মাধবপুরের ঐতিহ্যবাহী তেলিয়াপাড়া রেলস্টেশন বিলুপ্তির পথে

  • প্রকাশের সময় : ০৫/০২/২০২৪ ০২:০৯:২৩ AM

ঐতিহ্যবাহী তেলিয়াপাড়া রেলস্টেশনটি বর্তমানে চায়ের দোকানের দখলে

Share
46

মাধবপুরের তেলিয়াপাড়া রেলস্টেশনটি কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রায় ১২৮ বছরের ঐতিহ্যবাহী রেলস্টেশনটি এখন বিলুপ্তির পথে। ঐতিহ্যবাহী এই রেলস্টেশনটি আধুনিকায়ন করে পুনরায় চালু করার জন্য দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।



জানা গেছে, ১৮৯৬ সালে ব্রিটিশ সরকার জনসাধারণের যোগাযোগ ও সিলেট অঞ্চলের কয়েকটি চা বাগানের পণ্য পরিবহনের জন্য স্টেশনটি চালু করে। তখন থেকে এই রেলস্টেশনটি এই এলাকার ব্যবসাবাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় গুরুত্ব হারায় স্টেশনটি। একপর্যায়ে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় স্টেশনের কার্যক্রম। স্টেশনের টিকেট কাউন্টার ও ছোট স্টেশনমাস্টারের অফিসটি গত দুই যুগ ধরে তালাবদ্ধ। যাত্রী ছাউনিসহ সরকারি বিভিন্ন ঘর জঙ্গলে ভরে গেছে।



তেলিয়াপাড়া স্টেশন বাজারের কয়েকজন প্রবীণ ব্যবসায়ী জানান, এক সময় এই রেলস্টেশন থেকে প্রতিদিন প্রচুর যাত্রী বিভিন্ন গন্তব্যে আসা-যাওয়া করতেন। চা বাগানের পণ্যও ট্রেনে পরিবহন করা হতো। কিন্তু সড়ক পথে চা পরিবহন বাড়তে থাকায় স্টেশনটি গুরুত্ব হারাতে থাকে।



সুরমা চা বাগানের বাসিন্দা গোপেশ ভুমিজ জানান, এক সময় তেলিয়াপাড়া রেলস্টেশনে অনেক লোকাল ট্রেন ও মালবাহী ট্রেন থামত। এ ট্রেন দিয়ে মাধবপুর ও চুনারুঘাটের ২২টি চা বাগানের সাধারণ মানুষ ও এলাকার লোকজন সহজেই ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করতে পারত। কিন্তু গত ২৫ বছর ধরে জনবল না থাকায় রেলস্টেশনটি এক পর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায়। 

তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক দীপেন কুমার সিনহা বলেন, একসময় মালবাহী ট্রেন দিয়ে চা বাগানের উৎপাদিত চা পাতা চট্টগ্রাম নিলাম বাজারে কম খরচে নিরাপদে পাঠানো যেত। কিন্তু রেলস্টেশনটি এখন বিলুপ্ত হওয়ার পথে।  

মাধবপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সুখেন দেবনাথ বলেন, এক সময় নামডাক ছিল তেলিয়াপাড়া রেলস্টেশনের। ওই স্টেশনে উল্কা, কুশিয়ারা, বাল্লা লোকাল ও আন্তঃনগর ট্রেনসহ মালবাহী ট্রেন দাঁড়াত। কিন্তু রেল কৃর্তপক্ষের উদাসীনতার কারণে এই রেলস্টেশনে  সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।



স্থানীয় জনসাধারণের সুবিধা ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া তেলিয়াপাড়া রেলস্টেশনটিকে বি ক্লাসে উন্নীত করার ঘোষণা দেন। কিন্তু তাঁর এই ঘোষণা বাস্তবায়ন হয়নি। পরবর্তীতে সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য এনামুল হক মোস্তফা শহীদ এক জনসভায় আবারও এই স্টেশনটিকে বি ক্লাসে উন্নীত করার ঘোষণা দেন। কিন্তু দুই মন্ত্রীর ঘোষণা আলোর মুখ দেখেনি। ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হন। কিন্তু তিনিও তেলিয়াপাড়া রেলস্টেশন উন্নয়নে কোনো ভূমিকা রেখে যেতে পারেননি। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।



মাধবপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মজিব উদ্দিন তালুকদার ওয়াসীম বলেন, তেলিয়াপাড়ার অবস্থান দুই উপজেলার মধ্যস্থানে। রেলস্টেশনটি আধুনিক করা হলে হাজার হাজার মানুষ ট্রেনে চলাচল করার সুবিধা পেত। এতে সরকার অনেক রাজস্ব আয় করতে পারত।

বাংলাদেশ রেলওয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (উন্নয়ন) মো. আরিফুজ্জামান জানান, তেলিয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশনসহ বন্ধ হয়ে পড়া দেশের সব রেলস্টেশন চালু করার ব্যাপারে রেল বিভাগের অনেক উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে। তেলিয়াপাড়া রেলস্টেশনের বর্তমান অবস্থা জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


স্থানীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেন, তেলিয়াপাড়া রেলস্টেশন উন্নয়ন খুবই জনগুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে।



সিলেট প্রেস / ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪/ এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৪-০২-০৫ ০২:০৯:২৩