সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বতুমারা-নোয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সোহেল আহমদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগকারী অভিভাবকদের দাবি, মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের পিন পরিবর্তন করে এবং বিভিন্ন কৌশলে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির অর্থ নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক উপজেলার উত্তর রণিখাই ইউনিয়নের লামাগ্রামের বাসিন্দা ও প্রয়াত সামছুল ইসলামের ছেলে।
ভুক্তভোগী অভিভাবকদের অভিযোগ, গত ১৯ জুলাই প্রথম শ্রেণির ছাত্রী মণি আক্তার ও দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী মীম আক্তারের উপবৃত্তির টাকা তুলতে গিয়ে তারা জানতে পারেন, মোবাইল অ্যাকাউন্টের পিন পরিবর্তন করা হয়েছে। পরে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে হিসাব যাচাই করে দেখা যায়, উপবৃত্তির অর্থ আগেই অন্য একটি মোবাইল নম্বরে স্থানান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক বিনোদ সরকার জানান, মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব পরীক্ষা করে অর্থ পূর্বেই ট্রান্সফার হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। তিনি দাবি করেন, এর আগেও একই ধরনের অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করা হয়েছিল।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান বলেন, গত ৭ জুলাই আরেক শিক্ষার্থীর অভিভাবক উপবৃত্তির টাকা তুলতে এলে হিসাব যাচাই করে দেখা যায়, অর্থ ইতোমধ্যে অন্য একটি নম্বরে স্থানান্তর হয়েছে। পরে অভিভাবকরা জানতে পারেন, অভিযোগ অনুযায়ী নম্বরটি অভিযুক্ত শিক্ষকের স্ত্রীর।
আরেক অভিভাবক রোজিনা বেগম অভিযোগ করেন, তার সন্তানের উপবৃত্তির অর্থের একটি অংশ রেখে দেওয়া হয় এবং এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষক সোহেল আহমদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি প্রতিবেদকের কাছে তিনি স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তার কোনো লিখিত বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিদ্যালয়ের সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল মান্নান বলেন, তার আত্মীয়ের দুই সন্তানের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সত্য এবং একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সনজিতা সিনহা বলেন, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়ভাবে আলোচনা হয়। যেসব শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে, তাদের অর্থ ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তার ভাষ্য, আত্মসাতের ঘটনাটি সত্য।
উত্তর রণিখাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়জুর রহমানও জানান, বিষয়টি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তার দাবি, উপবৃত্তির অর্থ আত্মসাতের ঘটনাটি সত্য।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য নিতে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা টিটু কুমার দের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভিডিও বক্তব্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন।
এ সময় শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও চাটিবহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজমল আলী—যিনি অভিযুক্ত শিক্ষকের মামা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে—সংবাদকর্মীদের ভিডিও ধারণ করেন এবং সংবাদ প্রকাশের বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন বলে উপস্থিত সাংবাদিকদের অভিযোগ।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ বা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে।
স্টাফ রিপোর্টার




















