সিলেট তাবলিগ-জামায়াতের ধোপাদিঘির উত্তরপাড় আঞ্চলিক শাখার আমির ইব্রাহিম আবু খলিল (৫৫) হত্যা মামলায় তার স্ত্রীকে হাইকোর্টের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর ফলে, এখন আসামির মুক্তিতে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবী এসএম শাহজাহান।
বুধবার (১৭ জুন) প্রধানবিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ রায় ঘোষণা দেন। আদালতে এদিন আসামিপক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী এসএম শাহজাহান। আর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনিক আর হক।
আইনজীবী এসএম শাহজাহান জাগো নিউজকে নিশ্চিত করে বলেন, একা একজন নারী, যেভাবে খুন করা হয়েছে এভাবে খুন করা পুরুষকে সম্ভব না। এ ছাড়াও স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দেওয়ার আগে পুলিশ হুমকি দিয়ে ভিডিও ধারণ করেছিল।
ভিডিও ধারণ করার সময় পুলিশ হুমকি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবী। ফলে দুর্বল তদন্ত ও স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দেওয়ার কারণে আসামি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে খালাস পেয়েছেন।
২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি সিলেট তাবলিগ-জামায়াতের ধোপাদিঘির উত্তরপাড় আঞ্চলিক শাখার আমির ইব্রাহিম আবু খলিল (৫৫) হত্যা মামলায় তার স্ত্রীকে বিচারিক (নিম্ন) আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।
মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স গ্রহণ এবং আসামির আপিল খারিজ করে ওই বছরের ৩১ জানুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি সহিদুল করিম ও বিচারপতি মো. আখতারুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে, গত ১২ জানুয়ারি সিলেটে তাবলিগ জামায়াতের আমির ইব্রাহিম আবু খলিল হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত স্ত্রীর আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষ হয়। এরপর রায়ের জন্য ৩১ জানুয়ারি দিন ঠিক করেন আদালত। তারই ধারাবাহিকতায় আজ এই রায় দেন হাইকোর্ট।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১৮ মে নিজ বাসার শয়নকক্ষ থেকে ইব্রাহিম খলিলের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি সিলেটের ধোপাদিঘির উত্তরপাড়ার তাবলিগের আমির ছিলেন।
মরদেহ উদ্ধারের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্ত্রী ফাতিহা মাশকুরাকে আটক করে পুলিশ। এরপর মাশকুরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে কোতোয়ালি থানায় মামলা করা হয়।
একই বছরের ২৪ আগস্ট ফাতিহার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। বিচার শেষে ২০১৬ সালের ৬ জুন সিলেট মহানগর দায়রা জজ আকবর হোসেন মৃধা ফাতিহা মাশকুরাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
এরপর মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি আসামি জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিল করেন।




















