অবকাঠামোগত উন্নয়নের একাধিক প্রকল্পের বাস্তবায়নে বদলে গেছে হবিগঞ্জের বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলার চিত্র। এ দুটি উপজেলার আধুনিকায়নের পাশাপাশি জনসেবার মান বাড়াতে নেওয়া এসব প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়িত হওয়ায় আনন্দিত স্থানীয়রা।
গত ১৫ বছরে প্রায় ২ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বদলে গেছে এখানকার জনপদ। এরমধ্যে ১১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে শরীফ উদ্দিন সড়ক, ৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ ভায়া শিবপাশা সড়ক ও ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বানিয়াচং-নবীগঞ্জ সড়ক এ অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আজমিরীগঞ্জ উপজেলাকে শতভাগ ও বানিয়াচং উপজেলাকে ৮৫ ভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় আনায় পরিবর্তন এসেছে দৈনন্দিন জীবনে।
আঞ্চলিক সড়কগুলোর মধ্যে হবিগঞ্জ-বানিয়াচং আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নীতকরণসহ ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে আজমিরীগঞ্জ- কাকাইলছেও এবং আজমিরীগঞ্জ-পাহাড়পুর সড়ক। ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বানিয়াচং আদর্শবাজার থেকে আজমিরীগঞ্জ পাহাড়পুর বাজার পর্যন্ত নির্মিত হয়েছে আধুনিক ডুবন্ত সড়ক নির্মাণ। বানিয়াচং খাগাউরা থেকে দুলিয়া-গুনই-বড়ইউড়ি ভায়া বানিয়াচং কাগাপাশা উন্নয়নের ব্যয় ২০ কোটি টাকা। ৭ কোটি টাকা মাকুর্লীবাজার-করচা-তেলগড়ি-কবিরপুর ভায়া পাহাড়পুর সড়ক নির্মাণে ও ১৫ কোটি ইকরামবাজার-কুমড়ী-দুর্গাপুর সড়ক নির্মাণ এসব বাস্তবায়িত প্রকল্পের মধ্যে অন্যতম। এ এলাকায় এখন পর্যন্ত ৬১টি ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণের মাধ্যমে জনপদের বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন এলাকাকে যুক্ত করা হয়েছে। এতে চলাচল ও কৃষিপণ্য পরিবহনে গতি এসেছে।
অবহেলিত এ এলাকার শিক্ষার্থীদের শহর নির্ভরতা কমেছে। বেড়েছে বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ। দুই উপজেলার ১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানে ১৪০টি নতুন ভবন করা হয়েছে। দুটি কলেজ ও একটি মাধ্যমিক স্কুলসহ দুটি উপজেলায় ৬৮টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি হয়েছে। ১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন ও ৬টি নতুন প্রাইমারি স্কুল স্থাপন করা হয়েছে। চালু করা হয়েছে সুফিয়া মতিন মহিলা কলেজ ও শচীন্দ্র ডিগ্রি কলেজে স্নাতক পাঠের কার্যক্রম।
স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল মজিদ খান জানান, সরকারের পরিকল্পনায় অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আধুনিক জীবন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। এ অঞ্চলে সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও জনসেবামূলক কার্যক্রম ধারাবাহিক থাকায় লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জের মানুষের জন্য রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার চেষ্টা করছেন তিনি।




















