নদীপথে অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন

গোয়াইনঘাটে ভাঙনের মুখে ভিটেমাটি, কাঠগড়ায় প্রশাসন ও সিন্ডিকেট

  • প্রকাশের সময় : ২৬/০৭/২০২৬ ১২:১৬:২৬ PM

ছবি: সংগৃহীত

Share
7

সিলেটের সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলায় সরকারি শর্তাবলি ও নির্ধারিত সীমানা বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিস্তৃত নদীপথজুড়ে চলছে অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলনের তাণ্ডব।


পিয়াইন ও ডাউকি নদীর হাজিপুর, প্রতাপুর, আহারকান্দি, লুনি ও কন্যাজঙ্গলসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় দিন-রাত সমানতালে চালানো হচ্ছে নিষিদ্ধ ড্রেজার, বোমা মেশিন ও এক্সকাভেটর। এতে মারাত্মক পরিবেশগত ঝুঁকির পাশাপাশি নদীর তীরবর্তী বসতভিটা, মসজিদ, কবরস্থান ও সড়ক অবকাঠামো তীব্র ভাঙনের মুখে পড়েছে।


জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার ৮৮.৭৮ একর এলাকা বালুমহাল হিসেবে ইজারা দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ইজারার সীমানা অতিক্রম করে প্রায় ১১০ কিলোমিটারজুড়ে অবাধে ড্রেজিং চালানো হচ্ছে।


ইজারার শর্ত অনুযায়ী রাতে বালু উত্তোলন, যান্ত্রিক পাম্প বা ড্রেজার ব্যবহার, নদীর তীরের ক্ষতি করা এবং উপ-ইজারা দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু সরেজমিনে ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, এসব শর্তের কোনোটিই মানা হচ্ছে না। বালুমহালের ইজারাদার 'মেসার্স ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ'-এর স্বত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ট্রাক ও নৌকা থেকে নির্ধারিত হারের চেয়ে অতিরিক্ত রয়্যালটি আদায়েরও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, যা নিয়ে এলাকায় একাধিকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।


সম্প্রতি একটি কথিত তালিকা ফাঁস হওয়াকে কেন্দ্র করে পুরো উপজেলায় তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ওই তালিকায় বিভিন্ন সাংবাদিক, সাংবাদিক সংগঠন এবং স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নামে সাপ্তাহিক অর্থ বরাদ্দের উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।


স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রশাসনের ভূমিকা এখানে একেবারেই অকার্যকর। সীমানা নির্ধারণে যেমন নেই কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ, তেমনি মাঝেমধ্যে লোকদেখানো অভিযানে দু-একটি যন্ত্রপাতি ধ্বংস করা হলেও মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। অবৈধ উত্তোলন বন্ধে উচ্চ আদালতে রিট দায়ের ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন গোয়াইনঘাটের স্থানীয় বাসিন্দা হিফজুর রহমান খান।


অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।


পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং নদী অববাহিকাকে বিনাশের হাত থেকে রক্ষা করতে দ্রুত যৌথ বাহিনীর অভিযান, সঠিক সীমানা নির্ধারণ ও একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা।


সিলেট প্রেস / aa


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৬-০৭-২৬ ১২:১৬:২৬