বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে সেমিফাইনালের সমীকরণ। শেষ ষোলোর প্রথম ম্যাচে কানাডার বিদায় নিশ্চিত হওয়ার পর কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিপক্ষের অপেক্ষায় ছিল মরক্কো।
আগে থেকেই জানা ছিল, ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ীদের সঙ্গেই শেষ আটে লড়তে হবে অ্যাটলাস লায়নদের। শেষ পর্যন্ত সেই প্রতিপক্ষ হয়েছে ফ্রান্স।
ফিলাডেলফিয়ায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার কঠিন আবহাওয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্যারাগুয়ের শক্ত রক্ষণভাগের বিপক্ষে বারবার আক্রমণে ওঠে ফ্রান্স। তবে ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি থেকে। ১-০ গোলের জয়ে টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের নির্ধারক মুহূর্ত আসে দ্বিতীয়ার্ধে। বদলি হিসেবে নামা ফরোয়ার্ড দেজিরে দুয়ে ড্রিবলিং করে প্যারাগুয়ের বক্সে ঢোকার সময় গোমেজের ট্যাকলের শিকার হন। প্রথমে খেলা চালিয়ে যেতে নির্দেশ দিলেও পরে ভিএআরের সহায়তায় পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পটকিক থেকে ঠান্ডা মাথায় গোল করে চলতি বিশ্বকাপে নিজের সপ্তম এবং বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের ১৯তম গোল করেন এমবাপ্পে। এই গোলের মাধ্যমে তিনি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় সাত গোল নিয়ে লিওনেল মেসির সমতায় পৌঁছান এবং বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত গোলসংখ্যায় মেসির ২০ গোলের খুব কাছাকাছি চলে আসেন।
ফ্রান্সের আগেই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল মরক্কো। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে স্বাগতিক কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ আটে ওঠে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। প্রথমার্ধে গোলশূন্য সমতা থাকলেও বিরতির পর দুর্দান্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেই তিন গোল আদায় করে নেয় আশরাফ হাকিমি ও ব্রাহিম দিয়াজদের দল।
আগামী ৯ জুলাই দিবাগত রাত ২টায় ফক্সবোরোর বোস্টন স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও মরক্কো। ম্যাচটি ফিরিয়ে আনবে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের স্মৃতি। সে আসরে আফ্রিকার প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে ওঠা মরক্কো ফ্রান্সের কাছে হেরে ফাইনালে ওঠার স্বপ্নভঙ্গ দেখেছিল।
এবার সেই হারের প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে অ্যাটলাস লায়নরা। টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার লক্ষ্য তাদের সামনে। পাশাপাশি আফ্রিকার একমাত্র দেশ হিসেবে নকআউট পর্বে চারটি ম্যাচ জয়ের অনন্য কীর্তিও ইতোমধ্যে গড়েছে মরক্কো, যা মহাদেশের অন্য কোনো দলের নেই।
গ্রুপ পর্বে দুই জয় ও এক ড্রয়ে দুর্দান্ত ছন্দে ছিল মরক্কো। অন্যদিকে ফ্রান্স তিনটি ম্যাচই জিতে নকআউটে উঠেছে। দুই দলের দারুণ ফর্মের কারণে কোয়ার্টার ফাইনালের এই লড়াই যে বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ হতে যাচ্ছে, তা বলাই যায়।
স্পোর্টস ডেস্ক :



















