খরস্রোতা সোনাই এখন সরু খাল

  • প্রকাশের সময় : ২৮/০১/২০২৪ ০২:৪৪:১০ AM

নাব্য সংকটে ধুঁকতে থাকা মাধবপুরের সোনাই নদীর পাড়জুড়ে ময়লার স্তূপ

Share
51

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে বয়ে চলা ৩০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সোনাই নদী এখন সরু খালে পরিণত হয়েছে। দখল, দূষণ আর নদীর নাব্য সংকট দূরীকরণে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় নদীটির এই অবস্থা বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।


স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় খরস্রোতা এই নদীতে নৌকা চলত। জেলেরা নদীতে মাছ ধরতেন। এই সোনাই নদী ঘিরে গড়ে উঠেছিল এখানকার ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি ও সংস্কৃতি। তবে ঐতিহ্যবাহী এ নদী সোনালি দিনের রূপ-যৌবন হারিয়ে এখন প্রায় মরতে বসেছে। দূষণের কারণে নদীর পানি কালো হয়ে গেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন অংশ বেদখল হয়ে যাওয়ায় নদীর আকার সরু হয়ে এসেছে। সেই সঙ্গে স্রোতহীন নদীতে আগের মতো মাছও পাওয়া যায় না। কৃষকরা নদীর পানি দিয়ে শস্য আবাদও করতে পারছেন না।


মাধবপুর পরিবেশ আন্দোলনের কর্মী মুখলেছুর রহমান জানান, যুগ যুগ ধরে নদীকে ধ্বংস করা হয়েছে। নদীদূষণ ও ভরাট করছে নদীপাড়ের মানুষই। মাধবপুর পৌরশহর ও বাজারের সব ময়লা আর্বজনা ও প্লাস্টিক বর্জ্য এনে এই নদীতে ফেলা হচ্ছে। এতে নদী ভরাট হয়ে সরু হয়ে গেছে। এ ছাড়া বাজারের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নালা করে নদীর সঙ্গে সংযুক্ত করে দেওয়ায় ভয়াবহ দূষণের মুখে পড়েছে নদীর পানি। এসব দূষিত তরল পদার্থ মিশে সোনাই নদীর পানি এখন কালো হয়ে গেছে। 


এ ছাড়া মাধবপুর উপজেলায় গড়ে ওঠা শিল্পকারখানার বর্জ্য নদীতে ফেলা হচ্ছে। নদীদূষণ ও ভরাটের পাশাপাশি ভরাট জায়গা অবৈধভাবে দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। পরিবেশবাদীরা সোনাই নদীকে দখল ও দূষণের কবল থেকে বাঁচাতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করলেও সরকারের পক্ষ থেকে এটি রক্ষায় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ অবস্থা চলতে থাকলে সোনাই এক দিন মরা নদীতে পরিণত হবে।


মাধবপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু আসাদ ফরিদুল হক জানান, একসময় সোনাই নদী থেকে প্রচুর দেশি মাছ ধরতেন স্থানীয় জেলেরা। কিন্তু নদীতে এখন আর কোনো মাছ পাচ্ছেন না জেলেরা। কারণ নদীর নাব্য কমে যাওয়া ও পানি দূষিত হয়ে পড়ায় এটি মাছের বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নদী সংস্কার ও দূষণমুক্ত করা হলে সোনাইয়ের সোনালি দিন ফিরে আসতে পারে।

মাধবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান আল মামুন জানান, আগে সোনাই নদীপাড়ের কৃষকরা পানি সেচে বোরো ধানসহ বিভিন্ন শস্য চাষাবাদ করতেন। এখন নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় খরা মৌসুমে পানি পাওয়া যায় না। যেটুকু পানি পাওয়া যায় তা দূষিত হওয়ায় কৃষকরা কৃষিকাজে ব্যবহার করতে পারেন না। এতে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার বেড়েছে। জীবাণুযুক্ত সোনাই নদীর কালো পানি ব্যবহারে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

হবিগঞ্জ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল জানান, সোনাই নদীকে বাঁচিয়ে রাখতে পারলে প্রকৃতির উপকার হবে। নদীর পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা, নদী দখল ও দূষণ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দায়িত্বশীল একাধিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, এসব প্রতিষ্ঠানের উদাসীনতা এবং অবহেলার কারণে সোনাইয়ের মতো নদীগুলো চরম সংকটের মুখে পড়েছে। সোনাই নদীর তীরে ময়লা আবর্জনা ফেলে নদীকে দূষিত করা হচ্ছে। এতে মাছসহ জলজ প্রাণী দূষণে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। আবর্জনা ফেলে নদী ভরাট ও দখলের মাধ্যমে সোনাই নদীকে ধ্বংস করা হচ্ছে।


মাধবপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাত বিন কতুব জানান, মাধবপুর সোনাই নদীর দখল উচ্ছেদ করতে প্রশাসন আন্তরিক রয়েছে। এ ছাড়া যারা নদীদূষণ এবং নদী বেদখল করছে তাদের তালিকা করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 



সিলেট প্রেস / ২৮ জানুয়ারি ২০২৪/ এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৪-০১-২৮ ০২:৪৪:১০