হবিগঞ্জে নারী গ্রাহকের ১ মাসের বিদ্যুৎ বিল ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, তোলপাড়

  • প্রকাশের সময় : ০১/০৭/২০২৬ ০১:১৯:০২ PM

Share
11

হবিগঞ্জে এক দরিদ্র নারী গ্রাহকের মাত্র এক মাসের বিদ্যুৎ বিল এসেছে ২ কোটি ৫৭ লাখ ৩৫ হাজার ১০৪ টাকা। বিদ্যুৎ অফিস থেকে পাঠানো অফিশিয়াল বিলের কাগজে টাকার এই অবিশ্বাস্য অংক উল্লেখ করা হয়েছে। এই অদ্ভুত ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পুরো জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


বিল হাতে পেয়ে চরম হতবাক ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন জেলার সদর উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা তানিয়া আক্তার সোমা নামের ওই গ্রাহক। পরবর্তীতে বিলের ছবি ও বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।


ভুক্তভোগী গ্রাহকের পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই পরিবারটি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আসছে এবং তাদের মাসিক বিদ্যুৎ বিল সাধারণত ১০০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত। কিন্তু চলতি মাসের বিলে হঠাৎ করেই সাধারণ ধারণার বাইরে গিয়ে কোটি কোটি টাকা পরিশোধযোগ্য অর্থ দেখানো হলে পুরো পরিবারটি চরম বিস্মিত ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।


বিলটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি দ্রুত হবিগঞ্জ জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নজরে আসে। এরপরই টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের। তারা জরুরি ভিত্তিতে বিলটি যাচাই-বাছাই করে এটিকে তথ্য এন্ট্রিজনিত ভুল বলে নিশ্চিত করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে তা সংশোধনের উদ্যোগ নেয়।


হবিগঞ্জ জেলা পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. জিল্লুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কম্পিউটারে তথ্য ইনপুট দেওয়ার সময় অসাবধানতাবশত সংখ্যাগত ভুলের কারণে বিলের পরিমাণ এমন অস্বাভাবিক প্রদর্শিত হয়েছে। এটি কোনো প্রকৃত বিল নয়। বিষয়টি আমাদের নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই অনলাইন সিস্টেমে বিলটি সংশোধন করে হালনাগাদ করা হয়েছে। গ্রাহককে এখন প্রকৃত সংশোধিত বিল অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করতে হবে।


তিনি আরও জানান, সম্প্রতি চালু হওয়া নতুন সফটওয়্যার ব্যবহারের শুরুতে অপারেশনাল অভিজ্ঞতার ঘাটতির কারণেই মূলত মাঠপর্যায়ে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল হয়েছে। তবে এই ঘটনায় গ্রাহকের পক্ষ থেকে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।


ভবিষ্যতে এমন বিভ্রান্তিকর ও বড় ধরনের ভুল যাতে আর না ঘটে সে বিষয়ে জানতে চাইলে জিএম মো. জিল্লুর রহমান বলেন, আমরা একটি জরুরি সভা ডেকে পুরো বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করছি। বিল প্রস্তুতের প্রতিটি ধাপে আরও কঠোর সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আসল কারণ অনুসন্ধানে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ী কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এদিকে স্থানীয় সাধারণ মানুষের অভিযোগ, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন ভুল সাধারণ ও দরিদ্র গ্রাহকদের মধ্যে অযথা আতঙ্ক, মানসিক চাপ এবং মারাত্মক ভোগান্তি সৃষ্টি করে। তাঁরা দাবি জানিয়েছেন, বিল চূড়ান্ত ও প্রিন্ট করার আগে তথ্য যেন একাধিকবার যাচাই করা হয় এবং নতুন সফটওয়্যার ব্যবহারে সংশ্লিষ্ট ডাটা এন্ট্রি অপারেটর ও কর্মীদের দ্রুত যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।


সিলেট প্রেস / aa


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৬-০৭-০১ ১৩:১৯:০২