সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী মুহিবুর রহমান মানিক ও শামীম চৌধুরী। আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও চারবারের এমপি মানিক এবারও আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়বেন। অন্যদিকে, জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক শামীম লড়বেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। ইতোমধ্যে এই আসনে নির্বাচনী উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। শুরু হয়েছে শক্তির লড়াই। প্রার্থী ও সমর্থকরা একে অপরের বিষোদ্গারও শুরু করেছেন। তবে দুই নেতার সমর্থকরাই বলছেন, ভোট সুষ্ঠু হলে বিজয় তাদেরই হবে।
ছাতক-দোয়ারাবাজার আসনে মুহিবুর রহমান মানিক ও শামীম চৌধুরীর চাচা সুজন মিয়া চৌধুরীর পরিবারের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। ৩২ বছর আগে ১৯৯১ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সুজন চৌধুরীকে হারিয়ে মানিক জয়ী হলে এই দ্বন্দ্বের শুরু হয়।
মানিক সমর্থকদের অভিযোগ, ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী সুজন পরিবারের সদস্যরা জোটের প্রার্থীর প্রকাশ্য বিরোধিতা করেছে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করে গণতন্ত্রী পার্টির মুহিবুর রহমান মানিক আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হয়ে জাতীয় সংসদে লড়েন ওই নির্বাচনে। স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সুজন মিয়া চৌধুরীর পরিবারের সদস্যরা ওই সময় মানিকের প্রকাশ্যে বিরোধিতায় নামেন। এ কারণে নির্বাচনেও হারেন মানিক। এই বিরোধিতা প্রায় ৩০ বছর ধরে টেনে নিচ্ছেন সুজনের ভাতিজা ছাতক পৌর মেয়র কালাম চৌধুরী ও শামীম চৌধুরী।
১৯৯৬ সালের নির্বাচনেও দলের প্রার্থী মানিকের পক্ষে নামেননি কালাম ও শামীম। ২০০১ সালের নির্বাচনেও তাদের পাশে পাননি। ২০০৮ ও ২০১৪ সালে সরাসরি বিরোধিতা না করলেও একসঙ্গে ভোটের মাঠে দেখা যায়নি দু’পক্ষকে। একইভাবে ছাতক পৌরসভার টানা চারবারের নির্বাচনে আবুল কালাম জয়ী হলেও মানিকের সহযোগিতা পাননি। এই দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব-সংঘাতে হামলা, মামলা, সংঘর্ষ হয়েছে অনেকবারই। ছাতক আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মসূচি করতে পারছে না ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কমিটিও আছে দুটি।
ছাতক উপজেলার ১৩ ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দুই পক্ষেই বিভক্ত থাকেন প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে। এবারও ছাতকের আওয়ামী লীগের নির্বাচিত ১১ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের মধ্যে মানিকের পক্ষে আটজন এবং শামীমের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন তিনজন। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান আছেন মুহিবুর রহমান মানিকের পক্ষে। শামীম চৌধুরীর ভাই ছাতক পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী এখনও প্রকাশ্যে প্রচারে নামেননি।
দোয়ারাবাজার উপজেলায়ও একই অবস্থা। দলের সাত ইউপি চেয়ারম্যানের চারজন মানিকের পক্ষে এবং তিনজন নেমেছেন শামীমের পক্ষে।
জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে স্বতন্ত্র প্রার্থী শামীম চৌধুরী বলেন, মুহিবুর রহমান মানিক যতবারই এমপি নির্বাচিত হয়েছেন আমার কাঁধে ভর করে নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১৮ সালে আমি পক্ষে না থাকলে তাঁর পরাজয় হতো। এবার আমি শেখ হাসিনার নির্দেশে ভোটে এসেছি। মানিক প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টায় আছেন।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুহিবুর রহমান মানিক বলেন, ভোটের মাধ্যমে জবাব দেবেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ ভোটাররা। একটি বৃহৎ দলের সঙ্গে শামীম চৌধুরী লড়ছেন। অর্থাৎ দলের সঙ্গে ব্যক্তির লড়াই। এর আগেও তারা ১৯৯১ সালের নির্বাচনে নৌকার বিরোধিতা করে পান পাতা প্রতীকে, ১৯৯৬ সালে নৌকার বিরোধিতা করে লাঙ্গলে এবং ২০০১ সালে ধানের শীষের পক্ষে ছিলেন। তারা আমাকে আওয়ামী লীগ শেখালে, দলের তৃণমূলের কর্মীরাই এর জবাব দেবেন।




















