মনু নদীর বাঁধ ভেঙে ৩০ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি অর্ধলাখ মানুষ

  • প্রকাশের সময় : ১০/০৭/২০২৬ ০৮:১৩:২৫ PM

Share
6

মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলায় মনু নদীর বাঁধ ভেঙে চারটি ইউনিয়নের ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। নদী ভাঙনে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। স্রোতের টানে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক বৃদ্ধ।


জেলাজুড়ে শুক্রবার সকাল থেকেই গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। গত তিন দিনে জেলায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ২০২ মিলিমিটার। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে আরও বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 


মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জেলার প্রধান নদীগুলোর মধ্যে মনু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর চাঁদনীঘাট অংশে বিপৎসীমার ৭৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। এছাড়া ধলাই, কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

একামধু গ্রামের মকদ্দুস মিয়া ও গিয়াস মিয়া বলেন, ‘বাড়িতে পানি ওঠায় আমরা মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে আশ্রয় নিয়েছি। ছেলে সন্তানদের নিয়ে থাকার জায়গা না থাকায় এখানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হলাম।

কান্দিরকুল গ্রামের পৃথ্বী রানী ও খায়রুন বেগম বলেন, ‘বাঁধ ভেঙে আমাদের বসতবাড়িতে পানি ঢুকে গেছে। আমরা গবাদিপশুসহ জরুরি জিনিসপত্র নিয়ে এখানে আশ্রয় নিয়েছি।’


এদিকে গতরাতে মনু নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ভাঙনে বাড়ির সামনের রিং বাঁধ ভেঙে গেলে স্রোতের টানে পড়ে প্রাণ হারান ৭০ বয়সী আশরাফ আলী আসই। তিনি রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের আকুয়া গ্রামের বাসিন্দা। বাঁধ ভাঙার পর তিনি নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। এরপর থেকে তাকে পরিবারের সদস্যরা আর খুঁজে পায়নি। সকালে বানের পানিতে তার মরদেহ ভেসে ওঠে। আজ সকালে তার মরদেহ বাড়ির পাশে পানির স্রোতে ভেসে যেতে দেখা যায়। স্থানীয়রা মরদেহটি শনাক্ত করে নিহতের পরিবারকে জানান।


এলাকার মজনু মিয়া কালবেলাকে বলেন, ‘হঠাৎ ভাঙনের কারণে মানুষকে উদ্ধার করতে কেউ এগিয়ে আসেনি। রাতের আঁধারে নারী শিশু বৃদ্ধ বয়সীরা বেকায়দায় পড়েছিল। আশরাফ আলী তাড়াহুড়া করতে গিয়েই বানের স্রোতে ভেসে যান।’

এ বিষয়ে টেংরা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বলেন, ‘বানের পানিতে ডুবে বৃদ্ধ আশরাফ আলীর মৃত্যু হয়েছে। রাস্তাঘাট জলমগ্ন থাকায় নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তবে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।’   রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফরিদ উদ্দিন আহমদ ভুইঁয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বৃদ্ধ লোক হয়তো অসাবধানতার কারণে পানিতে পড়ে তার মৃত্যু হয়।’


এদিকে অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে পাশের জেলা সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় সুরমা নদীর পানির উচ্চতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।


এমন পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২৪ ঘণ্টার বিশেষ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কন্ট্রোল রুম) চালু করা হয়েছে। 


বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সুরমাসহ পার্শ্ববর্তী নদনদীর পানি আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়তে পারে।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে দেশের অন্তত ১৮ জেলার বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি কিংবা বিদ্যমান বন্যার অবনতি হতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সাঙ্গু নদী বান্দরবান ও দোহাজারী, মাতামুহুরী নদী লামা ও চিরিঙ্গা, মনু নদী মনু রেলওয়ে ব্রিজ ও মৌলভীবাজার, ধলাই নদী কমলগঞ্জ, খোয়াই নদী বাল্লাহ ও হবিগঞ্জ এবং কুশিয়ারা নদী মারকুলী স্টেশনে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।


সিলেট প্রেস / নিউজ ডেস্ক


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৬-০৭-১০ ২০:১৩:২৫