জামালগঞ্জ হতে পারে ভ্রমন পিপাসুদের জন্য আনন্দের নতুন দিগন্ত

  • প্রকাশের সময় : ০২/০৮/২০২৩ ০২:২৭:৪০ AM

Share
92

ভ্রমন পিপাসুদের জন্য হাওর বেষ্টিত জামালগঞ্জ হতে পারে আনন্দের নতুন দিগন্ত। সুনামগঞ্জের হাওর বেষ্টিত উপজেলা জামালগঞ্জে রয়েছে পর্যটনের ব্যাপক সম্ভাবনা। বর্ষার এই সময়ে উপজেলার পাকনার হাওরে চোখে পড়ে শুধু দিগন্ত জোড়া জলরাশি। হাওরের মাঝে হিজলকরচের গাছের সারি এক অপূর্ব সৌন্দর্য সৃষ্টি করেছে। বিকেলের রোদের ঝিলিক, সবুজের সমারোহ আর আকাশে সাদা মেঘের উড়াউড়ি মুগ্ধ করে সবাইকে। হাওরের বুকে ভাসা হিজল-করছ বাগানে নৌকা ভ্রমণ সম্প্রতি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

সরেজমিনে হাওর ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওর এলাকা এখন বর্ষার পানিতে টইটুম্বুর। যতদূর চোখ যায় পানি আর পানি। মাথায় উপরে নীল আকাশে সাদা রংয়ের মেঘের ভেলা। হাওরের মাঝে মাঝে রয়েছে গ্রাম। এসব গ্রামে বসবাসকারী মানুষ বর্ষার পুরোটা সময় যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেন নৌকা বা ইঞ্জিন চালিত ট্রলার।

বর্ষায় বিশেষ করে হাওরের সৌন্দর্য এখানকার বাসিন্দাদের তেমন আলোড়িত করে না। তবে এসময়টাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাওরে হিজল করচের বাগে ছুটে আসে শতশত প্রকৃতিপ্রেমী। ভরা বর্ষায় হাওরের বুকে ভেসে আছে সবুজের সমারোহ হিজল করচের বাগ। মৃদু বাতাসে হাওরের পানিতে ছোট ছোট ঢেউ খেলা করে। হালকা শীতল হাওয়ায় প্রাণ জুড়িয়ে যায়।

আমাদের দেশে ঋতুভেদে ভ্রমণের জায়গা খোঁজার বিষয়ে অনেকের আগ্রহ রয়েছে। বর্ষায় যদি ভ্রমণে বের হন তাহলে জামালগঞ্জের কয়েকটি জায়গার নাম রাখতে পারেন আপনার তালিকায়। বিশেষ করে উপজেলার ফেনারবাক ইউনিয়নের মাতারগাঁও বিনাজুরা, দৌলতপুর, উজান দৌলতপুর ও ফেনারবাকের হিজল করছ বাগান উল্লেখযোগ্য। এসব জায়গায় নৌকা ভ্রমণ সম্প্রতি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এখানে ভ্রমণে আপনি পাবেন এক অদ্ভুত অনুভূতি।


চারিদিকে সবুজ গাছের ছায়াময় পানির রং সবুজ আকার ধারন করে হয়ে উঠেছে জলরংয়ের ছবির মতো। তবে আসল আনন্দ তো রাতে। আকাশে রূপালী চাঁদ, আর চাঁদের আলোয় গাছের মোহনীয় রূপ। হয়তো আপনি এখানেই নীলকন্ঠ পাখির খোঁজ পাবেন। সাথে হাওয়ের বুকে জেলেদের কাছ থেকে কিনতে পারবেন টাটকা মাছ।

এসব নয়নাভিরাম দেখতে হলে সুনামগঞ্জ থেকে গাড়ীযোগে অথবা নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থেকে নৌকা অথবা স্পীডবোটে জামালগঞ্জ হয়ে ভীমখালী ইউনিয়নের কারেন্টের বাজার আসতে হবে। সেখানে পাবেন ছোট বড় অসংখ্য নৌকা। যা দিয়ে আপনি ঘুরতে পারবেন হিজল করচের বাগ।

হাওর পাড়ের বাসিন্দা কৃষক সুকুমার দাস বলেন, বর্ষা আর শীত কালের সৌন্দর্য সকলকে মুগ্ধ করে। অনেক দূর থেকে বন্ধের দিন মানুষজন দেখতে আসেন। এলাকার মানুষ হিসেবে আমরা যারা আসেন তাদের খোজ খবর ও সুবিধা অসুবিধা আমরা দেখি।

স্থানীয় সাংবাদিক অঞ্জন পুরকায়স্থ জানান, মা যেমন তার ছোট বাচ্চাকে লালন পালন করে বড় করে ঠিক তেমনী আমাদের নৌমৌজার মানুষজন বাগগুলোক দেখে দেখে বড় করেছে। পর্যটকদেরকে এলাকার মানুষ খুব সম্মান দেখায় এবং সহযোগিতা করে।

এ ব্যাপারে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, অপূর্ব সৌন্দর্যের লীলাভূমি হাওরাঞ্চল। হাওরকে না দেখলে বাংলাকে চেনা যাবে না, অপূর্নই থেকে যাবে।


সিলেট প্রেস / ০২ আগস্ট ২০২৩/এফ কে


কমেন্ট বক্স
আব্দুল্লাহ আল মামুন, জামালগঞ্জ

আব্দুল্লাহ আল মামুন, জামালগঞ্জ

প্রকাশ: ২০২৩-০৮-০২ ০২:২৭:৪০