হবিগঞ্জে বাঁধের মাটি দিয়েই বাঁধ সংস্কার

  • প্রকাশের সময় : ৩০/০১/২০২৪ ০২:২৬:০৪ AM

আজমিরীগঞ্জের উদয়পুরে ফসল রক্ষা বাঁধের তলদেশ থেকে মাটি কেটে উপরিভাগের সংস্কার করা হচ্ছে

Share
66

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বদলপুর ইউনিয়নের উদয়পুর গ্রামসংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ফসল রক্ষা বাঁধের সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

বাঁধের গোড়া থেকে মাটি কেটে সেই মাটি দিয়েই বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার কৃষকরা। এ নিয়ে স্থানীয় লোকজনসহ সবার মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বাঁধের গোড়া থেকে মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণের ফলে যে কোনো সময় তা ধসে বড় ধরনের বিপত্তি ঘটতে পারে।

জেলা পাউবো সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনের মাধ্যমে ৯টি প্রকল্পে ১২ দশমিক ৫৫ কিলোমিটার বাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ; যার প্রস্তাবিত বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৯০ লাখ ৮২ হাজার টাকা। সরেজমিন বদলপুর ইউনিয়নের উদয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন বাঁধ ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে ৭ লাখ ৭৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩৮৫ মিটার বাঁধ সংস্কারের কাজ চলছে। তবে প্রকল্পের স্থানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা বা পিআইসির কোনো সদস্যকে পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য অরুণ তালুকদারের মাধ্যমে চলছে সেখানকার বাঁধের কাজ। বাঁধ সংস্কারে গোড়ার মাটি কেটে সেই মাটিই আবার বাঁধে ফেলা হচ্ছে। এতে বাঁধটি গোড়ার দিকে দুর্বল হয়ে পড়ছে। আসছে বর্ষা মৌসুমে এ বাঁধে ভাঙনের আশঙ্কা প্রবল। সে ক্ষেত্রে স্থানীয় কৃষকরা ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

স্থানীয় বাসিন্দা জিতেন্দ্র দাস বলেন, এ যেন গাছের গোড়া কেটে ডগায় জল ঢালার অবস্থা। বাঁধের গোড়া কেটে যদি বাঁধ মেরামত করা হয়, তবে সেই বাঁধে লাভ কী? কতদিন এ বাঁধ টিকবে তা বলা মুশকিল।

গোপেন্দ্র দাস নামে গ্রামের আরেক বাসিন্দা বলেন, আমাদের এ এলাকায় বাঁধে কাজ হচ্ছে নামমাত্র। মূলত, বাঁধের কাজের জন্য বরাদ্দের টাকা নয়ছয় করতেই লোক দেখানো কাজ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে উদয়পুর বাঁধের পিআইসির সভাপতি নরেশ চন্দ্র দাস ও সদস্য সচিব গোপেশ চন্দ্র দাস জানান, ইউপি সদস্যকে দিয়ে বাঁধ সংস্কারের কাজ করা হচ্ছে। কত মিটার বাঁধের কাজ চলছে, সেটিও তাদের জানা নেই।

তবে বদলপুর ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য অরুণ তালুকদার কাজের বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, কাজ পিআইসির লোকজনই করছেন; যা নিয়ে তারা একে অপরকে দোষারোপ করছেন। এর সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপসহকারী প্রকৌশলী একরামুল হক বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। দ্রুত এ বিষয়ে খবর নিয়ে বাঁধ পরিদর্শনে যাবেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জুয়েল ভৌমিক জানান, এভাবে বাঁধের কাজ করার কথা নয় এতে বাঁধ ও স্থানীয়দের ক্ষতির আশঙ্কা প্রবল। বিষয়টি নিয়ে পাউবোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম হাসনাইন মাহমুদ জানান, বাঁধ সংস্কারে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই বাঁধ সংস্কারের সার্বিক কাজ শেষ হবে। বাঁধের মাটি কেটে বাঁধ সংস্কারের বিষয়টি জেনেছেন। বিস্তারিত তথ্য বিশ্লেষন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সিলেট প্রেস / ৩০ জানুয়ারি ২০২৪/ এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৪-০১-৩০ ০২:২৬:০৪