লমাধবপুর-চুনারুঘাট

হবিগঞ্জ -৪ : লক্ষ্য চা বাগানের ভোট ব্যাংক

  • প্রকাশের সময় : ২৭/১২/২০২৩ ০২:১০:৪৮ AM

মাহবুব আলী, সায়েদুল হক সুমন

Share
56

শিল্পকারখানা, পাহাড় ও চা বাগান অধ্যুষিত মাধবপুর-চুনারুঘাট উপজেলা নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন হবিগঞ্জ-৪। সিলেট বিভাগের প্রবেশদ্বারখ্যাত ওই আসনটি বরাবরই থাকে আওয়ামী লীগের দখলে। এই দুর্গ জয়ে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর স্থানীয় চা বাগান শ্রমিকদের ভোটব্যাংক। এই ভোট যার, জয় তার।


হবিগঞ্জ-৪ আসনে এবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন টানা দুইবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী। হ্যাটট্রিক বিজয়ের লক্ষ্যে জোরদার প্রচার চলছে তাঁর পক্ষে। এদিকে এই হেভিওয়েট প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্ট আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। ঈগল প্রতীক নিয়ে এই আসনে নৌকার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জোর প্রস্তুতি চালাচ্ছেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক এই নেতা।


এদিকে স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, এই আসনে এই দফায় প্রত্যাশামূলক উন্নয়ন না হওয়ায় এবং এমপি অনুসারী আওয়ামী লীগ নেতাদের একাংশের বিতর্কিত কর্মকণ্ডের কারণে পরিস্থিতি কিছুটা 

জটিল হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগ মনোনীত হেভিওয়েট প্রার্থী মাহবুব আলীর জন্য। এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ব্যারিস্টার সুমন হয়ে যেতে পারেন এমপি সুমন।


স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, হবিগঞ্জ-৪ আসনের ভোটযুদ্ধে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর চা বাগান শ্রমিক গোষ্ঠীর ভোটব্যাংক। স্থানীয় চা শ্রমিকরা বরাবরই আওয়ামী লীগের প্রতি দুর্বল। তাই এবারও এই ভোটব্যাংক নৌকায় তুলতে মরিয়া আওয়ামী লীগ প্রার্থী। অন্যদিকে ক্লিন ইমেজ এবং জনসম্পৃক্ততার কারণে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা স্বতন্ত্র প্রার্থী সুমনের ঈগলও এই ভোটব্যাংকে রেখেছে শ্যেনদৃষ্টি।

বেশ কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অভিজ্ঞতা আর আওয়ামী লীগের দলীয় সমর্থন পক্ষে থাকায় ভালো অবস্থানেই আছেন মাহবুব আলী এমপি। অন্যদিকে ইয়ুথ আইকন সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন দীর্ঘদিন ধরেই এখানকার সাধারণ মানুষের পাশে থেকে উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে। বিশেষ করে গত বন্যায় সৈয়দ সুমনের ভূমিকা ব্যালটে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে, যা আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে বিপদে ফেলতে পারে। তবে বরাবরের মতো এবারও শেষ পর্যন্ত চা বাগানের ভোটেই মিলবে জয়-পরাজয়ের হিসাব।


গোয়াছপুর গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমান সোহাগ জানান, প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নয়ন হয়নি এবার। যার কারণে বর্তমান এমপির প্রতি মানুষের অসন্তুষ্টি রয়েছে। অন্যদিকে ব্যক্তি উদ্যোগে উন্নয়নমূলক কাজ করে সাধারণের সমর্থন নিজের দিকে টানছেন সুমন। দলীয়দের ভোট মাহবুব আলীর ব্যালটে গেলেও তরুণ ভোটারদের ভোট প্রায় একচ্ছত্রভাবেই সুমনের ব্যালটে যাবে।

  

