সুনামগঞ্জে শিশু তোফাজ্জল হত্যা: চাচাতো ভাইয়ের যাবজ্জীবন

  • প্রকাশের সময় : ০৭/১১/২০২৩ ০৯:২০:২৪ AM

ছবি-সংগৃহীত

Share
49

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাঁশতলা গ্রামের আলোচিত শিশু তোফাজ্জল হত্যা মামলায় সারোয়ার হাবিব রাসেল নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে সুনামগঞ্জ দায়রা জজ মো. হেমায়েত উদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত সারোয়ার হাবিব রাসেল তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় রাসেল পলাতক ছিলেন।

জানা যায়, ২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি বিকেলে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের বাঁশতলা গ্রামের জুবয়ায়েল হোসেনের ৭ বছর বয়সী শিশু সন্তান তোফাজ্জল হোসেন। তোফাজ্জল ছিলেন স্থানীয় বাঁশতলা দারুল হেদায়াত হাফিজুল উলুম মাদরাসাস ও এতিমখানার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। নিখোঁজের দুই দিন পর শিশু তোফাজ্জলের মুক্তিপণ হিসেবে ৮০ হাজার টাকা চেয়ে একটি চিরকুট বসতঘরের দরজায় ফেলে যায় কে বা কারা। দিনমুজর পরিবার উল্লেখিত টাকা প্রদানে অপরগতায় পুলিশকে অবগত করলে পরদিন বাড়ির সামনে বস্তাবন্দী অবস্থায় শিশু তোফাজ্জলের রক্তাক্ত লাশ ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা। রোমহর্ষক ক্লু-লেস হত্যাকাণ্ডে নড়েচড়ে বসে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।

নিহত শিশু তোফাজ্জলের বাবার করা মামলায় তথ্যপ্রযুক্তির সহযোগিতায় নির্ভরশীল তথ্যের ভিত্তিতে ভিকটিমের বসতঘর ও প্রতিবেশীদের বাড়ি তল্লাশি করে পুলিশ। তল্লাশির এক পর্যায়ে বাদীর দূর সম্পর্কে ভাই হাবিবুর রহমানের বসতঘরের আলমারি থেকে রক্তমাখা ছুরি, জামাকাপড়সহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে হাবিবুর রহমানের ছেলে সারোয়ার হাবিব রাসেলকে গ্রেপ্তার করলে আদালতের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধী প্রদান করে সে। এই ঘটনায় দীর্ঘদিন জেলে থাকার পর জামিনে মুক্তি পেয়ে আত্মগোপনে চলে যায় অভিযুক্ত রাসেল।

দীর্ঘ শুনানি সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে মঙ্গলবার এই মামলার রায় ঘোষণা করেন বিচারক। রায়ে সারোয়ার হাবিবকে হত্যার অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও লাশ গুম করে রাখার অপরাধে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত।

মামলার রায়ে সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছেন শিশু তোফাজ্জালের বাবা জুয়েল হোসেন।

এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায় বিচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে জানিয়ে সন্তুষ্ট প্রকাশ করেন বাদী পক্ষের আইনজীবী নাসিরুল হক আফিন্দী।


সিলেট প্রেস / ৭ নভেম্বর ২০২৩/এএ


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক

সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০২৩-১১-০৭ ০৯:২০:২৪