অনুসারীদের নিয়ে বিক্রির জন্য নদী থেকে মাছ ধরবেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান। আর সে জন্য কালিশিরী নদীর একটি অংশ বেচেই দিয়েছেন তিনি। এ নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ আর উত্তেজনা বিরাজ করছে স্থানীয় কৃষক ও গ্রামবাসীর মধ্যে।
এমন অভিযোগ উঠেছে বাহুবল উপজেলার স্নানঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হক রাহিনের বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা বলছে, মাছ ধরার জন্য নদীর একটি বড় অংশ স্থানীয় একজনের কাছে বেচে দিয়েছেন চেয়ারম্যান। এখন সেখানকার পানি সেচে মাছ ধরা হচ্ছে বিক্রির জন্য।
কৃষকরা জানান, মাছ ধরে বিক্রির জন্য কালিশিরী নদী সেচে পানিশূন্য করে ফেলেছেন চেয়ারম্যান ও তাঁর লোকজন। কৃষকদের কথা বিবেচনা না করে নিজের স্বার্থে এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। এতে বোরো জমি চাষাবাদে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এদিকে নদীর মাছ বিক্রির ঘটনায় স্থানীয় শংকরপুর গ্রামের ওয়াসির মিয়া শুক্রবার বাহুবল মডেল থানায় স্নানঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হক রাহিন, ফতেহপুর গ্রামের সুফি মিয়া ও একই গ্রামের ছালিম ছাও মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।
সূত্র জানায়, উপজেলার ৩ নম্বর সাতকাপন ও ১ নম্বর স্নানঘাট ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালিশিরী নদীর পানি দিয়ে স্থানীয় খালাখারৈল, শংকরপুর, নারিকেলতলা, সাইসা, আব্দাসাহসী, মুখকান্দি, আদিত্যপুর, দ্বিগাম্বর, হরিতলা, লালটিলা বড়ইউড়ি, পুটিজুরী, করিমপুর, আব্দাকামাল, চকহায়দর, ভাবনাকান্দি ও সাতপাড়িয়া গ্রামের কৃষক বোরো জমি চাষাবাদ করে আসছেন এবং স্থানীয়রা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
সম্প্রতি ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় তোফাজ্জল হক রাহিন ক্ষমতার অপব্যবহার করে কালিশিরী নদীর প্রায় দেড় কিলোমিটার অংশ অবৈধভাবে একই গ্রামের ছাও মিয়ার কাছে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেন। পরে মাছ আহরণের জন্য ছাও মিয়া পাঁচটি মেশিন বসিয়ে নদীর পানি সেচে সরিয়ে ফেলেছেন। এতে নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে এলাকার কৃষকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা যায়।
নারিকেলতলা গ্রামের বাসিন্দা ও ইউপি সদস্য দুলাল মিয়া জানান, চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হক এলাকার কৃষকদের না জানিয়ে মাছ আহরণের জন্য নদীর একটি অংশ বিক্রি করেছেন। এতে বোরো চাষাবাদে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা লাল মিয়া জানান, কালিশিরী নদী এলাকার কৃষকদের জমি সেচের প্রধান উৎস এটি। এই নদী পানিশূন্য হলে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে বোরো আবাদ। চেয়ারম্যান মাছ আহরণ করতে নদীর পানি সেচ দেওয়ায় চরম সংকটে পড়েছেন কৃষক।
সাইসা গ্রামের কৃষক আবদুস শহীদ, মহিষদুলং গ্রামের কৃষক বিরাম উদ্দিন, সংকরপুর গ্রামের কৃষক ওয়াসির মিয়াসহ আরও অনেকেই জানান, চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হক রাহিন কয়েকজনের সহযোগিতা নিয়ে অবৈধভাবে নদীটি বিক্রি করেছেন। চেয়ারম্যান কী করে নদী বিক্রি করেন, তা কারও বোধগম্য নয়। ক্ষমতার দাপটে স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি যা ইচ্ছা তাই করবেন, সাধারণ মানুষ তা মেনে নেবে না। চেয়ারম্যান নদীর পানি সরিয়ে নেওয়ায় মারাত্মক সংকটে পড়বে বোরো চাষাবাদ। এতে ১৮টি গ্রামের শত শত কৃষকের জমি চাষাবাদে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতি দ্রুত সামাল দেওয়া প্রয়োজন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে স্নানঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হক জানান, তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। সরকারি নদী তাঁর বিক্রির এখতিয়ার নেই। স্থানীয় কৃষকরা জমি চাষাবাদে নদীর পানি ব্যবহার করছেন। অন্যদিকে অভিযোগকারীরা মাছ আহরণ করার জন্য কৃষকদের বাধা দিচ্ছেন। মূল সমস্যা তাদের মধ্যে। এখানে তাঁর কোনো দায় নেই বা তাঁর লোকজন কোনো সমস্যা সৃষ্টি করেনি।
বাহুবল মডেল থানার ওসি মশিউর রহমান জানান, নদী থেকে পানি সেচের অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




