২ নম্বর আহম্মদাবাদ এলাকার আব্দুল জাহির জানান, এই নির্বাচনে মানুষের প্রত্যাশার কিছু নেই। তার পরও সুযোগ থাকায় তুলনামূলক ভালো একজন জনপ্রতিনিধি পাওয়ার প্রত্যাশা তাঁর। সে হিসেবে ব্যারিস্টার সুমনকেই এগিয়ে রাখছেন তিনি।


কলেজ শিক্ষার্থী খাদিজা হারুন বলেন, ‘সর্বমহলে পরিচিত অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী এমপি। তিনি জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে মাধবপুরে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। এবার নির্বাচনে এমপি হিসেবে মাহবুব আলীর বিকল্প নেই।


নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন অভিযোগ করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ প্রার্থী মাহবুব আলী পুলিশ প্রটোকল নিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন। কৌশলে ভয় সৃষ্টি করে ভোটারদের ওপর প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে। যে কারণে উৎসবমুখর নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন ও ভোটের মাধ্যমে ব্যালটেই জয়-পরাজয় নিশ্চিত হবে বলে আশা করছি। নির্বাচন প্রভাবিত না হলে মানুষের ভালোবাসার প্রতিদান দেওয়ার সুযোগ পাব আমি। যদি পাই, এই আমানত খেয়ানত হবে না।’


তবে সুমনের এ অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মাহবুব আলী জানান, ‘পুলিশ প্রটোকল নয়, এটা পুলিশ প্রটেকশন। এই আসনে প্রতিবারই ভোটাররা নৌকায় ভোট দেন। এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না। মানুষ তাঁকেই নির্বাচিত করবেন।’ 


শুধু ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে জয়ের মুখ দেখেছিল বিএনপি। এ ছাড়া পঞ্চম এবং সপ্তম থেকে একাদশ– প্রতিটি নির্বাচনেই এই আসনে জয়ের বন্দরে নোঙর করেছে নৌকা। হিসাব অনুযায়ী ১৯৭০ সালের প্রথম সংসদ নির্বাচন থেকে ২০১৮ সালের একাদশ পর্যন্ত তিনটি নির্বাচন ছাড়া সব ক’টি নির্বাচনে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। মাধবপুরে আওয়ামী লীগের অবস্থান কিছুটা দুর্বল হলেও দলটির দুর্গ হিসেবে বিশেষ খ্যাতি রয়েছে চুনারুঘাট উপজেলার।


নৌকা ও ঈগল ছাড়াও এ আসন থেকে নির্বাচনের মাঠে আছেন আরও ছয় প্রার্থী। তারা হলেন– জাতীয় পার্টির প্রার্থী আহাদ উদ্দিন চৌধুরী, বাংলাদেশ কংগ্রেসের আল আমিন, ইসলামী ঐক্যজোট বাংলাদেশের আবু ছালেহ, বিএনএমের মুখলেছুর রহমান, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের আব্দুল মমিন ও বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক ঐক্যজোটের রাশেদুল ইসলাম খোকন।


প্রতীক পাওয়ার পর থেকে প্রচারে নেমেছেন অন্য প্রার্থীরাও। ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। ইতোমধ্যে ভোটের প্রচার-প্রচারণায় মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলার প্রতিটি এলাকা সরগরম হয়ে উঠেছে। ভোটারদের মাঝেও দেখা গেছে ভোটের উত্তেজনা।


ওই আসনে ৮ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী মাহবুব আলী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সায়েদুল হক সুমন। নির্বাচনের মাঠ বলছে, এ দু’জনের যে কোনো একজনই হতে যাচ্ছেন হবিগঞ্জ-৪ আসনের নতুন জনপ্রতিনিধি। সেক্ষেত্রে মাহবুব আলীর হ্যাটট্রিক নাকি সুমনের প্রথম জয়– সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে জানুয়ারির ৭ তারিখ।



সিলেট প্রেস / ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩/ এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৩-১২-২৭ ০২:১০:৪৮