ছাতক উপজেলায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) আওতাধীন এলাকায় হাওর রক্ষা বাঁধের ভাঙন বন্ধ ও মেরামতের নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এরই মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বাঁধের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সার্ভে কার্যক্রম শেষ করেছে পাউবো।
এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনে ধীরগতির কারণে যথাসময়ে বাঁধের কাজ শেষ করা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ক্ষমতার বলয়ে আবদ্ধ এসব কমিটির অনিয়ম আর দুর্নীতির কারণে আগ্রহ হারাচ্ছেন তারা।
জানা গেছে, পিআইসি গঠনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা জারির পরেও স্থানীয় কৃষকদের পক্ষ থেকে আবেদনে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। কেন এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, এ বিষয়েও কোনো পক্ষের সুনির্দিষ্ট মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা প্রশাসন থেকে হাওর রক্ষা বাঁধের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনে সদস্যদের আহ্বান করা হয়েছে। নির্ধারিত ফরমে শর্ত সাপেক্ষে প্রকৃত কৃষকদের কমিটির জন্য আবেদন করতে বলা হলেও এখন পর্যন্ত খুব একটা সাড়া মেলেনি। গত বছরের ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে পিআইসির সদস্য ফরম পূরণ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জমা দিতে বলা হয়েছিল। তবে আবেদনের বিজ্ঞপ্তি জারির পর কৃষকরা এখনও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন জমা দেননি।
উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তিতে পাঁচটি শর্তে সংশোধিত কাবিটা নীতিমালা ২০১৭ অনুযায়ী হাওরের জমির মালিকানা প্রামাণক হিসেবে ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক হাওরের সুবিধাভোগী ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দাদের কমিটির সদস্য হওয়ার জন্য আবেদন করতে বলা হয়। সে ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের নাগরিক সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, সংশ্লিষ্ট মৌজার ম্যাপের ফটোকপি, জমির খতিয়ান পর্চা এবং পিআইসি সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকসহ তিনজনের পাসপোর্ট সাইজের ছবিসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কাবিটা স্কিম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি বরাবর জমা দিতে বলা হয়।
পাউবো সূত্রে জানা যায়, এ অঞ্চলের বোরো ফসল রক্ষায় গত বছরের ১৩ নভেম্বর থেকে উপজেলার জাউয়াবাজার, নোয়ারাই, সিংচাপইড়, দক্ষিণ খুরমা, উত্তর খুরমা ও চরমহল্লা ইউনিয়নের নাইন্দার হাওর, ডেকার হাওর, কাচিভাঙ্গা, বৈঠাখালী ও চাউলির হাওরে বাঁধের কাজের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় সার্ভে কার্যক্রম শুরু হয়। ৬ ডিসেম্বর এসব হাওর এলাকায় শেষ হয় পাউবোর সার্ভে কার্যক্রম। ইতোমধ্যে জেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির এক সভায় পিআইসি গঠন শেষ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের হাওরের বাঁধের কাজ শুরুর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। গণশুনানির মাধ্যমে পিআইসি গঠনের মাধ্যমে ১৫ ডিসেম্বর বাঁধের কাজ শুরু করে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার কথাও জানানো হয়েছে। তবে এবার উপজেলায় হাওরের ফসল রক্ষায় এখনও অনেক পিআইসি গঠন চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়নি। যে কারণে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ নিয়ে শঙ্কিত হাওরপাড়ের স্থানীয় কৃষকরা।
কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি বছরই এলাকার রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে ক্ষমতাসীনরা পিআইসি গঠনে হস্তক্ষেপ করায় সঠিক নিয়মে বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতের কাজ করা সম্ভব হয় না। এ ছাড়া নিয়ম অনুযায়ী পিআইসি গঠনের ক্ষেত্রেও নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা পরিলক্ষিত হয়। প্রকৃত কৃষকরা কমিটিতে থাকলেও তাদের ভূমিকা রাখার সুযোগ সীমিত। অনেক সময় শুধু কমিটিতে থাকার কারণে নানা অনিয়মের দায় কাঁধে নিতে হয়। এমন সব কারণেই পিআইসিতে যুক্ত হওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকরা। এ ছাড়া পাউবোর তৎপরতায় ধীরগতির অভিযোগও করেন তারা।
উপজেলার হাওর বাঁচাও আন্দোলন কমিটির নেতারা জানান, প্রতি বছরই হাওর রক্ষা বাঁধ নিয়ে কৃষকরা দুশ্চিন্তায় থাকেন। যথাসময়ে পিআইসি গঠন ও কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালিত না হওয়ায় বোরো মৌসুমে ঝুঁকির মুখে থাকে কৃষকের ফসল। কাজ সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রকল্প বাস্তবায়ন মনিটরিং কমিটির সভাপতি গোলাম মোস্তফা মুন্না জানান, প্রয়োজনীয় সার্ভে কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। জেলার প্রথম সভায় পিআইসি প্রকল্পের ৯টি স্কিম অনুমোদন করা হয়েছে।




















