আব্দুস সোবহান উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটিতে শাহীনকে সভাপতি পদে মনোনীত না করতে ডিসি’র কাছে আবেদন

  • প্রকাশের সময় : ০১/০১/২০২৫ ০৮:০৮:৪২ AM

ছবি: সংগ্রহীত।

Share
111

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার আব্দুস সোবহান উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটিতে মো. জিয়াউর রহিম শাহীনকে সভাপতি পদে মনোনীত না করতে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বরাবর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। 

সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেলে স্থানীয় শতাধিক এলাকাবাসী স্বাক্ষরিত আবেদনপত্রে এই দাবি জানানো হয়। আবেদনের সাথে শাহীনের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের কারণ ও প্রমানাদি সংযোজন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সিলেট শিক্ষাবোর্ড ও জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও বিষয়টি অবগত করা হয়েছ।


আবেদনে বলা হয়, ১৯৯৭ সালে জগন্নাথপুর তথা হবিবপুর গ্রামে শিক্ষা বিস্তার ও আলোকিত মানুষ গড়ার লক্ষ্যে অত্র গ্রামের সন্তান আমেরিকা প্রবাসী সালিক এম সোবহান তাহার পিতার নামে আব্দুস সোবহান উচ্চ বিদ্যালয়, হবিবপুর প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অদ্যাবধি বিদ্যালয়ের পরিচালনার সাথে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন- ভাতা প্রদান, বিদ্যালয় উন্নয়নে একাডেমিক ভবন ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, মাটি ভরাটসহ সার্বিক উন্নয়ন কর্মকান্ড তিনি এককভাবে নিজস্ব অর্থায়নে করে আসছেন। তিনি বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা- বিষয়টি বিদ্যালয় পরিচালনার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও হবিবপুর গ্রামের আপামর জনসাধারণ জ্ঞাত। আব্দুস সোবহান উচ্চ বিদ্যালয়ের বিগত ৩০/০১/১৯৯৯ তারিখের ম্যানেজিং কমিটির ৩ নং সিদ্ধান্ত অনুসারে মো. জিয়াউর রহিম শাহীনকে ১০ হাজার টাকায় আজীবন দাতা সদস্য করা হয়। অথচ সভার আলোচ্যসূচিতে আজীবন দাতা সদস্য করার কোনো আলোচ্য বিষয় ছিল না, এমনকি আজীবন দাতার বিষয়টি তখনকার ম্যানেজিং কমিটির সদস্যবৃন্দ অবগত নন। উক্ত সভার ৩নং সিদ্ধান্তটি মো. জিয়াউর রহিম শাহীন স্ব-হস্তে উপরের সিদ্ধান্তসমূহ ও নিচের লেখার সাথে অসামঞ্জস্য কলমের কালি দ্বারা ৪নং সিদ্ধান্তের পরে ও পরিশেষের মধ্যখানে ফাঁকা জায়গায় একলাইনে অত্যন্ত চাতুরতার সাথে কোনো প্রকার ব্যাখ্যা ছাড়াই লিপিবদ্ধ করেন। 

উল্লেখ্য যে, উক্ত সভায় মো. জিয়াউর রহিম শাহীনের পিতা মো. আব্দুর রহিম ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসাবে সভাপতিত্ব করেন। তাছাড়া বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভার কার্য বিবরণী লেখার নিয়ম হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের প্রধান/সদস্য সচিবের। অথচ নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নিজ স্বার্থ সিদ্ধি ও হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থের লক্ষ্যে মো. জিয়াউর রহিম শাহীন এই সভার কার্য বিবরণী স্বহস্তে লিখে তার পিতার স্বাক্ষরে কার্য বিবরণী অনুমোদন করান। তাছাড়া আজীবন দাতা সদস্যের প্রদেয় ১০ হাজার টাকা বিদ্যালয়ের কোনো রসিদ বইয়ের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়নি এবং বিদ্যালয়ের কলামনার ক্যাশ খাতায় কৌশলে এই ১০ হাজার টাকা একই তারিখে আয় ও ব্যয় ঘষা মাজার মাধ্যমে দেখানো হয়েছে। যদি তিনি উক্ত সন থেকে আজীবন দাতা সদস্য হওয়ার বিষয়টি বৈধ হতো তাহলে কেন তিনি বিদ্যালয়ের ২০০৭ সালের ম্যানেজিং কমিটিতে বিদ্যুৎসাহী সদস্য এবং ২০০৯ সালের বিদ্যালয়ের এডহক কমিটিতে অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচিত হলেন? 

উল্লেখ থাকা আবশ্যক যে, বিদ্যালয়ের বিগত ২০০৩ ও ২০০৭ সালের ম্যানেজিং কমিটিতে দাতা সদস্য হিসাবে যথাক্রমে মো. শামছুল হক ও মো. আব্দুশ শহীদ নির্বাচিত হন। অবৈধ পন্থায় আজীবন দাতা সদস্য দাবিদার মো. জিয়াউর রহিম শাহীনের বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ তদন্তে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আব্দুস সোবহান উচ্চ বিদ্যালয়ে তার আজীবন দাতা সদস্য পদ বাতিল করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় বলেও জানানো হয়েছে। আব্দুস সোবহান উচ্চ বিদ্যালয়ের আজীবন দাতা সদস্য বিষয়ে মো. জিয়াউর রহিম শাহীনের জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ায় ভবিষ্যতে তাকে বিদ্যালয়ের সকল প্রকার কার্যক্রম এবং ম্যানেজিং কমিটির সদস্য (যেকোন ক্যাটাগরিতে) নির্বাচিত/মনোনীত করা আজীবনের জন্য নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বিদ্যালয়ের সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশ রক্ষার্থে উপরে বর্ণিত বিষয়াদি বিবেচনা ও তদন্তপূর্বক আব্দুস সোবহান উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটিতে মো. জিয়াউর রহিম শাহীনকে সভাপতি মনোনিত না করার অনুরোধ জানানো হয়। 


এ বিষয়ে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, আবেদন পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।


সিলেট প্রেস / টিএ


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক

সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০২৫-০১-০১ ০৮:০৮:৪২