সিলেটের জৈন্তাপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের চলমান নির্মাণকাজে ব্যবহারের জন্য আনা সরকারি নির্মাণসামগ্রী ব্যক্তিগত কাজে সরিয়ে নেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল হাফিজ এবং যুবদল নেতা সেলিম ওরফে ‘বয়লার সেলিম’-এর নাম জড়িয়ে পড়ায় স্থানীয়জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে বরাদ্দকৃত সামগ্রী এভাবে লোপাট হওয়ায় নির্মাণকাজের মান ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে রাখা প্রকল্পের সংরক্ষিত মালামাল থেকে মোট ৫০ বস্তা সিমেন্ট এবং বস্তায় ভরা ইট সরিয়ে নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৩০ বস্তা সিমেন্ট উপজেলা বিএনপি নেতা আবদুল হাফিজ এবং বাকি ২০ বস্তা সিমেন্ট ও ইট যুবদল নেতা সেলিম তাঁদের নিজ নিজ স্থানে নিয়ে যান।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সেলিমকে সিমেন্ট ও ইট সরিয়ে নিতে দেখে কারণ জানতে চাইলে তিনি স্পষ্টই বলেন—তিনি একা নন, বিএনপি নেতা আবদুল হাফিজ ভাইও ৩০ বস্তা সিমেন্ট নিয়েছেন। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা ছবি ও পোস্ট শেয়ার করে অনিয়মের প্রতিবাদ জানাচ্ছেন এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছেন।
এদিকে ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে সাইটের ঠিকাদারের একটি ভিডিও বার্তা সামনে আসে। সেখানে তিনি দাবি করেন, বৃষ্টির পানিতে নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় ২০০ বস্তা সিমেন্টের মধ্যে ৫০ বস্তা বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। তবে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের সামগ্রী ঠিকাদার এভাবে একক সিদ্ধান্তে বিক্রি করতে পারেন কি না এবং কার কাছে বিক্রি করা হয়েছে—তা নিয়ে নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, অনিয়ম ও মালামাল লোপাটের ঘটনা আড়াল করতেই ঠিকাদারকে দিয়ে এই ব্যাখ্যা দেওয়ানো হচ্ছে।
সচেতন মহলের মতে, সরকারি কাজের মালামাল ব্যক্তিগত কাজে সরিয়ে নেওয়া গুরুতর অপরাধ। এতে প্রকল্পের কাজের গুণগত মান যেমন নষ্ট হবে, তেমনি নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হওয়া নিয়েও শঙ্কা দেখা দেবে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল হাফিজ এবং যুবদল নেতা সেলিম ওরফে ‘বয়লার সেলিম’-এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




















