বাংলাদেশের হাওর-বাঁওড় ও নদী-নালায় প্রচুর শামুক পাওয়া যায়। প্রকৃতির অকৃত্রিম বন্ধু এই শামুক বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে হবিগঞ্জের লাখাইয়ের স্বজনগ্রাম ও রুহিতুনশী গ্রামের অন্তত অর্ধশত দরিদ্র পরিবার। পুরোনো এই পেশাকে আঁকড়ে ধরে চলছে তাদের মানবেতর জীবনযাপন।
উপজেলার স্বজনগ্রাম ও রুহিতুনশীর পাশ দিয়েই বয়ে গেছে সুতাং নদী। এ নদী ও পার্শ্ববর্তী হাওরে প্রতিদিন জাল ফেলে শামুক আহরণ করছে ওই গ্রামের বাসিন্দারা। সংসার খরচ জোগাতে যুগ যুগ ধরে এই পেশা ধরে রেখেছে তারা। শামুকের তেমন অর্থমূল্য না থাকায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয় সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোকে।
প্রতিদিন ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় গ্রামবাসীর জীবিকার লড়াই। প্রচণ্ড শীতের মধ্যেও নৌকা ও জাল নিয়ে হাওর-নদীতে ছুটতে হয় তাদের। দুপুরের আগ পর্যন্ত নৌকার খোলে শামুক জমা করে তারা বাড়ি ফেরে। প্রতিদিন এসব শামুক হাঁসের খামারিদের কাছে বিক্রি করে প্রত্যেকে গড়ে ৪-৫শ টাকা আয় করে। এতে কোনো রকমে তাদের সংসার চলে। ছেলেমেয়ের পড়াশোনা ও সংসারের খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হয় তাদের।
রুহিতুনশী নোয়াহাটি গ্রামের বাসিন্দা রাধু চন্দ্র দাস জানান, গত ১০ বছর ধরে তিনি শামুক বিক্রি করে সংসারের খরচ জোগাচ্ছেন। প্রতিদিন শামুক বিক্রি করে তাঁর আয় হয় ৫-৬শ’ টাকা। কিন্তু এখন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে এই আয় দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিবার নিয়ে ভালোভাবে জীবন যাপন করা করা যায় না।
একই গ্রামের বাসিন্দা গৌর দাস জানান, তাদের গ্রামের ৫০-৬০টি পরিবার এ পেশার সঙ্গে জড়িত। আগে শামুক বিক্রি করে তাদের সংসার চললেও এখন সে অবস্থা নেই। কারণ হাওর, নদীতে পর্যাপ্ত পরিমাণে শামুক পাওয়া যায় না। অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে তাদের দিন কাটছে।
সুমন দাস, নয়ন মিয়া ও জলিল মিয়া জানান, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না থাকায় অনেকটা তারা বাধ্য হয়ে শামুক সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। সরকারের কাছে বিকল্প কর্মসংস্থানের দাবি জানান তারা।
হবিগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওয়াহিদুর রহমান মজুমদার বলেন, এসব জেলে পরিবার যাতে নিজস্ব জলাশয়ে শামুক চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে সে ব্যাপারে তাদের সহায়তা করা হবে। তিনি এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করবেন।
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক




















