চুনারুঘাট পৌরসভায় ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ডিসিপি হাইস্কুল এবং মুক্তিযোদ্ধা ভবনসংলগ্ন মরা খোয়াই নদীর ওপর ব্রিজের দুই পাড় এখন ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকার ময়লা-আবর্জনা এনে ফেলা হচ্ছে এ নদীর পাড়ে। ময়লার চাপে এক সময়ের খরস্রোতা মরা খোয়াই নদী এখন মুমূর্ষু।
নদীর পাড়ে ফেলা ময়লার কারণে সেখানকার পরিবেশ নষ্টের পাশাপাশি ক্রমেই বাড়ছে নদীর দূষণ। ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে যাচ্ছে নদীর দুই তীর। ময়লার স্তর এতটাই জমেছে যে নদীতে নামতে রীতিমতো ভয় পাচ্ছেন নদীসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা। এসব ময়লা পানিতে পড়ে প্রকট হচ্ছে নদীর নাব্য সংকট। এছাড়া বাতাসের সঙ্গে মিশছে রোগ-জীবাণু। দুর্গন্ধে স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
এ সব নিয়ে স্থানীয়রা একাধিকবার অভিযোগ জানালেও সমস্যা সমাধানে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। অপরদিকে দীর্ঘদিনেও ময়লা-আবর্জনার আধুনিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব না হওয়ায় বিতর্কের মুখে পড়েছে চুনারুঘাট পৌর কর্তৃপক্ষ। প্রথম শ্রেণির এ পৌরসভার ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট কোনো জায়গা না থাকায় শহরের পাশেই মরা খোয়াই নদীর দুই পাড়ে ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। মাঝে মাঝে সেখানকার ভাগাড়ে আগুন দেওয়ায় ময়লা পোড়া ধোঁয়ায় মানুষের চলাচলে কষ্ট হচ্ছে। পানিতে ময়লা, আবর্জনা মিশে প্রতিনিয়ত হচ্ছে পানিদূষণ।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ডিসিপি স্কুলসংলগ্ন ব্রিজ এলাকার যত ময়লা-আবর্জনা আর বর্জ্য রয়েছে সবই যাচ্ছে নদীতে। বাজারসংলগ্ন রানীগাঁও সড়কের ব্রিজের পাড়কে বানিয়ে ফেলা হয়েছে ভাগাড়। বাজারের কসাইখানার রক্ত, পশুর উচ্ছিষ্ট ও মুরগির নাড়িভুঁড়ি সব নদীর পাড়ে ফেলা হয়। এমনকি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার ময়লা-আবর্জনাও নদীর পাড়ে ফেলা হচ্ছে।
স্থানীয়দের কয়েকজন জানান, বাজার করতে এলে নাকে রুমাল ধরে আসা লাগে। এসব ময়লা-আবর্জনায় রোগ-জীবাণু ছড়াচ্ছে। তাছাড়া প্রকট দুর্গন্ধের কারণে ওই এলাকায় যাওয়া যায় না। বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, একটু বাতাস হলেই ময়লার স্তূপ থেকে কাগজ, পলিথিন ও আবর্জনা উড়ে গিয়ে নদীতে পড়ে। বৃষ্টির সময় ভাগাড়ের ময়লা গিয়ে মেশে নদীতে। স্থায়ী ময়লা ফেলার ব্যবস্থা না থাকায় নদীর তীরেই নিয়মিত ফেলা হচ্ছে ময়লা।
ডিসিপি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সোহাগ মিয়া জানান, দুই সেতুর পাশে গড়ে ওঠা ভাগাড় থেকে প্রতিনিয়ত ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। ফলে দূষণের শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের স্কুলসংলগ্ন নদীর পাড় ও মুক্তিযোদ্ধা ভবনসংলগ্ন মরা খোয়াই নদীর ওপর ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন এ উপজেলার চারটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ পৌর শহরে যাতায়াত করেন। তাদের সবারই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
চুনারুঘাট মরা খোয়াই নদী রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক মাজহারুল ইসলাম জানান, এক সময়ের খরস্রোতা খোয়াই নদীতে নৌকা চলত, জেলেরা মাছ ধরতেন। এটি কালের আবর্তে মরা নদীতে পরিণত হয়েছে। নদীতে মাছ নেই, ময়লা-আবর্জনায় পানি বিষাক্ত হয়ে পড়েছে। এমনকি নদীর দু’পাশ দখল করে গড়ে উঠেছে বাসা-বাড়ি ও দোকানপাট। একদিকে যেমন অবৈধ দখল হচ্ছে, অপরদিকে পৌরসভার ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে এই নদী।
পৌরসভার মেয়র সাইফুল আলম রুবেল জানান, পৌরসভা কর্তৃক বর্তমানে ময়লা ফেলা হয় না। মরা খোয়াই নদীর দুই ব্রিজের পাশে ময়লা-আবর্জনা না ফেলতে পৌরসভার উদ্যোগে সাইনবোর্ডও দেওয়া হয়েছে; যাতে কেউ ময়লার ভাগাড়ে আগুন না দেয় সেদিকেও নজর রাখা হয়েছে। তারপরও কারা ময়লা ফেলছে তা পৌর কর্তৃপক্ষের জানা নেই।
ইউএনও নীলিমা রায়হানা জানান, জনসমাগম ঘটে এমন এলাকায় ময়লা-আবর্জনা ফেলা পরিবেশসম্মত নয়। এ মুহূর্তে নির্বাচনকে সামনে রেখে কিছুই করা যাচ্ছে না। নির্বাচনের পর দ্রুত ময়ল-আবর্জনা অপসারণে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




















