হাড়কাঁপানো শীতে কাবু চুনারুঘাট। তিন দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না। শীতের দাপট বাড়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন এখানকার চা শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
চাকলাপুঞ্জি চা বাগানের শৈলেন কালিন্দির ছেলেমেয়ে ও নাতি-নাতনি মিলিয়ে পরিবারে সদস্য ২০ জন। তাদের মধ্যে মাত্র ৫ জন ১৭০ টাকা করে মজুরি পান। তিনি বলেন, ‘পরিবারের খরচ জোগানোই সম্ভব হয় না, গরম কাপড় কিনব কীভাবে। পুরোনো কাপড়ই ভরসা।’
চণ্ডীছড়া বাংলোর সামনে হাট বসে। কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ জানান, প্রতি বৃহস্পতিবার এখানে গরম কাপড় নিয়ে আসেন। একেকটি মাফলার গড়ে ৬০ টাকা, কানটুপি ২৫, চাদর ৮০, ট্রাউজার ৬০, জ্যাকেট ১০০-১৫০ টাকায় বিক্রি হয়। কম দাম, তাই বিক্রি বেশি।
হাটে গরম কাপড় কিনতে এসেছিলেন সৌমিত্র কালিন্দি। তিনি বলেন, এখানে কম মূল্যে মোটামুটি একটু ভালো কাপড় পাওয়া যায়। তাই পরিবারের সদস্যদের জন্য গরম কাপড় কিনতে আসেন।
চা বাগান কর্তৃপক্ষ, সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে এ বছর শীতবস্ত্র বিতরণ হচ্ছে না। ফলে চা বাগানের ৮৫ শতাংশেরই দুঃখকষ্টে দিন যাচ্ছে।
এ বিষয়ে ইউএনও নীলিমা রায়হানা জানান, বরাদ্দ এলে বাগান পর্যায়ে বিলি করা হবে। চা শ্রমিক গালমহন মুণ্ডা, সুশীল মুণ্ডা, চৌহান মহালী জানান, আগে বাগান কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের চটের বস্তা দিত। এখন আর কিছুই দেয় না।
চণ্ডীছড়া চা বাগানের শ্রমিক অনীতা গোয়ালা, লক্ষ্মীরানী সিং, সেতা রানীসহ কয়েকজন জানান, দৈনিক ১৭০ টাকা মজুরিতে ৬-৮ জন সদস্যের পরিবারে নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। চা শ্রমিকরা খাবেন, না গরম কাপড় কিনবেন? একই কথা বলেছেন রেমা কালেঙ্গার শ্রমিক ডিগেট সনজিত কৈরী ও আলম মিয়া।
ইউপি সদস্য বিষু মুণ্ডা বলেন, হাড়ভাঙা খাটুনির পর শ্রমিকরা ক্ষুধা আর বঞ্চনার মধ্যে বসবাস করে। বাগানে এসে না দেখলে তা বোঝা যাবে না।




















