শেষ মুহূর্তের গোলে জাপান বাধা পেরোল ব্রাজিল

  • প্রকাশের সময় : ৩০/০৬/২০২৬ ১১:৪৬:৫৬ AM

Share
6

হিউস্টনে বড় অঘটনের শঙ্কা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলকে আটকাতে পারল না জাপান। বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর নাটকীয় ম্যাচে ২-১ গোলে জিতে শেষ ১৬-তে উঠেছে কার্লো আনচেলত্তির দল।


প্রথমার্ধে কাইশু সানোর গোলে পিছিয়ে পড়া ব্রাজিল দ্বিতীয়ার্ধে কাসেমিরোর হেডে সমতায় ফেরে। আর ম্যাচের শেষ আক্রমণে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির গোলে জয় নিশ্চিত করে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।


হিউস্টনে শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে শুরুটা ব্রাজিলের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও গোল করে আগে এগিয়ে যায় জাপান। ২৮ মিনিটে ব্রাজিলের ভুল পাস থেকে বল কুড়িয়ে নিয়ে দারুণ দৌড়ে এগিয়ে যান কাইশু সানো। এরপর বক্সের বাইরে থেকে তাঁর শট জড়িয়ে যায় জালে। বিশ্বকাপের নকআউটে ব্রাজিলের বিপক্ষে এগিয়ে গিয়ে বড় অঘটনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে জাপান।


গোল হজমের পর চাপ বাড়ায় ব্রাজিল। তবে প্রথমার্ধে জাপানের সংগঠিত রক্ষণ ভাঙতে পারেনি আনচেলত্তির দল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে মাঝেমধ্যে বেশি ভেতরে পাওয়া যাচ্ছিল, ফলে তাঁর এক বনাম এক পরিস্থিতি কম তৈরি হচ্ছিল। জাপানও মাঝমাঠ ঘন করে ব্রাজিলকে স্বস্তিতে খেলতে দেয়নি।


বিরতির পর বদলে যায় ব্রাজিলের চেহারা। লুকাস পাকেতার জায়গায় এন্দ্রিককে নামান আনচেলত্তি। ভিনিসিয়ুসকে আরও বেশি করে বাঁ দিকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তাতেই ব্রাজিলের আক্রমণে গতি বাড়ে।


৫৫ মিনিটে আসে সমতা। ভিনিসিয়ুসের দিক থেকে শুরু হওয়া আক্রমণে বল আসে গ্যাব্রিয়েল মাগালিয়ায়েসের কাছে। তাঁর ক্রসে হেড করে গোল করেন কাসেমিরো। প্রথমে অফসাইডের সম্ভাবনায় গোলটি পরীক্ষা করা হলেও শেষ পর্যন্ত গোল বহাল থাকে। ১-১ সমতায় ফেরে ব্রাজিল।


সমতার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ প্রায় পুরোপুরি নিয়ে নেয় সেলেসাওরা। ৫৮ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন জাপান গোলরক্ষক জিওন সুজুকি। এরপরও একের পর এক আক্রমণে জাপানকে নিজেদের অর্ধে আটকে রাখে ব্রাজিল।


জাপান ধীরে ধীরে রক্ষণে নেমে যায়। শেষ দিকে তাদের লক্ষ্য ছিল ম্যাচটিকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু ব্রাজিলের চাপ থামেনি। ক্রস, সেট পিস, দ্রুত পাস, সব পথেই চেষ্টা করতে থাকে আনচেলত্তির দল।


৯২ মিনিটে কাসেমিরো চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন, তার জায়গায় নামেন ফাবিনিও। কাসেমিরোর জন্য দিনটি ছিল মিশ্র অনুভূতির। গোল করেছেন, ব্রাজিলকে ম্যাচে ফিরিয়েছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত চোট নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাঁকে।


ম্যাচ যখন প্রায় অতিরিক্ত সময়ে যাওয়ার পথে, তখনই ব্রাজিলের জয়সূচক গোল। যোগ করা সময়ের শেষ দিকে বক্সের ভেতর অসাধারণ কাজ করেন ব্রুনো গিমারায়েস। তাঁর পাস থেকে ফাঁকায় বল পেয়ে ঠান্ডা মাথায় জালে পাঠান মার্তিনেল্লি। শেষ মুহূর্তের সেই গোলেই হিউস্টনে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে ব্রাজিল।


জাপানের জন্য হারটা হৃদয়ভাঙা। তারা পরিকল্পনা মেনে খেলেছিল, আগে গোলও পেয়েছিল, দীর্ঘ সময় ব্রাজিলকে অস্বস্তিতে রেখেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলের চাপ, অভিজ্ঞতা ও বেঞ্চের শক্তির কাছে টিকতে পারেনি মোরিয়াসুর দল।


ব্রাজিলের জয় সহজ ছিল না। বরং এই ম্যাচ তাদের সতর্ক করে দিল, নকআউটে নামের ওজন দিয়ে ম্যাচ জেতা যায় না। ভিনিসিয়ুসের তৎপরতা, কাসেমিরোর অভিজ্ঞতা, ব্রুনো গিমারায়েসের সৃজনশীলতা এবং মার্তিনেল্লির ফিনিশিং মিলেই শেষ পর্যন্ত বাঁচাল সেলেসাওদের।


জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় উঠল ব্রাজিল। তবে আনচেলত্তির দলের সামনে এখন ভাবনার বিষয়ও কম নয়। পাকেতার চোট, কাসেমিরোর শারীরিক সমস্যা এবং প্রথমার্ধের ছন্দহীনতা পরের ম্যাচের আগে নিশ্চয়ই আলোচনায় থাকবে।


তবু নকআউট ফুটবলে শেষ কথা জয়। আর হিউস্টনে সেই জয় ব্রাজিল পেয়েছে নাটকীয়ভাবে, শেষ মুহূর্তে, মার্তিনেল্লির পায়ে।


সিলেট প্রেস / aa


কমেন্ট বক্স
স্পোর্টস ডেস্ক :

স্পোর্টস ডেস্ক :

প্রকাশ: ২০২৬-০৬-৩০ ১১:৪৬:৫৬