তাহিরপুরে কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতা পেঁয়াজ চাষিদের ক্ষোভ

  • প্রকাশের সময় : ১৩/১২/২০২৩ ০৩:৩৮:৩৮ AM

তাহিরপুরের বাদাঘাট ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামে পেঁয়াজের চারা রোপনে ব্যস্ত কৃষক

Share
71

গতবারের চেয়ে চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জ এলাকায় পেঁয়াজের চাষ বেড়েছে প্রায় তিন গুণ। আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশি পেঁয়াজের বাজার বাড়ানোর ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি ইতিবাচক বলে  মনে করছেন স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

কৃষকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, গত মৌসুমে সুনামগঞ্জ অঞ্চলের ১০ শতাংশ জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছিল। এবার অন্তত ৩০ শতাংশ জমিতে পেঁয়াজের চাষ করেছেন চাষিরা। পেঁয়াজের বাজারে চলমান অস্থিতিশীলতার কথা মাথায় রেখে তারা দেশি পেঁয়াজের চাষ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানান। তবে প্রান্তিক কৃষকরা এমন ভাবলেও সেখানে কৃষি কর্মকর্তাদের তৎপরতা নেই।

তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক শফিক মিয়া জানান, চলতি মৌসুমে পেঁয়াজের চাষ করেছেন গতবারের চেয়ে তিন গুণ বেশি জমিতে। বীজসহ ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ হবে তাঁর। গতবার ২০ মণ পেঁয়াজ বিক্রি করেছিলেন। এবার ৬০ মণ পেঁয়াজ বিক্রির আশা তাঁর। তবে কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা না পাওয়ায় হতাশার কথা জানিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, গেল বছরও কৃষি দপ্তরের কেউ কৃষকদের পাশে ছিলেন না। এবারও একই দৃশ্য। কৃষি দপ্তর থেকে টোকেনের মাধ্যমে কৃষকদের সার পাওয়ার ব্যবস্থা আছে– সেই তথ্যও জানতে হয় অন্যদের কাছ থেকে।

স্থানীয় পেঁয়াজচাষি নুরুল আমিন জানান, গেল বছর পেঁয়াজ চাষ করে লাভবান হয়েছেন। তাই এবার কিছুটা বেশি জমিতে পেঁয়াজ লাগিয়েছেন। চারা এখন রোপণের উপযোগী হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই চারা তুলে জমিতে রোপণ শুরু হবে।

কৃষক তাহের মিয়া জানান, এলাকায় পেঁয়াজের চাষ এবার বেড়েছে। বাজারে পেঁয়াজের দাম দেখে কৃষকদের পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। চান্দু মিয়া জানান, ১৫ শতাংশ জমিতে পেঁয়াজ চাষ করছেন। কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা পেলে কৃষকদের উপকার হতো। তবে তাদের কেউ একবারের জন্যেও মাঠে আসেননি।

বাদাঘাট বাজারের বীজ ব্যবসায়ী আলী নূর মিয়া জানান, সীমান্ত এলাকার মাটি পেঁয়াজ চাষের উপযোগী হওয়ায় এবার পেঁয়াজের চাষ বেড়েছে। বাদাঘাট ইউনিয়নের কাশতাল, বারহাল ও পৈলনপুর এলাকায় এবার পেঁয়াজের চাষাবাদ বেশি হচ্ছে। রাজশাহী ও ভৈরব থেকে পেঁয়াজ বীজ এনে এখানে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।

নূর মিয়া জানান, গেল মৌসুমে ২০ বস্তা পেঁয়াজের বীজ এনে বিক্রি করছিলেন। এবার ৭০ বস্তা পেঁয়াজের বীজ এনেছেন। এবার কমপক্ষে ২৫০ বস্তা পেঁয়াজ বীজ বিক্রির লক্ষ্য এই বাজারের বীজ ব্যবসায়ীদের।

তবে কৃষকদের অভিযোগ থাকলেও তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসানুদ্দৌলা জানান, এখানকার কৃষকরা পাঁচ-দশ শতাংশের বেশি জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেন না। এবার সেটা বেড়েছে। তাহিরপুরে এবার ৭৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষ হয়েছে বলেও জানান তিনি। সেই বিষয়ে তাদের পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষি দপ্তরের কর্মকর্তা।

বাদাঘাটের কৃষকদের অভিযোগের ব্যাপারে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারার ভাষ্য, হাওরাঞ্চলে বোরোর প্রণোদনা বিতরণের কাজে ব্যস্ত থাকায় কৃষকদের খবর নেওয়া হয়নি। তবে তারা যোগাযোগ করলে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

জেলা কৃষি কর্মকর্তা বিমল চন্দ্র সোম জানান, বাণিজ্যিকভাবে পেঁয়াজ চাষ এই জেলায় কম হয়। পেঁয়াজ চাষের উপযোগী জমি আছে এখানে। এই বছর জেলার ১১ উপজেলা মিলে ২৮০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষ করেছেন কৃষকরা। তাতে ২০০০ টন পেঁয়াজ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।


সিলেট প্রেস / ১৩ ডিসেম্বর ২০২৩/ এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৩-১২-১৩ ০৩:৩৮:৩৮