রাত নামলেই সক্রিয় চোরাচালান সিন্ডিকেট!

সিলেটে চোরাচালান সিন্ডিকেটের দাপট, নেপথ্যে যারা..

  • প্রকাশের সময় : ২৬/০৭/২০২৬ ০৮:৪১:৩৪ PM

Share
24

সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকা হরিপুর দিয়ে আসা  চোরাচালান সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাচার যেনো কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। প্রতিদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান ও পণ্য জব্দের খবর প্রকাশ পেলেও রাত নামলেই আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে চোরাচালান সিন্ডিকেট! 

সূত্র জানিয়েছে, সীমান্ত থেকে সংগৃহীত ভারতীয় বিভিন্ন পণ্য নগরীর গুরুত্বপূর্ণ তামাবিল-টিলাগড় সড়ক ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এতে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে মোটা অংকের রাজস্ব থেকে।

জানা গেছে, ভারতীয় জিরা, বাসমতি চাল, কসমেটিকস, চকলেট, মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন পণ্য সংগ্রহ করে হরিপুর এলাকার একটি সংঘবদ্ধ একটি চক্র। এই চক্রটি গভীর রাতে ছোট যানবাহন ও পণ্যবাহী পরিবহনের মাধ্যমে এসব মালামাল তামাবিল-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে সিলেট নগরীতে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাচ্ছে চোরাচালান। একই সড়ক ব্যবহার করে তাঁরা মাদকও পাচার করছে।

সূত্র জানায়, হরিপুর সীমান্তে একটি সঙ্গবদ্ধ সক্রিয় চোরাচালান সিন্ডিকেট রয়েছে। এই সিন্ডিকেটের লাইনম্যান হরিপুর থেকে শুরু করে ফেঞ্চুগঞ্জ সড়ক এবং শেরপুর টুল এলাকা পর্যন্ত বৃস্তিত রয়েছে। সরকার দলের রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে এই শক্তিশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই সড়কে চোরাচালানের নেপথ্যে হরিপুরের চিহ্নিত চোরাকারবারি মঈনুল, ওয়েস, লোকমান ও রুবেল। তাঁরাই সীমান্ত এলাকা থেকে এসব পণ্য সংগ্রহ ও পরিবহনে জড়িত। তারাঁ অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ছাত্রলীগের নাজমুল ও রাহেল সিরাজের মাধ্যমে চোরাচালান পাচার করতো। বর্তমানে সিলেট বিএনপি ও ছাত্রদলের দুই নেতাকে লাইনম্যান বানিয়ে এসব চোরাচালান পাচার করছে। তাদের বিরুদ্ধে চোরাচালানের একাধিক মামলাও চলমান।

এদিকে, রাতের আঁধারে তামাবিল-টিলাগড় সড়ক দিয়ে আসা এসব চোরাচালান সরকারপন্থী রাজনৈতিক পরিচয়ধারী সিলেট বিএনপি ও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত পদধারী দুই স্থানীয় নেতা প্রতি গাড়ি চোরাচালান থেকে ৫ হাজার টাকা নেন। বিনিময়ে হরিপুর থেকে মোটরসাইকেল-কার দিয়ে প্রটোকল মাধ্যমে ফেঞ্চুগঞ্জ সড়ক ও দক্ষিণ সুরমা পর্যন্ত পৌছে দেন। 

প্রতি রাতে লাইনম্যানদের প্রটোকল দিয়ে তাঁরা প্রায় ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা পান। পরে ওইদিন দুপুরে টাকা গুলো বাট-বাটওয়ার করেন দুই পদধারী বিএনপি ও ছাত্রদল নেতা! তারা বিকাশ মাধ্যমে টাকাগুলো যারযার কাছে পাঠিয়ে দেন। 

অপরদিকে, এই চোরাচালান থেকে আদায় হওয়া অর্থের একটি অংশ সিলেট নগরীর পূর্বাঞ্চলের প্রভাবশালী একটি মহল এবং প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তির কাছেও পৌঁছে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে একটি বিশেষ সূত্র। 

টিলাগড় বাজারের এক নৈশপ্রহরী। তিনি তার নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, আমি টিলাগড়ের সড়কের পাশের একটি মার্কেটে চৌকিদারি করি। প্রতি রাত ২টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত সড়কে যখন পুলিশ সড়কে  থাকে না তখন একযোগে ছোট যানবাহন, ডিআই ট্রাক, মিনি ট্রাক ও পণ্যবাহী পরিবহন খুব স্পিডে শহরের দিকে যায়। এসব গাড়ির সামনে পিছনে  মোটরসাইকেল-কার-লাইটেস থাকে। তবে কী মালামাল যায় সেটা আমার জানা নেই।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে সিলেট বিএনপির এক সিনিয়র নেতা বলেন, চোরাচালানে দলের নেতাকর্মীদের জড়ানোর অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। এসব নিয়ে আমরা বিব্রত। প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নিষেধ অমান্য করে দলের নাম ব্যবহার করে যারা এসব অপকর্মে জড়িয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে শিগগিরই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রশাসন কেবল বাহক বা পরিবহনকারীদের গ্রেপ্তার করলেই চোরাচালান বন্ধ হবে না। এই সিন্ডিকেটের অর্থায়ন, পৃষ্ঠপোষকতা এবং মূল হোতাদের চিহ্নিত করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় সীমান্তকেন্দ্রিক চোরাচালান, মাদক পাচার ও রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ফাঁকি রোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

বিষয়টি জানতে হরিপুরের চিহ্নিত চোরাকারবারি মঈনুল, ওয়েস, লোকমান ও রুবেলের মুঠোফোনে কল করলে তাঁরা কল রিসিভ করেন নি। পরে মঈনুল কল বেক করলে এসব বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি প্রশ্ন এড়িয়ে হরিপুর বাজারে চায়ের দাওয়াত দেন।

এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. মজরুল আলম জানান, "চোরাচালান প্রতিরোধে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযান আরও জোরদার করা হবে।"


সিলেট প্রেস / Nm


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৬-০৭-২৬ ২০:৪১:৩৪