পদ্মা সেতু উদ্বোধনের চার বছরপূর্তির আগেই টোল আদায়ে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। সেতুটি চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত টোল বাবদ ৩ হাজার ৪২৯ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের নির্ধারিত ১৬টি কিস্তিও সময়মতো পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) পদ্মা সেতুর টোল আদায় ও ঋণ পরিশোধসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য জানিয়ে এসব কথা বলেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ।
তিনি বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণের ভিত্তি রচিত হয়েছিল ২০০২ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে পরিচালিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষার মাধ্যমে। সে সময় চার লেনের মহাসড়ক এবং ভবিষ্যতে রেল সংযোগের সুযোগ রেখে যে কারিগরি প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছিল, সেটিই পরবর্তীতে সেতুর চূড়ান্ত নকশা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও বলেন, ওই সম্ভাব্যতা সমীক্ষার সুপারিশের ভিত্তিতেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মাওয়া প্রান্তে সেতুর অ্যালাইনমেন্ট বা সংযোগ পথের অবস্থান চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করেন। এর ফলে মাওয়া-জাজিরা রুট দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে দেশের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ পথ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি সংযোগ সড়ক, নদীশাসন এবং প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণের প্রাথমিক পরিকল্পনাও ওই সময় সম্পন্ন হয়, যা পরবর্তীতে মূল নির্মাণকাজ সহজ করে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ৩০ হাজার ৭৭০ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত পদ্মা সেতু ২০২২ সালের ২৫ জুন উদ্বোধন করা হয়। পরদিন ২৬ জুন থেকে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয় সেতুটি।
হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৯ জুন পর্যন্ত পদ্মা সেতু দিয়ে মোট ২ কোটি ৬৮ লাখ ৬২ হাজার ৮০৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ সময়ে টোল বাবদ মোট ৩ হাজার ৪২৯ কোটি ৪৫ লাখ ২৫ হাজার ৫৫০ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।
সেতু বিভাগের সচিব বলেন, পদ্মা সেতু শুধু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনেনি, বরং নিজস্ব আয় থেকে সরকারের ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধের সক্ষমতাও অর্জন করেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ও অর্থ বিভাগের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী, ১ শতাংশ সুদে ৩৫ বছরে মোট ৩৬ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। প্রতি অর্থবছরে চারটি করে মোট ১৪০ কিস্তিতে এ অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।



















