উপজেলা আওয়ামী লীগের কাছে একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক হিসেবে যথেষ্ট গ্রহণ যোগ্যতা আছে বলে অনেকেই মনে করেন। আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনিও একজন শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের তালিকায় আছেন বলে তৃনমূলে নেতাকর্মীদের ধারণা।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকায় আরো যারা আছেন, বানিয়াচং উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সভাপতি আবুল কাশেম চৌধুরী, আজমিরীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মরতুজা হাসান, জেলা আওয়ামীলীগের নেতা এডভোকেট চৌধুরী আবু বক্কর সিদ্দিকী, এডভোকেট লুৎফুর রহমান তালুকদার, জেলা কৃষকলীগের সভাপতি হুমায়ুন কবির রেজা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আহাদ মিয়া সহ আরো অনেকেই।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ইংল্যান্ড প্রবাসী ব্যারিস্টার মোস্তাক আহমদ, সাংবাদিক আফসার আহমদ রুপক ও মুহাম্মদ হাসান এর নাম শোনা যাচ্ছে।
অপরদিকে বিএনপি যদি আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহন করে তা হলে দলীয় প্রার্থী হিসেবে সাবেক ছাত্র নেতা ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডাঃ শাখাওয়াত হাসান জীবন এবং সৌদি আরব বিএনপি'র সভাপতি আহমদ মুকিব আবদুল্লা মনোনয়ন চাইতে পারেন।
খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় আমির মাওলানা আবদুল বাসিত আজাদ এবারও তিনি প্রার্থী হতে পারেন। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন।
বানিয়াচং আজমিরীগঞ্জ উপজেলা সরেজমিনে ঘুরে বিভিন্ন এলাকার মানুষের সাথে আলাপকালে জানা যায়, আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তারা ভাল ও যোগ্য প্রার্থী কে বেচে নিবেন। তবে প্রত্যাঞ্চলের মানুষ তাদের রাস্তা ঘাট বিদ্যুৎ পেয়েছেন এই সরকারের আমলে। এতে সাধারণ মানুষের ধারণা আগামী নির্বাচনে এমপি আবদুল মজিদ খান ই আবারও পাশ করতে পারেন।
উপজেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক পিয়ানুর রহমান হাসানের সাথে বানিয়াচং উপজেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে কথা বললে তিনি জানান,
আমাদের বানিয়াচং উপজেলা কমিটি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচন হয়েছে। এখনও পূর্নাঙ্গ কমিটি হয়নি। তবে আমরা নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ আছি। আমাদের নির্বাচনের প্রস্তুতি আছে। দল যাকে দলীয় প্রার্থী করে তাদের সাথে আমরা আছি।
আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী এবং সাংগঠনিক কি অবস্থা সে বিষয়ের মতামত জানতে চাইলে, বানিয়াচং উপজেলা আওয়ামিলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক ছাত্র নেতা শাহজাহান মিয়া জানান, আওয়ামী লীগ বানিয়াচং উপজেলায় সব সময় শক্তিশালী অবস্থানে আছে। আমাদের দলীয় কোন কোন্দল নেই, বানিয়াচং আজমিরিগঞ্জ আসনে দীর্ঘদিনের রীতি নৌকা যার নেতাকর্মী তার। আমরা সবাই নৌকার পক্ষে। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে কে দলীয় প্রার্থী হবেন এবং এই আসনে তো একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। বর্তমান এমপি আবদুল মজিদ খান কি এবারও দলীয় নমিনেশন পাবেন এমন প্রশ্ন করলে তিনি জানান, কেন্দ্র থেকে প্রার্থী নির্বাচন করা হয়। তবে সাধারণ নেতাকর্মীদের ধারণা এবারও আবদুল মজিদ খান দলীয় নমিনেশন পাবেন। কারন তিনি বানিয়াচং আজমিরীগঞ্জ উপজেলার উন্নয়নের রূপকার, তাই সাধারণ কর্মী সর্মথকরা বর্তমান এমপি আবদুল মজিদ খান'র এবারও নমিনেশন পাবেন বলে তারা মনে করছেন।
উপজেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক পিয়ানুর রহমান হাসানের সাথে বানিয়াচং উপজেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে কথা বলায় তিনি জানান,আমাদের বানিয়াচং উপজেলা কমিটি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচন হয়েছে। এখনও পূর্নাঙ্গ কমিটি হয়নি। তবে আমরা নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ আছি। আমাদের নির্বাচনের প্রস্তুতি আছে। দল যাকে দলীয় প্রার্থী করে তাদের সাথে আমরা আছি।
আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুজিবুল হক মারুফ'র সাথে আলাপ কালে তিনি বলেন, আমাদের বানিয়াচং উপজেলা বিএনপি সাংগঠনিক ভাবে খুবই শক্তিশালী অবস্থানে আছে। আমরা ইতিমধ্যে ১৫ টি ইউনিয়ন কমিটি ঘুছিয়ে রেখেছি। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে আমরা প্রস্তুতি রেখেছি। এই আসনে দলীয় প্রার্থী কে হবেন এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি আরো বলেন, আমরা পষ্ট ভাবে বলি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক ডাঃ সাখাওয়াত হাসান জীবন একমাত্র বিএনপির দলীয় প্রার্থী।
উনার বিকল্প কেহ নেই। তিনি বিএনপি'র তৃনমুলের একক প্রার্থী। আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েএকান্ত আলাপকালে এমপি আবদুল মজিদ খান বলেন,আমি এই অবহেলিত জনপদের উন্নয়নের বিপ্লব ঘটিয়েছি।
আমি এই আসনের ৩ বারের সংসদ সদস্য। আশাবাদী এবারও দলীয় নমিনেশন আবারও আমি পাব। নৌকা প্রতীকে প্রার্থী হয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা আবারও এই আসন উপহার দিতে পারব। নেত্রী আমার উপর আস্থা রেখে বিগত ৩ বার আমাকে সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী করেছিলেন, আমি ৩ বার ই বিপুল ভোটে জয়লাভ করি। তাই আমার বিশ্বাস আমি এবারও নমিনেশন পাব। আমি এমপি হওয়ার পর থেকে দুই উপজেলায় উন্নয়নের জোয়ার এসেছে। স্কুল কলেজ মসজিদ মাদ্রাসা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং ব্রীজ খাল খনন সহ সব জায়গায় উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। প্রত্যাঞ্চলে রাস্তা ঘাট হয়েছে, গ্রামে গঞ্জে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছ। সব জায়গায় উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে।
হাওরের মাঝ দিয়ে সাবমার্সিবল রাস্তা হয়েছে। নদীতে ব্রীজ হয়েছে। মানুষ সব দিক থেকে উন্নয়নের পরশ পেয়েছে। এখনও উন্নয়নের কিছু কাজ বাকী আছে।আমি আশাবাদী আগামী দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে পুনরায় দলীয় নমিনেশন পেলে আমি পাশ করব ইনশাআল্লাহ। তখন বাকী কাজ গুলো সমাপ্ত করব দ্রুততার সাথে।
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক




















