হবিগঞ্জে ১১ হাজার হেক্টর জমি পানির নিচে, ২০ হাজার কৃষক দিশেহারা

  • প্রকাশের সময় : ০৩/০৫/২০২৬ ০২:৪০:৪৭ PM

Share
19

হবিগঞ্জ জেলাজুড়ে টানা ভারি বৃষ্টিপাতে সময়ের সঙ্গে বাড়ছে ফসলি জমির ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ। চোখের সামনে নষ্ট হচ্ছে জমির ফসল। পানিতে তলিয়ে যাওয়া ফসল তুলতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। এদিকে, জমির কাটা ধান খোলা মাঠ ও সড়কে স্তুপ করে রাখায় রোদের অভাবে অনেক ধানে চারা গজিয়ে ও পচে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাজারে ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ। শনিবার সকাল থেকে অব্যাহত বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।


সূত্র জানায়, টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার ৪টি উপজেলার বেশ কয়েকটি হাওর প্লাবিত হয়েছে। এতে পানির নিচেই নষ্ট হচ্ছে ধান। বুক পানিতে নেমে স্বপ্নের ফসল ঘরে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা কৃষকদের। হঠাৎ করে পানি বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা তাদের পাকা ধান ঘরে তুলতে পারেননি। আকস্মিক এই বন্যার ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। এছাড়া যেসব ধান কাটা হয়েছিল অব্যাহত বৃৃষ্টির ফলে অধিকাংশই ধান নষ্ট হয়ে গেছে। তাদের অভিযোগ, হঠাৎ করে পানি বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা তাদের পাকা ধান ঘরে তুলতে পারেননি। সময়মত শুকাতে না পেরে ধানে চারা গজিয়েছে। বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৪শ থেকে ৫শ টাকায়। ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে দিশেহারা কৃষকরা। এদিকে, দূর্যোগ মোকাবিলা ও আকস্মিক বন্যা ঝুঁকি নিরসনে কন্ট্রোল রুম খুলেছে জেলা প্রশাসন। 

 
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে হাওর ও নন-হাওর মিলিয়ে ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছিল। এর মধ্যে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে হবিগঞ্জ সদর, বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ ও লাখাই উপজেলার বিভিন্ন হাওরে প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমির পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫ হাজার ৬২৩ হেক্টর এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫ হাজার ৯১৫ হেক্টর জমি। এতে সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছেন প্রায় ১৯ হাজার ৬৩০ জন কৃষক।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক দ্বিপক কুমার পাল বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের সহযোগিতার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তালিকা তৈরী করে সরাসরি কৃষকদের ধান ডিলারের কাছে বিক্রি করতে অগ্রাধিকার দেয়া হবে’। 


সিলেট প্রেস / এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক

সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০২৬-০৫-০৩ ১৪:৪০:৪৭