সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় নিজের ষোলো বছর বয়সী মেয়ে এবং তিন বছরের শিশু পুত্রসহ দীর্ঘ ১০ দিন ধরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ রয়েছেন এক গৃহবধূ।
এই চাঞ্চল্যকর অন্তর্ধানের ঘটনায় স্থানীয় জনমনে নানা প্রশ্ন ও রহস্যের দানা বেঁধেছে। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিখোঁজের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নিখোঁজ নারীর স্বামী আজাদ মিয়া সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন—দক্ষিণ সুরমার দক্ষিণ ভার্তখলা এলাকার আজাদ মিয়ার স্ত্রী জুলি বেগম (৩০), তাঁর কিশোরী মেয়ে ফাবিহাতুন নেছা ফাইজা (১৬) এবং একমাত্র ছেলে আজান আহমদ (৩)।
থানায় রুজু করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সূত্র ও আজাদ মিয়ার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ২১ জুন রাতে স্বামীর অনুমতি ছাড়াই হঠাৎ করে ছেলে ও মেয়েকে সাথে নিয়ে দক্ষিণ ভার্তখলার বাসা থেকে বের হয়ে যান জুলি বেগম। পরবর্তীতে বাসার আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে আজাদ মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত হন। মধ্যরাতে বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
আজাদ মিয়া ডায়েরিতে আরও উল্লেখ করেছেন যে, বাসা থেকে চলে যাওয়ার আগে স্ত্রীর সাথে তাঁর কোনো প্রকার ঝগড়াঝাটি, পারিবারিক কলহ বা মনমালিন্য হয়নি। ফলে কোনো ধরনের বিরোধ ছাড়া কেন তিনি দুই সন্তানসহ মধ্যরাতে নিখোঁজ হলেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। নিখোঁজ জুলি বেগমের পৈত্রিক বাড়ি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে হলেও বর্তমানে তাঁর বাবার পরিবারের সদস্যরা সিলেট নগরীর উপশহর এলাকায় বসবাস করছেন।
আজাদ মিয়ার দায়ের করা জিডির বিষয়টি তদন্ত করছেন দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মামুনুর রশীদ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি জানান, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে। পুলিশ নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও জানান, তদন্তের অংশ হিসেবে নিখোঁজ জুলি বেগমের বাবার বাড়িতে গিয়েও স্বজনদের সাথে বিস্তারিত আলাপ করা হয়েছে। জুলি বেগমের বাবার পরিবারের সদস্যরাও মেয়ে ও নাতি-নাতনিকে হন্যে হয়ে খুঁজছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিক অভ্যন্তরীণ বৈঠকও সম্পন্ন হয়েছে। তবে ঘটনার নয়দিন পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত নিখোঁজ মা ও দুই সন্তানের কোনো হদিস বা কূলকিনারা মেলাতে পারেনি পুলিশ।



















