হবিগঞ্জের এক সময়ের খরস্রোতা শাখা বরাক নদী এখন খালে পরিণত হয়েছে। অবৈধ দখল ও ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে ক্রমেই অস্তিত্ব হারানোর পথে নদীটি।
স্থানীয়রা জানান, শাখা বরাক নদীর তীরেই গড়ে উঠেছে নবীগঞ্জ শহর। এক সময় নবীগঞ্জ বাজারের সঙ্গে দেশের অন্যান্য স্থানে যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনের একমাত্র মাধ্যম ছিল বরাক নদী। প্রায় অর্ধশত বছর আগেও বরাক নদী দিয়ে লঞ্চ চলেছে। ২০ থেকে ২৫ বছর আগেও চলেছে বড় বড় নৌকা। বর্তমানে বর্ষা মৌসুমে নদীর দু’কূল ছাপিয়ে বন্যার সৃষ্টি হলেও শুকনো মৌসুমে শীর্ণ খালে পরিণত হয় শাখা বরাক। ময়লা-আবর্জনা ও কচুরিপানার কারণে বরাক হারাচ্ছে তার স্বাভাবিক চরিত্র। বর্তমানে এটি নবীগঞ্জ বাজারের ময়লা-আবর্জনা ফেলার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি শাখা বরাক দিয়ে বের হতে না পারায় শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
সরেজমিন দেখা যায়, অবৈধ দখলের কবলে বর্তমানে এই নদী পূর্ব তিমিরপুর পর্যন্ত খালের মতো। তিমিরপুরের পর থেকে কালিয়ারভাঙা পর্যন্ত নদীর অস্তিত্ব বোঝাই যায় না। এর পর আবার খালের মতো কোনো রকমে টিকে আছে। অধিকাংশ স্থানেই বেদখল হয়ে যাওয়ায় নদীর চিহ্নই আর নেই। নদীর সঙ্গে যেসব খাল সংযুক্ত রয়েছে, সেগুলোর অবস্থাও একেবারেই শোচনীয়। নদীর বিভিন্ন স্থানে কচুরিপানা জমে রয়েছে। নবীগঞ্জ বাজারের অনেক বাসার পয়ঃনিষ্কাশনের পাইপ সরাসরি নদীতে যুক্ত রয়েছে। এ ছাড়া গবাদি পশুর বর্জ্য, হাসপাতাল-ক্লিনিকের ময়লা, মুরগির উচ্ছিষ্ট অংশ, পলিথিন, প্লাস্টিক বর্জ্যসহ নানা ধরনের ময়লা প্রতিনিয়ত মিশে দূষিত হচ্ছে শাখা বরাকের পানি। এতে মশা ও পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়েছে, পরিবেশের ভারসাম্যও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
নবীগঞ্জ শহরের বাসিন্দা মরহম আলী আক্ষেপ করেন বলেন, এক সময় যে নদীতে ৫০০ মণ ওজনের নৌকা বিভিন্ন পণ্য নিয়ে চলাচল করত সেটা এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। এই খাল দিয়ে রাস্তা ও বসতবাড়ির বৃষ্টির পানি পর্যন্ত ঠিকভাবে নিষ্কাশন হয় না।
বাংলাদেশ পরিবেশন আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, শাখা বরাক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নদী। কিছু মানুষ বর্জ্য ফেলে ও দখলের মাধ্যমে নদীটিকে অস্তিত্ব সংকটে ফেলেছে। গুরুত্বপূর্ণ এ নদীটি বাঁচাতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
শহরের দিনারপুর কলেজের অধ্যক্ষ তনুজ রায় বলেন, পৌরসভার ময়লা ফেলার কোনো ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় শাখা বরাক নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। নদীর দূষণ রোধে নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে হবে। শাখা বরাক নদীর প্রাণ ফিরিয়ে আনতে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
কীর্তিনারায়ণ কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ফয়জুর রব পনি বলেন, নবীগঞ্জ শহরের প্রাণ শাখা বরাক নদী। বছরের পর বছর ধরে চলা দখল ও দূষণে আজ নদীটি বিলীন প্রায়। সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে এটা মেনে নেওয়া কষ্টকর।
নবীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনুপ কুমার দাস বলেন, শাখা বরাক নদীতে ময়লা আবর্জনা ফেলা ও অবৈধ দখলের বিষয়ে কেউ তাঁকে অভিযোগ দেয়নি। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে তিনি ব্যবস্থা নেবেন।




















