বিতর্কিত ও বহুল আলোচিত ঘুষ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত সেই ইউএনও সালমা পারভীনের দুর্নীতির তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে স্থানীয়দের অভিযোগের দাবী তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসন সরকারের কোন নিয়ম নীতি তক্কা না করে সরকারি সম্পদ লুটেপুটে খাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ চুরি বন্ধে প্রতিকার চেয়ে ইউএনও সালমা পারভীন সহকারি কমিশনার ভুমি শামস সাদাত মাহুমদ উল্লাহ, এস আই হেলাল ও এসআই আহমেদুল আরেফিনকে অবহিত করলে কিংবা অভিযোগ করলে উল্টো তারা অভিয্গোকরীদেও সাথে অসদাচরণ –মামলার ভয় –ভীীত দেখাতেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার ব্যানারে ওই মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধন শেষে সমাবেশে বক্তারা বলেন, কোনো টেন্ডার ছাড়াই অফিস পিয়নের মাধ্যমে সরকারি বরাদ্দের বিপরীতে কাজ করে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সালমা পারভীন।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, ইউএনও সালমা পারভীন ১৩ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পদে যোগদানের পর থেকেই তাহিরপুর উপজেলার হাট বাজার, নৌকাঘাট, সরকারি রাজস্ব আয়যোগ্য সব সেক্টরে অনিয়ম ও দুর্নীতির কালো হাত প্রসারিত করে গোটা উপজেলাকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছেন। তার বিরুদ্ধে জাদুকাটা, রক্তি, পাটলাই নদীর নৌপথজুড়ে টোল ট্যাক্সের নামে চাঁদাবাজি করানো, জাদুকাটা নদীতে শতাধিক ড্রেজারে অবৈধভাবে খনিজ বালি-পাথর উত্তোলন এমনকি নিজের নামেও বিভিন্ন ব্যবসায়ী, শ্রমিক দিয়ে একাধিক ড্রেজার চালিয়ে কোটি কোটি টাকার খনিজ বালি-পাথর লুটে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে নদীর তীরবর্তী মানুষজনের।
মানববন্ধন চলাকালে তুজাম্মিল হক নাসরুম বলেন, ইউএনও সালমা পারভীন উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরির দ্বিতল ভবনটিকে নিজস্ব ক্ষমতাবলে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষ রূপান্তরিত করেন। উপজেলা পরিষদের ব্যাচেলর কোয়ার্টার, গেজেটেড কোয়ার্টার, উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরে দুটি রাস্তাসহ অনেক কাজ নিজের ক্ষমতাবলে করেছেন। তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে ইউএনও সরকারি ফেসবুক আইডি থেকে উস্কানিমূলক পোস্ট দিয়ে সাংবাদিক ও তার পরিবারের পেছনে আওয়ামী লীগ নামধারী দুর্বৃত্তদের লেলিয়ে দিয়ে বাসায় পাঠিয়ে হামলা ও হত্যাচেষ্টা করিয়েছেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন- নুরুল আবেদীন, মাহবুব মল্লিক চৌধুরী, তানজিম হাসান সোহাগ, আহমেদ রাজু, সমাজ উন্নয়ন কর্মী রায়হান কবির, আশেক জামান, ছাত্র প্রতিনিধি আবু সাঈদ, সোহরাব প্রমুখ।
ইউএনও সালমা পারভীনকে ১০ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখার যুগ্ম সচিব ড. আশরাফুল আলম স্বাক্ষরিত আদেশে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বদলি করা হয়। এরপর সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরীর সহযোগিতায় বদলির পর সালমা পারভীন তাহিরপুরে রয়েছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সালমা পারভীনের সরকারি মোবাইল ফোনে বারবার কল করা হলেও কেউ রিসিভ করছিলেন না, অবশেষে কল রিসিভ করেন ভারপ্রাপ্ত ইউএনওর দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী (ভূমি) শামস সাদাত মাহুমদ উল্লাহ বলেন, ইউ এন ও ম্যাডাম কোথায় আছেন জানতে চাইলে তিনি রাগান্বিত হয়ে বলেন ম্যাডামের সাথে কি দরকার?তিনি ছুটিতে আছেন, বুধবার ছুটিতে গেছেন।
ম্যাডামের বিষয়ে একটি মানববন্ধন হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন মিডিয়ায় দেখেছি।
তিনি বক্তব্যটা রাগান্বিত অথবা পাস্কেট কাটিয়ে যাওয়ার মত মনে হলে আবারো জিজ্ঞাসা করা হয় সরকারি কমিশনার ভূমির অফিস টা কি উপজেলা থেকে দূরে কারণ মানববন্ধন তো উপজেলায় হয়েছে , তখন তিনি বলেন না আমি জেলায় (সুনামগঞ্জে) মিটিং গেছিলাম
