ভবনের নিচ থেকে সরে যাচ্ছে মাটি। একাধিক কক্ষের মেঝে ও দেয়ালে ফাটল ধরেছে। ধসে গেছে মেঝের ঢালাই। খসে গেছে বারান্দার পলেস্তারা। এক বছর ধরে এই ভোগান্তি সয়ে নিয়েই চলছে ধর্মপাশার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যক্রম। বারবার বলেও দুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্টদের সাড়া পাচ্ছে না সেখানে কর্মরতরা।
জানা যায়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে নির্মিত দ্বিতলবিশিষ্ট সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউপি কমপ্লেক্সটিতে কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৬ সালে। এরই মধ্যে ভবনের ১৪টি কক্ষের মধ্যে ১০টির মেঝে অনেকটাই ধসে গেছে। অধিকাংশ জানালা ভাঙা। চারটি টয়লেটের কোনোটিই ব্যবহারের উপযুক্ত নয়। বারান্দা আর কক্ষের দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে প্রতিদিন। প্রতিরক্ষা দেয়াল না থাকায় প্রতি বর্ষায় ভবনের নিচ থেকে সরে যাচ্ছে মাটি। এই ভবনেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। একাধিকবার বলার পরেও ভবন সংস্কারে উদ্যোগ নেয়নি এলজিইডির কোনো সাড়া নেই বলে জানিয়েছেন সেখানে আসা একাধিক ইউপি সদস্য।
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রবিউল মিয়া জানান, এই ইউনিয়ন পরিষদে বসার মতো কোনো পরিবেশ নেই। মানুষ কাজ করবে কীভাবে? সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোকাররম হোসেন জানান, বারান্দায় বসে দাপ্তরিক কাজ করতে হয়। দরজা-জানালা ভাঙা। সভাকক্ষ ভেঙে গেছে। ইউপি কমপ্লেক্সই যদি ধুঁকতে থাকে তবে সাধারণ মানুষ ভোগান্তি লাঘবের আশায় কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? এলজিইডিতে বারবার বলা হয়েছে। কোনো লাভ হয়নি।
তবে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহাবউদ্দিন জানান, ইউপি ভবনটি মেরামতের জন্য প্রাক্কলন প্রস্তুত করা হয়েছে। যা দ্রুত সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হবে।
ইউএনও মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন জানান, এ ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। দ্রুত মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। মানুষের সেবা প্রদানের স্থান উন্নত না হলে সেবার মান উন্নত করা অসম্ভব।




















