সুনামগঞ্জের ভারতীয় সীমান্তবর্তী উপজেলা ছাতক ও দোয়ারাবাজার। সীমান্তের ওপারেই ভারতের মেঘালয় রাজ্য। দুই উপজেলার সীমান্ত এলাকা চোরাকারবারিদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। সীমান্ত পথে প্রতিদিন প্রায় কোটি টাকার পণ্য অবৈধ পথে আমদানি-রপ্তানি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ জন্য ছাতকের এক ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে শক্তিশালী চোরাচালানি চক্র গড়ে ওঠার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সুরমা নদীতে সেতু নির্মিত হওয়ায় দোয়ারাবাজার উপজেলার সঙ্গে ছাতকের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বর্তমানে সীমান্ত চোরাচালান কারবার বেড়েছে। ছাতকের ছোট-বড় শতাধিক ব্যবসায়ী চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িত। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে চোরাকারবারিদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষার কাজ করেন বুলবুল মিয়া নামে এক ইউপি সদস্য। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী, থানা পুলিশসহ সবাইকে ম্যানেজ করে নির্বিঘ্নে চলছে চোরাচালান কারবার।
ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত পথ দিয়ে ভারত থেকে নিয়ে আসা হচ্ছে মদসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক, কসমেটিকস, শাড়ি, চিনি, গরু-মহিষ, আগ্নেয়াস্ত্র প্রভৃতি। অন্যদিকে দেশ থেকে পাচার করা হচ্ছে হাওরাঞ্চলের পুকুরে চাষ করা শিং-মাগুরসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ। চোরাই পথে মাছ ভারতে পাচার হওয়ায় স্থানীয় বাজারগুলোতে মাছের সংকট দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। মাঝেমধ্যে সীমান্তরক্ষী বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) হাতে মাদকসহ বিভিন্ন পণ্য জব্দ হলেও চোরাকারবারি চক্রের লাগাম টানা যাচ্ছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দোয়ারাবাজার উপজেলার বোগলা ইউপির বাগানবাড়ী, গাছগড়া, (মোকামবাড়ী), লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের ভাঙ্গাপাড়া, মাঠগাঁও, নরসিংপুর ইউপির শ্রীপুর, সামারগাঁও এবং বাংলাবাজার ইউপির কলাউড়া, বাঁশতলা (কলোনি), প্যাকপাড়া ও ঝুমগাঁও সীমান্ত এলাকায় চোরাকারবারি চক্রটি বেশি সক্রিয়। এসব এলাকায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অন্তত এক হাজার বাসিন্দা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। বোগলাবাজার ইউনিয়নে প্রতি বৃহস্পতিবার জমে বর্ডারহাট। ওই দিন চোরাচালান পণ্য আদান-প্রদান অনেকটাই বেড়ে যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিন দুই উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বাংলাবাজার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মাছ রাখার হাউস রয়েছে। এসব হাউসের পানিতে জিইয়ে রাখা হয়েছে দেশীয় প্রজাতির মাছ। সন্ধ্যার পর ড্রামের ভেতরে মাছসহ পানি ভর্তি করে নিয়ে ট্রাকে ভারতের উদ্দেশে নেওয়া হয়।
সুবিধাজনক সময়ে সীমান্তে অবস্থানরত শ্রমিকরা সেখান থেকে মাছ ভর্তি ড্রাম পৌঁছে দেয় ভারতীয় ট্রাকে। এই এলাকায় চোরাচালান চক্র নিয়ন্ত্রণ করেন ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য বুলবুল মিয়া। চোরাকারবারিদের গডফাদার হিসেবে এলাকায় তাঁর পরিচিতি রয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য বুলবুল মিয়া বলেন, তিনি আগে চোরাচালান ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। তখন প্রচুর অর্থ উপার্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত নন।
দোয়ারাবাজার থানার ওসি বদরুল হাসান বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন ট্রাকে বিভিন্ন এলাকায় দেশীয় প্রজাতির মাছ সরবরাহ করা হয়। তবে ভারতে পাচারের বিষয়টি তাঁর জানা নেই। খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুনামগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (ছাতক সার্কেল) রণজয় চন্দ্র মল্লিক বলেন, চোরাচালান প্রতিরোধে থানা পুলিশ সব সময় তৎপর রয়েছে। দেশ থেকে মাছ পাচারের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




















