বাজারে অচল স্বল্প আয়ের মানুষ

  • প্রকাশের সময় : ১৩/১২/২০২৩ ০৩:১৯:১৯ AM

মৌসুমি সবজির মজুদ থাকলেও ক্রেতা নেই। ছবিটি ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ বাজার থেকে তোলা

Share
62

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি :: দুর্মূল্যের বাজারে জীবনধারণ জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে সাধারণ মানুষের। এমন পরিস্থিতিতে শহরতলি ও প্রান্তিক অঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। দৈনিক আয়ে সংসার চালান-এমন মজুর শ্রেণির ভাষ্য, দিন শেষে তাদের যে উপার্জন তা এই বাজারে অচল।

এমনই সংকটে দিশেহারা ছাতক পৌরসভার দক্ষিণ বাগবাড়ি এলাকার রাজমিস্ত্রি ইব্রাহিম মিয়া জানান, সারাদিন রাজমিস্ত্রির কাজ করে আয় হয় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। এই টাকায় পরিবারের পাঁচ সদস্যের জন্য প্রতিদিনের তিন বেলা খাবার জোটানো প্রায় অসম্ভব হয়ে গেছে। বাজারে গেলে একেবারে কম খরচে দুই বেলা খাওয়ার মতো সদাইও কেনা যায় না। সংসারের অন্যান্য খরচের কথা তো বাদই।

তার মধ্যে সব সময় কাজ থাকে না। সন্তানদের পড়ালেখা বন্ধ হওয়ার পথে। ইব্রাহিম মিয়া বলেন, ‘বাচ্চাদের পড়ালেখা করাইতে পারতাছি না। পরিবারের জন্য মাসে ওষুধ খরচ যায় হাজার টাকা। শেষ কবে ছেলেমেয়েদের মুখে ভালো খাবার দিতে পারছি মনে নাই। সপ্তাহে দুই-একদিন মাছ খাইলেও মাংসের কথা চিন্তাও করি না। তিন-চার দিন আলু ভর্তা-ভাত খাওয়ার ব্যবস্থা করতেও মাঝে মাঝে কষ্ট হইয়া যায়।’

ছাতকের এই অঞ্চলে ইব্রাহিমের মতো সুরমা ও চেলা নদীর তীরে অর্ধশতাধিক পাথর ভাঙার ক্রাশার, বালুর মিল, নদীতে নোঙর করা বাল্কহেড ও ইঞ্জিন নৌকায় কাজ করা দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষের সংখ্যাই বেশি। সংকটের এমন চিত্র প্রতিটি পরিবারে। দিন-রাত পরিশ্রম করেও শুধু খাওয়া-পড়ার খরচ জোটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

স্থানীয় একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষিকা শিরিন বেগম জানান, সংসারের আয় বাড়েনি; অথচ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে ব্যয় বাড়ছে প্রতিদিনই। চাহিদা মতো এখন আর বাজার করা যায় না।

স্থানীয় বাজারগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিত্যপ্রয়োজনীয় অধিকাংশ পণ্যের দাম প্রকার ভেদে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। কাটারিভোগ ও নাজিরশাইল চালের কেজি সেখানে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা। এ ছাড়া বিআর-২৮ চাল ৫২ থেকে ৫৬, মোটা চাল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। খোলা আটা ৫৬ টাকা ও প্যাকেট আটা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬২ টাকা কেজিতে।

সয়াবিন তেল গত সপ্তাহে ছিল প্রতি লিটার ১৬৯ টাকা। সপ্তাহ না ঘুরতেই কেজিতে দাম বেড়েছে ৪ টাকা। আর খোলা তেলের তো দেখাই নেই। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৬৫ থেকে ১৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া সোনালি ও কক মুরগির কেজি ৩৩০ টাকা, গরুর মাংস ৭৫০ ও খাসি ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি। এসবের বাইরে সবজি, মসলা, দুধসহ প্রতিটি জিনিসের দাম বেড়েছে অপ্রত্যাশিত হারে।

বাজারের মুদিমালের ব্যবসায়ী হাসান মিয়া জানান, তারা খুচরা দোকানদার। সিলেট থেকে মাল কিনে আনেন। বড় আড়তদাররা মালের যে দাম রাখেন, সে হিসাবেই তাদের বিক্রি করতে হয়। পাইকারি পর্যায়ে দাম নিয়ন্ত্রণে থাকলে খুচরা বাজার স্থিরতিশীল থাকে। বাজার মনিটরিংয়ের কাজ অধিকাংশ ক্ষেত্রে  চলে স্থানীয় বাজারগুলোতে। এসব ব্যবসায়ী বাজার নিয়ন্ত্রণ করেন না। তবে পণ্যের দাম বেশি হলে তাদেরই শাস্তি পেতে হয়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইসলাম উদ্দিন জানান, নিত্যপণ্যের দাম তদারকির জন্য বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। এরই মধ্যে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নির্ধারিত সীমার মধ্যেই রাখতে হবে।

স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ভাষ্য, প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষও এখন বিশ্ববাজারের খবর রাখে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেশের বাজারে ভোগান্তি দিচ্ছে সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকা অসাধু ব্যবসায়ীদের চক্র। যেখানে নিয়ন্ত্রণ করা দরকার সিন্ডিকেট, সেখানে ব্যস্ততা বাজার নিয়ন্ত্রণে।


সিলেট প্রেস / ১৩ ডিসেম্বর ২০২৩/ এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক

সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০২৩-১২-১৩ ০৩:১৯:১৯