কিশোরগঞ্জের এক সাধারণ পরিবার থেকে এসে সিলেটের পাসপোর্ট অফিসে গেটম্যান হিসেবে যোগ দিয়েই যেন ‘আলাদিনের চেরাগ’ হাতে পেয়েছেন মো. রুবেল মিয়া। সরকারি ৪র্থ শ্রেণির (২০তম গ্রেড/মাস্টাররোল ভিত্তিক) একজন সামান্য কর্মচারী হয়েও জালিয়াতি ও পাসপোর্ট অফিসে আসা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে তিনি নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার বাখর নগর গ্রামের আব্দুল আজিজের পুত্র রুবেল মিয়া বর্তমানে সিলেট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের পাশে গোটাটিকর এলাকায় বসবাস করছেন এবং ওই পাসপোর্ট অফিসের মূল গেটম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের শুরুর দিকে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মাস্টাররোল থেকে স্থায়ী রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত হন তিনি। এরপর ফেনী পাসপোর্ট অফিস থেকে বিশেষ কৌশলে বদলি হয়ে আসেন ঐতিহ্যবাহী সিলেট পাসপোর্ট অফিসে। শুধু তা-ই নয়, রুবেল মিয়ার বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও ভুয়া সনদ ব্যবহার করে চাকরি হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।
একজন নিম্নশ্রেণির কর্মচারী হয়েও রুবেল মিয়ার এমন রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়া নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও সেবাগ্রহীতাদের মনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অনুসন্ধানে তার বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে। কিশোরগঞ্জ উপজেলা সদরে প্রায় অর্ধ-কোটি টাকা মূল্যের জমি কিনে সেখানে নিজ অর্থায়নে সুদৃশ্য মার্কেট নির্মাণ করেছেন তিনি। পৈতৃক ভিটা ছাড়াও নিজের উপার্জিত অবৈধ অর্থে গড়ে তুলেছেন একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি। নিজের নাম ছাড়াও স্ত্রী, শ্বশুরবাড়ির লোকজন ও ঘনিষ্ঠজনদের নামে বিপুল পরিমাণ ব্যাংক ব্যালেন্স ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ গচ্ছিত রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব অবৈধ অর্থ খাটিয়ে এলাকায় তিনি ‘সুদের ব্যবসা’ শুরু করেছেন এবং অর্থ ও ক্ষমতার প্রভাবে স্থানীয় মানুষকে জিম্মি করে রাখছেন।
সিলেট পাসপোর্ট অফিসে আসা একাধিক ভুক্তভোগী জানান, সাধারণ মানুষ পাসপোর্ট সংক্রান্ত কোনো কাজে গেলেই শুরু হয় রুবেলের হাঁকডাক ও দালালি। তার মাধ্যম ছাড়া সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের ফাইল মূল গেট অতিক্রম করাই যেন অসম্ভব। কাগজপত্র ভুলের অজুহাত ও নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে তিনি হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা।
রুবেল মিয়ার এই দালাল সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও দুর্নীতির বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য এবং অডিও রেকর্ড ইতোমধ্যে হস্তগত হয়েছে। যেখানে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে টাকা দাবি করা এবং গেট সিন্ডিকেট পরিচালনার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।
একজন ৪র্থ শ্রেণির সাধারণ কর্মচারী হয়ে কীভাবে তিনি এত বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হলেন, তা নিয়ে এখন সিলেটে চরম তোলপাড় চলছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এই রুবেলের অবৈধ সম্পদের উৎস উন্মোচন ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ সেবাগ্রহীতা ও সাধারণ সচেতন জনগণ।




















