সিন্ডিকেটের কবলে বন বিভাগের গাছ নিলাম

চুনারুঘাটে খুর্শেদ ও আজাদের নেতৃত্বে ৯ লাখ টাকা হরিলুট

  • প্রকাশের সময় : ১৮/০২/২০২৪ ১০:০১:৩২ AM

ছবি- সংগৃহীত

Share
63

চুনারুঘাটে বনবিভাগের ডাকা ৬৭ লটে প্রায় ৪ হাজার ফুট গাছের নিলামে শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ৯ লাখ টাকা হরিলুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী ঠিকাদার খুর্শেদ আলী ও সারোয়ার আলম আজাদের নের্তৃত্বে এসব টাকা ভাগ-বাটোয়ারা ও আত্মসাত করা হয়েছে। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় মহালদারকে মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। যদিও খুর্শেদ মহালদার ও সারোয়ার আলম আজাদ এসব টাকা আত্মসাত নয়, বিভিন্ন লোকজনের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন।  


জানা যায়, গত ১৩ ফেব্রুয়ারী হবিগঞ্জ সহকারী বন সংরক্ষকের কার্যালয়ের অধিনে জব্দকৃত, ঝড়ে পড়াসহ ৭৬টি লটে প্রায় ৪ হাজার ফুট গাছের নিলাম ডাকে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে স্থানীয় খুর্শেদ আলী ও সারোয়ার আলম আজাদসহ বিভিন্ন এলাকার ৭৩ জন ঠিকাদার অংশ নেন। সরকারী নিয়ম অনুযায়ী বনবিভাগ ৬৭টি গাছের লট কয়েকজন সর্বোচ্চ নিলামদাতাদের মধ্যে ৫০ লাখ ৪০ হাজার ৮৫০ টাকায় বিক্রি করে। এর মধ্যে নিলামে পর্যাপ্ত পরিমান দাম না পাওয়ায় ৯টি লট অবিক্রিত থাকে।


তবে অপর একটি সূত্র জানায়, ওই নিলামে ৭৩ জন নিলামদাতা অংশ নিলেও খুর্শেদ ও সারোয়ার আলম আজাদের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলা হয়। এতে অনেক নিলামদাতাকে ডাকে অংশ না নিতে বাধ্য করা হয়। এ নিয়ে নিলামদাতাদের মধ্যে দেখা দেয় হট্টগোল। পরে ৭/৮ জনের মাধ্যমে নামমাত্র প্রায় সাড়ে ৫০ লাখ টাকায় ৬৭টি লটের প্রায় ৪ হাজার ফুট গাছ ক্রয় করে ওই সিন্ডিকেট চক্রটি। পরে সিন্ডিকেট চক্রটি তাদের তত্ত্বাবধানে নিলামকৃত ওই গাছ ২য় বার নিলামে তুলে ১৯ লাখ টাকা বেশি ধরে বিক্রি করে। এতে তারা সরকারের রাজস্ব ফাকি দিয়ে ১৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। শুধু তাই নয়, ওই প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্রটি অংশগ্রহনকৃত অন্যান্য নিলামদাতাদের ১৫ হাজার টাকা করে ১০ লাখ টাকা বিতরণ করে এবং অবশিষ্ট প্রায় ৯ লাখ টাকা আত্মসাত করে।


নাম প্রকাশে একজন ঠিকাদার বলেন, ‘আমি নিলামে অংশ নেই। তবে আমাকে ডাকে অংশ না নিতে সিন্ডিকেট অনুরোধ করে। এক পর্যায়ে ওই সিন্ডিকেট চক্রটি ১৯ লাখ টাকা লাভে গাছ বিক্রি করে। আমাদের ৭৩ জন ঠিকাদারদের মধ্যে প্রত্যেকে ১৫ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে। এখানে থেকে প্রায় ৯ লাখ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। আমাদের হালাল টাকা তারা হাতিয়ে নিয়েছে।


অরেক জন ঠিকাদার বলেন, ‘আমি নিলামে উপস্থিত ছিলাম। তবে আমি ডাকে অংশ নিতে পারিনি। সিন্ডিকেট চক্রটি প্রত্যেক ১৫ হাজার টাকা করে দিয়ে বাকি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে’।


এ ব্যাপারে জানতে চাইলে খুর্শেদ আলী বলেন, ‘আমরা কোন সিন্ডিকেট  করিনি। এছাড়া টাকা আত্মসাতের বিষয়টি সঠিক নয়। ‘নিলামে লাইসেন্সধারী ৭৩ জন নিলামদাতাসহ আরো অনেক ঠিকাদার উপস্থিত ছিলেন। যে কারণে আমরা লাভের ১৯ লাখ টাকা তাদের মধ্যে বিতরণ করেছি। এছাড়া ছাত্রলীগসহ অনেককেই টাকা দিতে হয়েছে’।


সারোয়ার আলম আজাদ বলেন, ‘কেউ টাকা আত্মসাত করেনি। মুলকথা হল, আমি ৪৮ লাখ টাকার গাছ ক্রয় করেছি। অনেকেই লাভের ভাগ চাইতে আসছিল। তাদেরকে না দেয়ায় তারা অপ্রচার করছে। আমার ব্যবসার সুবিধার জন্য বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করি। সিন্ডিকেটে আমি চাইতে চাইনা এবং কোন পন্থাও অবলম্বন করিনা। তবে তাদের জন্য এসব করতে হয়’।


আপনে ফরেস্ট অফিসার ও স্থানীয় প্রশাসনের নামে এখান থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছেন বলে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রশাসনকে কোন টাকা দেয়া হয়নি। তবে নরমালী ওয়াকসন হলে ফরেস্ট অফিসারদের কিছু টাকা দেয়া হয়’ তাদের কোন ভাগ-বাটোয়ারা দেয়া হয় না। তিনি বলেন, ‘সিন্ডিকেটে গেলে বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। তাই আমি সিন্ডিকেটে যাই না। আমি টাকা দিয়ে ব্যবসা করি। ওই ৫০  হাজার টাকার বিষয়ে আমি অবগত নই’।


উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আলী বলেন, ‘নিলামে অংশগ্রহনকারী ছাড়া আরো ২৪ জনকে ৫ হাজার করে দেয়া হয়েছে, এছাড়া অনেককে ১০ হাজার, আবার কাউকে ২০ হাজার করে টাকাও দেয়া হয়েছে। টাকা আত্মসাতের বিষয়টি যারা বলেছে এটি অন্যায়’।


হবিগঞ্জ সহকারী বনসংরক্ষক তারেক রহমান বলেন, ‘৭৬টি গাছের লটের নিলাম ডাকা হয়। এর মধ্যে ৬৭টি গাছের লট কয়েকজন সর্বোচ্চ নিলামদাতাদের মধ্যে ৫০ লাখ ৪০ হাজার ৮৫০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া নিলামে পর্যাপ্ত পরিমান দাম না পাওয়ায় ৯টি গাছের লট অবিক্রিত রয়েছে। এগুলো পরে নিলাম দেয়া হবে’।


সিলেট প্রেস / ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪/ এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৪-০২-১৮ ১০:০১:৩২