সিলেটের গোয়াইনঘাট সীমান্ত এলাকায় ডিবি পুলিশের (গোয়েন্দা শাখা) নাম ভাঙিয়ে প্রভাব বিস্তার এবং বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার গুরুতর অভিযোগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে আলামিন নামে এক ব্যক্তির নাম, যার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাম ব্যবহার করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব ও সিন্ডিকেট গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে আলামিন নিজেকে ডিবি পুলিশের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি বা বিশেষ “সোর্স” হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছেন। এই ভুয়া বা অননুমোদিত পরিচয় ব্যবহার করে তিনি সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন স্থানে প্রভাব খাটিয়ে আসছেন এবং সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গোয়াইনঘাট সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় পণ্য চোরাচালান, অবৈধ বাণিজ্য এবং বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে আলামিনের নাম প্রায়ই প্রকাশ্যে আসে।
অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি স্থানীয় বিভিন্ন মহলে এমন একটি আবহ বা ধারণা তৈরি করেছেন যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে তাঁর বিশেষ ও গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পায় না। এর ফলে সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশ চরম বিভ্রান্ত ও আতঙ্কিত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সচেতন মহলের অনেকেই জানতে চাইছেন, আলামিন আসলেই কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুমোদিত বা স্বীকৃত সোর্স কি না, নাকি তিনি কেবল ডিবি পুলিশের নাম অবৈধভাবে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তার ও আখের গুছাচ্ছেন। যদি তিনি কোনো সরকারি দায়িত্বে না-ই থেকে থাকেন, তাহলে কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এমন পরিচয় দিয়ে এলাকায় দাপট ও চলাফেরা করছেন—এমন প্রশ্নও তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সাধারণ মানুষের ভাষ্য, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অতিসত্বর একটি স্পষ্ট ও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে এই গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে হবে। যদি তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় এবং কেউ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পবিত্র নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা আদায় বা অবৈধ চোরাচালান কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ ব্যাপারে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত আলামিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর কোনো মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।



















