পর্যটকদের উদ্বেগ

টাঙ্গুয়ার হাওরে হাউস বোটে একের পর এক চুরি

  • প্রকাশের সময় : ২৪/০৯/২০২৩ ১২:১৬:১৬ PM

টাঙ্গুয়ার হাওরে হাউস বোটে একের পর এক চুরি

Share
70

অরক্ষিত পর্যটন স্পষ্ট টাংগুয়ার হাওর। সেখানে নেই নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা। সেই সাথে হাওরে আগত পর্যটকদের পরিবহনকারী হাউজবোডের দায়িত্বশীলদের দায়িত্বহীনতায় প্রায় প্রতি রাতেই মূল্যবান জিনিসপত্র চুরির ঘটনা ঘটেছে। এরপরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না,তেমনি হাউজবোডের দায়িত্বশীলরাও তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে না। এভাবে চলতে থাকলে আগত পর্যটকরা হাওরে আসতে নিরোৎসাহিত হবে।

যার ফলে পর্যটকবাহী ৫০টি অত্যাধুনিক হাউজ বোটসহ প্রায় ২শত হাউজ বোটে গত ৫ বছরে শতাধিক চুরির ঘটনায়(আইফোন,স্বর্নালংকার, ডিএসএলআর ক্যামেরাসহ)কোটি টাকার বেশি মূল্যবান বিভিন্ন মালামাল চুরির ঘটনা ঘটেছে।আর বেশির ভাগ চুরির ঘটনা ঘটেছে হাউজবোডে ভোর রাতে। 

এসব চুরির ঘটনায় থানায় দু একটি মামলা হলেও জিডি করা হয়েছে আর বেশির ভাগ পর্যটকগন চুরি যাওয়ার ঘটনা মুখভোজে ক্ষতি মেনে চলে যাচ্ছেন। 

সচেতন মহল বলছেন,টাঙ্গুয়ার হাওরে শত শত পর্যটকবাহী বোটের মালিকরা পর্যটকের কাছ থেকে ৭-৮ হাজার টাকা নেন জন প্রতি। এর বিনিময়ে একরাত দুদিন থাকা ও খাবারের ব্যবস্থা করে। আর প্রতি বোটে ২০-২৫জন পর্যটকের জন্য একজন নিরাপত্তা কর্মীর ব্যবস্থা তাদের ই রাখার দায়িত্ব। এভাবে অদায়িত্বশীল আচরণ ও তাদের অবহেলায় পর্যটন খাত ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্নাম হবে তা মানা যায় না। পর্যটকবাহী বোট মালিকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। 

খোঁজ নিয়ে জানাযায়,চলতি বছরের ৮সেপ্টেম্বর জলকুমারী নামের হাউজ বোটে চুরির ঘটনা ঘটেছে। ১২ই আগষ্ট হাওরে বেড়াতে গিয়ে জলবাড়ি মহারাজ হাউজবোড থেকে গ্রামীনফোনের সিও ইয়াসির আজমানের আই ফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র জিম্মি করে নিয়ে যায় ডাকাত দল এঘটনায় তাহিরপুর থানায় ডাকাতির মামলা হয়েছে। ১৮সেপ্টেম্বর ট্যাকেরঘাট এলাকায় মায়াবতী হাউজ বোডে থাকা পর্যটকদের কাছ থেকে ৫লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়েছে। এছাড়াও একেই দিনে আরও ৫ টি হাজবোডে ৩-৪লাখ টাকা মালামাল চুরির ঘটনা ঘটেছে। একেই দিনে বর্ষা নামের হাউজবোটের একজন পর্যটকের আই ফোন চুরি হয়েছে। সারাদিন আইফোনটি চালু থাকলেও আইফোনটি উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এর মধ্যে সপ্তাহ্ খানেক পূর্বে জলকুটির নামের একটি হাউজ বোটে চুরির হয়। 

সম্প্রতি চুরি যাওয়া একটি দামি ক্যামেরাসহ একজন চোরকে কয়েকদিন আগেও আটক করে তাহিরপুর থানা পুলিশ। এছাড়াও তাহিরপুর থানা পুলিশ চুরির ঘটনায় একাধিক বার হাউজ ও নৌকা আটক করে। ২০১৫-১৬ সালের পূর্বে চুরির ঘটনা না ঘটলেও এর পর থেকে গত ৫ বছরে বেড়েছে চুরির ঘটনা।

এদিকে আগত পর্যটকরা উৎবেগ আর উৎকণ্ঠা মধ্যে রয়েছেন। তারা বলছেন বেড়াতে এসে যদি নিরাপত্তা না থাকে জিনিসপত্র চুরি হয় তাহলে আবারও তারা আসবেন কি না দ্বিতীয় বার চিন্তা করবেন। 

ঢাকা থেকে আসা মায়াবতী হাউজবোডের পর্যটক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান,আমরা পারিবারিক টুরে টাংগুয়ার হাওরে বেড়াতে এসেছিলাম। বেড়ানোর পর ট্যাকেরঘাট এলাকায় নৌকায় রাতে ঘুমানোর আগে নৌকার দায়িত্বশীলদেরকে জিজ্ঞেসা করি নৌকায় কোনো চুরি হওয়ার আশংকা আছে কি। তারা বলেছে না,কারন তারা নিরাপত্তা দিবে আর রাত জেগে পাহাড়ায় থাকবে। পরে ঘুমাতে যাই সবাই। কিন্তু সকালে উঠে দেখি আমাদের কাপড়ের ব্যাগ মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিস পত্র কিছুই নেই। আরও ৫ টি পর্যটকের নৌকায় চুরি হয়েছে। পরে বিষয়টি তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত্য কর্মকর্তা সৈয়দ ইফতেখার হোসেন কে অবগত করা হলে প্রথমে কোনো সহযোগিতা না করলেও পরে আমরা ঢাকায় জানানোর পর বিভিন্ন মাধ্যমে উনার কাছে ফোন আসার পর একটি জিডি করা হয়। কিন্তু জিডিতে মুল বিষয়টি না আসায় সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করা হলে এডিশনাল এসপি,সদর থানা পুলিশ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মায়াবতী হাউজবোডের চালকসহ নৌকাটিকে আটক করে। এরখম হলে আমাদের এই হাওরে বেড়াতে আসার চিন্তাও করব না। আর আমাদের মত অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নিবেন।এবিষয়ে মায়াবতী হাউজবোডসহ বিভিন্ন হাউজবোডের দায়িত্বশীল কারো সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ সুপার মোঃ এহসান শাহ জানান,কঠোর অবস্থানে আমরা আছি। একজন পর্যটকও হাওরে বেড়াতে এসে হেনস্থার শিকার না হয় তার জন্য সবাইকেই খেয়াল রাখতে হবে। বিশাল টাঙ্গুয়ার হাওর শত শত পর্যটকবাহী নৌক রয়েছে সেগুলো পুলিশের টহল দলের পক্ষে দেখভাল করা কঠিন। এরপরও আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।


সিলেট প্রেস / ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩/এএ


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৩-০৯-২৪ ১২:১৬:১৬