মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সাবাজপুর টি কোম্পানি লিমিটেডের সাবাজপুর চা-বাগানে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘ প্রায় দুই মাস ধরে ব্যাপক হারে গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭ শতাধিক ঘনফুট কাঠ এবং ১৩০টি গাছের গুঁড়ি জব্দ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, বাগানের বৈকুণ্ঠনগর, বিপিন টিলা, আন্ডার টিলাসহ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় কয়েক শত গাছ কেটে হাতির সাহায্যে নিচে নামিয়ে ট্রাকে করে বাইরে বিক্রি করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব কাঠ বিয়ানীবাজারের ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন ক্রেতার কাছে সরবরাহ করা হয়।
শনিবার (৪ জুলাই) বড়লেখা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাইমা নাদিয়া বন বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে বাগান পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় বাগান কর্তৃপক্ষ গাছ কাটার পক্ষে বন বিভাগ, বাংলাদেশ চা বোর্ড বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের বৈধ অনুমোদনের কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।
এরপর বাগানের কার্যালয়সংলগ্ন এলাকা থেকে প্রায় ৫০০ ঘনফুট কাঠ জব্দ করা হয়। রোববার (৫ জুলাই) পুনরায় অভিযান চালিয়ে আরও দুই শতাধিক ঘনফুট কাঠ ও ১৩০টি গাছের গুঁড়ি উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে জব্দকৃত কাঠের পরিমাণ ৭ শতাধিক ঘনফুটে পৌঁছেছে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাইমা নাদিয়া বলেন, বন বিভাগের পরিমাপ ও প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, বাংলাদেশ চা বোর্ড ও বন বিভাগের চূড়ান্ত অনুমোদন ছাড়া চা-বাগানের গাছ কাটা বৈধ নয়।
বড়লেখা বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা নীলোৎপল সরকার বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই গাছ কাটা হয়েছে। এতে সরকারের রাজস্ব ফাঁকিরও আশঙ্কা রয়েছে। চূড়ান্ত পরিমাপ শেষে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, দীর্ঘ দুই মাস ধরে প্রকাশ্যে গাছ কাটা, পাহাড় থেকে হাতির সাহায্যে কাঠ নামানো এবং ট্রাকে করে বাইরে নেওয়ার মতো কার্যক্রম বন বিভাগের নজরের বাইরে কীভাবে ছিল। এ ঘটনায় বন বিভাগের ভূমিকা নিয়েও এলাকায় নানা প্রশ্ন উঠেছে।
অন্যদিকে, সাবাজপুর চা-বাগানের ব্যবস্থাপক নাহিদ আহমদ চৌধুরী বলেন, নতুন চা চাষের জন্য ১২৫ একর এলাকায় রোগাক্রান্ত ও ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত গাছ অপসারণের অনুমতি চেয়ে চলতি বছরের এপ্রিলে বাংলাদেশ চা বোর্ডে আবেদন করা হয়েছে এবং সেটি এখনও অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে অনুমোদনের আগেই গাছ কাটার বিষয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।
পরিবেশবিদদের মতে, যথাযথ অনুমোদন ছাড়া চা-বাগানের গাছ কাটা শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, বরং জীববৈচিত্র্য, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও পরিবেশের জন্যও মারাত্মক হুমকি। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক



