আছেন তাহিরপুরের দায়িত্বে তবে বুধবার উনি ছুটিতে গেছেন। আমি ভারপ্রাপ্ত ইউএনওর দায়িত্বে রয়েছি।
সীমান্ত নদী মাহারাম শান্তিপুর থেকে অবৈধভাবে খনিজ বালি উক্তোলনের প্রতিবাদ:
সীমান্ত নদী মাহারাম শান্তিপুর থেকে অবৈধভাবে খনিজ বালি উক্তোলনের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের সীমান্ত নদী মাহারাম-শান্তিপুর নদীর মধ্যবর্তী শান্তিপুর বাজারে বুধবার সন্ধায় ওই মানববন্ধন ও সমবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তারা বলেন, কোন রকম ইজারা ছাড়াই ভ্যাট আয়কর সরকারি মূল্য পরিশোধ না করেই গত সাত মাস ধরে তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসনের ছত্র-ছায়ায় সীমান্ত নদী মাহারাম-মান্তিপুর থেকে দিবারাত্রী শত শত বাল্কহেড , ইঞ্জিন চালিত ট্রলার, পঞ্চবটি (ছোট ট্রলার) বোঝাই করে অবৈধভাবে লাখ লাখ ঘনফুট খনিজ বালি চুরি কওে নিয়ে যাচ্ছে বালি খেকো চক্রের সদস্যরা। এমন অপকান্ডে ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটে তাহিরপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার( ইউএনও) সহকারি কমিশনার (ভুমি), শামস সাদাত মাহুমদ উল্লাহ, সেকেন্ড অফিসার এসআই হেলাল , বিট অফিসার এসআই আহমেদুল আরেফিন গোপনে গোপনে নিজেরা লাভবান হতে এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সাথে আতাত করে দিবারাত্রী রাষ্ট্রীয় খনিজ বালি চুরি করিয়েছেন।
বক্তারা আরো অভিযোগ করেন, অবৈধভাবে বালি উক্তোলন ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ চুরি বন্ধে প্রতিকার চেয়ে ইউএনও, সহকারি কমিশনার ভুমি, এসআই হেলাল ও এসআই আহমেদুল আরেফিনকে অবহিত করলে কিংবা অভিযোগ করলে উল্টো তারা অভিয্গোকরীদেও সাথে অসদাচরণ –মামলার ভয় –ভীীত দেখাতেন। বক্তারা এ দুটি নদী থেকে রাষ্ট্রীয় সম্পদ খনিজ বালি চুরিতে জড়িতদের ও সহযোগিতা করায় ইউএনও, সহকারি কমিশনার ভুমি, এসআই হেলাল ও এসআই আহমেদুল আরেফিনের বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত দাবি করেন।
সিলেট নগরীর দরগাগেইট এলাকায় ছাত্রজনতার ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, এমপিসহ ৮৬ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে ওই সমাবেশ বক্তব্য রাখেন, হাজি নজরুল ইসলাম শাহ, এনামুল হক, মহিউদ্দিন আহমদ, ষফিকুল ইসলাম, আক্তার হোসেন, আবু তাহের, , এম ইসলাম উদ্দিন, রাখাব উদ্দিন, সৈয়দ তানভীর হোসেন, নদী তীরবর্তী গ্রামের ভোক্তভোগী কৃষক শামসুল হক, ফজু মিয়া, আবুলফজল ওরফে ফজুল, পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতা সারোয়ার হোসেন, আবু হানিফা প্রমুখ। মানব বন্ধন ও সমাবেশে কৃষক, ছাত্র জনতা সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার প্রায় সহ¯্রাধিক মানুষজন উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে বৃহস্পতিবার তাহিরপুর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই হেলাল ও বিট অফিসার এসআই আহমেদুল আরেফিনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তারা ফোন কল রিসিভ করেননি।
বৃৃহস্পতিবার সন্ধায় তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ভারপ্রাপ্ত হিসাবে দায়িত্বে রয়েছেন জানিয়ে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) শামস সাদাত মাহুমদ উল্লাহ বলেন ইইএনও ম্যাডাম ছুটিতে আছেন, এখন দায়িত্বে আছি আমি। তিনি আরো বলেন, অবৈধভাবে বালি উক্তোলন বন্ধে প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।
বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরীর কে তাহিরপুরের উপজেলা প্রশাসনের দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে ঘন্টা ব্যাপী চেষ্টা করেও খোলা পাওয়া যায়নি তার ব্যবহৃত dc 01713301178 বারের মুঠোফোন টি।
এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া




















